বাজারদর
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ১০:৫৫ এএম
আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ১০:৫৯ এএম
রাজধানীতে সবজির দাম কমছেই না। বিশেষ করে বেগুনের বাজার যেন ভোক্তাদের সামনে ‘গরম তেলেভাজা’। গত সপ্তাহে ১৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া বেগুনের কেজি এখন প্রায় ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। গোল ও লম্বা উভয় ধরনের বেগুনের দামই ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শুধু বেগুন নয়; পেঁয়াজ, মুরগি- এমনকি ডিমেও বাড়তি চাপ পড়েছে ক্রেতাদের পকেটে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর জোয়ার সাহারা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি সবজিতেই কোনো-না কোনোভাবে দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরলেও দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই।
জোয়ার সাহারা বাজারের সবজি বিক্রেতা রোবেল হোসেন বলেন, গত সপ্তাহে বেগুন ১৪০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন করছি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। দাম বাড়লেও ক্রেতা কমে নাই। আরেক বিক্রেতা সাকিব জানান, যারা পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে আনে, তারাই বেশি দামে বিক্রি করে। আমরা চেষ্টা করি একটু কম দামে বিক্রি করতে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পরিবহন ব্যয়, পাইকারি পর্যায়ের ঘাটতি, এবং মৌসুমি কারণেই সবজির দাম বেড়েছে। তবে পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মনিটরিং বাড়ালে এই অস্থিরতা কমানো সম্ভব।
বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, পেঁপে ৩০ টাকা, মুলা ৭০ থেকে ৮০, শসা ৬০, টমেটো ১২০ থেকে ১৪০, পটোল ৮০, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৩০-৪০, করলা ও কাঁকরোল ৮০, লাল আলু ৩৫, সাদা আলু ২০, ঝিঙা ৮০, বরবটি ৮০ থেকে ৯০, ঢেঁড়স ৮০ এবং কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
সরকারি চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত সাইদুল ইসলাম বলেন, আমি সামান্য সবজি কিনি, তাই তেমন প্রভাব পড়ে না। কিন্তু যারা পরিবারের বাজার করেন, তাদের জন্য এটা কষ্টকর। সবজির দাম ক্রমাগত বাড়ছেই, কমছে না।
রাফসান নামের এক ক্রেতা বলেন, বেগুন এখন যেন সোনার দামে বিক্রি হচ্ছে। ভাজির জন্য খেলেও এখন কিনি না। দাম কমলে আবার কিনব। সামনে শীত, আশা করি কমবে।
এদিকে পেঁয়াজের দামও বেড়ে এখন ৮০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭৫ টাকা। আদার দাম ১৪০ টাকা, চায়না রসুন ১৫০, দেশি রসুন ১৮০, আর ডিমের হালি ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে মাংস ও মাছের দামে কিছুটা ওঠানামা দেখা গেছে। মায়ের দোয়া গোস্ত বিতানের বিক্রেতা আলামীন বলেন, গরুর মাংস এখন ৮০০ টাকায় বিক্রি করছি। মাঝে মাঝে ৫০ টাকা কমবেশি হয়। মহিষের মাংস ৭২০ থেকে ৭৮০, খাসির ১১০০, আর বকরির মাংস ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজি।
মুরগির বাজারেও দামের ভাঁজ ওঠানামা করছে। বিসমিল্লাহ পোল্ট্রি অ্যান্ড সেলস সেন্টারের মালিক নিরভ বলেন, ব্রয়লারের দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমলেও মাঝে মাঝে ওঠানামা করে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা, সোনালি ২৮০, দেশি মুরগি ৫০০ থেকে ৫৫০, লেয়ার ৩২০ এবং টার্কি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মাছের বাজারে রুই বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতল ৩৮০ থেকে ৪৫০, চিতল ৬০০ থেকে ৭০০, আইড় ৭০০ থেকে ৮০০, সিলভার কার্প ২০০ থেকে ২২০, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৪০, নদীর পাঙাশ ১,০০০ থেকে ১,২০০, চিংড়ি ৪০০ থেকে ৮০০, দেশি শিং ৬০০ থেকে ৭৫০, চাষের শিং ৪০০ থেকে ৫০০, কৈ ২২০ থেকে ২৮০, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ এবং তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঢাকা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, কোনো ব্যবসায়ী যদি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাবি করে, তাহলে ভোক্তারা সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ জানাতে পারেন। অভিযোগ পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিই।