প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ২০:৪৭ পিএম
দেশের পোশাক শিল্প আবারও বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। টেকসই উৎপাদনে নেতৃত্ব ধরে রেখে ২০২৫ সালে ৩৬টি কারখানা পেয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত পরিবেশবান্ধব সনদ। যা এক বছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অর্জন। এর আগে ২০২২ সালে ৩০টি কারখানা এ সনদ পেয়েছিল। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে গার্মেন্ট শিল্প।
বিজিএমইএর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ২২টি কারখানা পেয়েছে সর্বোচ্চ প্লাটিনাম সনদ, যা পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদনে বাংলাদেশের বৈশ্বিক নেতৃত্বকে আরও দৃঢ় করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) থেকে এ সনদ দেওয়া হয়। তবে সনদ পাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছু শর্ত পরিপালন করতে হয়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ শর্তের কিছু পরিবর্তনও হয়। পাশাপাশি সনদের আলাদা সংস্করণও থাকে। মোট ১১০ নম্বরের মধ্যে কোনো কারখানা ৮০-এর বেশি পেলে ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০-৭৯ পেলে ‘লিড গোল্ড’, ৫০-৫৯ নম্বর পেলে ‘লিড সিলভার’ ও ৪০-৪৯ নম্বর পেলে ‘লিড সার্টিফায়েড’ সনদ দেওয়া হয়।
বর্তমানে মোট ২৬৮টি লিড সার্টিফায়েড কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে ১১৪টি প্লাটিনাম ও ১৩৫টি গোল্ড সনদপ্রাপ্ত। অর্থাৎ বাংলাদেশের কারখানাগুলো সর্বোচ্চ মানের পরিবেশবান্ধব কারখানার শর্ত পূরণ করতে পারছে। বাকি ১৯টি কারখানার মধ্যে সিলভার সনদপ্রাপ্ত কারখানা ১৫টি ও সার্টিফায়েড সনদপ্রাপ্ত কারখানা ৪টি।
বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি উচ্চ রেটিং পাওয়া লিড সার্টিফায়েড কারখানার মধ্যে ৬৮টিই বাংলাদেশের। এই অর্জন বাংলাদেশের পোশাক খাতকে টেকসই উৎপাদনে বৈশ্বিক মানদণ্ডে নিয়ে গেছে।
তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, পোশাক খাতে সবুজ (গ্রিন) কারখানা তৈরির কারণে বিশ্বে বাংলাদেশের পোশাকের ব্র্যান্ড তৈরি হচ্ছে। যার মাধ্যমে লাভবান হচ্ছেন মালিক-শ্রমিক দুই পক্ষই। কারখানায় বৈচিত্র্য আর ভালো কর্মপরিবেশ থাকায় মালিকরা শ্রমিকদের কাছ থেকে বেশি উৎপাদন পাচ্ছেন। শ্রমিকরাও নিরাপদ পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করছেন। আবার বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সবুজ কারখানায় তৈরি পোশাকের কদর বেশি থাকে। তাদের (বায়ার) থেকে অর্ডার বেশি ও ভালো দামের সুযোগ তৈরি হয়।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘এই অর্জন বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। আমরা এখন বিশ্বের কাছে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।’
এদিকে শ্রমিকের ঝরানো ঘামে রপ্তানি দ্বিগুণের বেশি করতে সক্ষম হয়েছে দেশ। যেখানে বড় অবদান রয়েছে শ্রমিকদের। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের। কারণ, এ খাতের সিংহভাগ শ্রমিকই নারী। ২০১১ সালে যেখানে রপ্তানি ছিল ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। সেখানে ২০২৪ সালে তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি ৩৮ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও বেড়েছে প্রবৃদ্ধি। সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে। যেখানে রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৫০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। সে হিসেবে ইইউতে রপ্তানি হয়েছে ১৯ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক।