প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৫ ১০:৩৪ এএম
সবজির ভরা মৌসুম। শীতের সবজিতে বাজার সয়লাব। তবে দাম কমছে ধীরলয়ে। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে বাজারে সবজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে শিম ও বেগুনে। গত সপ্তাহে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে বাজারে ৮০ থেকে ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে এই দুই বনেদি সবজি। কেজিতে কমেছে প্রায় অর্ধেক দাম। গতকালের বাজারে বেশিরভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং বরবটি, টমেটো, কাঁচামরিচ ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দাম কমার বিষয়ে জানতে চাইলে বিক্রেতারা বলেন, শীত আসছে। মৌসুমি সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে, ফলে সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহে দাম আরও কমবে বলে তারা আশাবাদী। গতকাল রাজধানীর ভাটারা, জোয়ার সাহারা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, প্রায় ২০ টাকা কমে পটোল ৬০ থেকে ৭০, করলা ৮০ থেকে ১০০, ঝিঙে ৬০ থেকে ৭০ ও মুলা ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধুন্দলে ক্রেতার খরচ হচ্ছে ৬০ টাকা, গত সপ্তাহে যা ছিল ৭০ থেকে ৮০। কাঁচা পেঁপে ৩০ থেকে ৩৫, বরবটি ১০০ থেকে ১১০ এবং লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের মতো কাঁচামরিচের কেজি ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা। কাঁচকলা ৪০ টাকা থেকে কমে ৩০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে চায়না গাজর কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ভাটারার সবজি ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে সবজির দর বাড়লে সব জায়গায় বাড়ে। এখন বৃষ্টিপাত নেই। তা ছাড়া বাজারে শীতের সবজি নামছে তাই বাজারে সবজি বেশি আসছে, দামও কমতে শুরু করেছে।
দেশি মসুর ডাল আগের দাম ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় এবং আমদানি মসুর ৯৫ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজারে মুরগি, ডিম ও মাছের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন লক্ষ করা যায়নি।
গত মৌসুমে নতুন ধান ওঠার পরও টানা দুই মাস চালের বাজার ছিল চড়া। তবে আমদানি শুল্ক কমানো ও সরকারি উদ্যোগে আমদানির প্রভাবে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি সরু বা মিনিকেট ৭২ থেকে ৮০ এবং মাঝারি বা বিআর-২৮ ও পায়জাম জাতের চাল ৫৮ থেকে ৬৬ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। মোটা বা গুটি স্বর্ণা ও চায়না ইরির কেজি ৫২ থেকে ৫৫ টাকা। ভারতীয় মাঝারি মানের চাল ৫৬ থেকে ৫৮ ও মোটা জাতের কেজি ৫০ থেকে ৫২ টাকা।
বিসমিল্লাহ পোল্ট্রি অ্যান্ড সেলস সেন্টারের মালিক নিরভ বলেন, ব্রয়লারের গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমানে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা, সোনালি ২৮০, দেশি মুরগি ৫০০ থেকে ৫৫০, লেয়ার ৩২০ এবং টার্কি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মাছের বাজারে রুই বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতল ৩৮০ থেকে ৪৫০, চিতল ৬০০ থেকে ৭০০, আইড় ৭০০ থেকে ৮০০, সিলভার কার্প ২০০ থেকে ২২০, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৪০, নদীর পাঙাশ ১,০০০ থেকে ১,২০০, চিংড়ি ৪০০ থেকে ৮০০, দেশি শিং ৬০০ থেকে ৭৫০, চাষের শিং ৪০০ থেকে ৫০০, কৈ ২২০ থেকে ২৮০, ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৭০০ এবং তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঢাকা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, কোনো ব্যবসায়ী যদি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম দাবি করে, তাহলে ভোক্তারা সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ জানাতে পারেন। অভিযোগ পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।