প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ২১:৩১ পিএম
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু তিন মন্ত্রণালয় এখনো পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের হিসাবে খাতাও খুলতে পারেনি। অর্থাৎ তারা এক পয়সারও ব্যয় দেখাতে পারেনি চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে। এই তিনটি মন্ত্রণালয় হলো-পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এবং সংসদ বিষয়ক সচিবালয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ১২ হাজার ১৫৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৫ দশমিক ০৯ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে বাস্তবায়ন ছিল ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রান্তিকভিত্তিতে সামান্য শূণ্য দশমিক ৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
তবে একই প্রতিবেদনে বলা হয়, বহু মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এখনো প্রকল্প ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৫টি প্রকল্পের জন্য চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রয়েছে ১২১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, কিন্তু সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে কোনো ব্যয় হয়নি। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ১৪টি প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪ হাজার ৮০৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, তবুও এক পয়সারও কাজ হয়নি। সংসদ সচিবালয়ের একটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ২০ লাখ টাকা, সেখানেও ব্যয় ‘শূন্য’।
তিন মন্ত্রণালয়ের মতোই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় কার্যত নামেমাত্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। আইএমইডির তথ্যানুসারে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শূণ্য দশমিক ৩৫ শতাংশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ শূণ্য দশমিক ৫৩ শতাংশ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় শূণ্য দশমিক ৬৫ শতাংশ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শূণ্য দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ শূণ্য দশমিক ৭৮ শতাংশ বরাদ্দ ব্যয় করেছে।
অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে সর্বোচ্চ হারে বাস্তবায়ন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, যার ব্যয় ৩৫ শতাংশ। এরপর রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন ১৯ শূণ্য দশমিক ০৭ শতাংশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৮ শূণ্য দশমিক ১৪ শতাংশ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ১৬ শূণ্য দশমিক ৪০ শতাংশ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ১৬ শূণ্য দশমিক ৩৭ শতাংশ।
আইএমইডি প্রতিবেদনের হিসাবে, শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৬ হাজার ৪৪৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা বরাদ্দের ২ দশমিক ৭০ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা, বৈদেশিক অর্থায়নে ২ হাজার ৫৭২ কোটি এবং নিজস্ব অর্থায়নে ৩১০ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের মোট এডিপি বরাদ্দ ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম তিন মাসে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১২ হাজার কোটি টাকার সামান্য বেশি। অর্থাৎ, বাকি ৯ মাসে ব্যয় করতে হবে ২ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বছর শুরুর প্রান্তিকে অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ের এই ধীরগতি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সামগ্রিক গতি শ্লথ করে দেয়। প্রকল্প অনুমোদনের জটিলতা, টেন্ডার ও ক্রয়সংক্রান্ত বিলম্ব, এবং আর্থিক অনুমোদনের প্রক্রিয়াগত দেরি এর মূল কারণ বলে তারা মনে করেন।