প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৫ ২১:৪৮ পিএম
দেশের সুনীল অর্থনীতিকে কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ, মেরি কালচার ও সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে এক উচ্চপর্যায়ের পরামর্শ সভা আয়োজন করেছে মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা)।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সুনীল অর্থনীতি খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারি সংস্থাগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
সভায় গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ, শতভাগ রপ্তানিমুখী সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, একুয়াকালচার ও সামুদ্রিক গবেষণা কার্যক্রমের জন্য একটি সমন্বিত রোডম্যাপ তৈরি নিয়ে আলোচনা হয়। মিডার নির্বাহী সদস্য কমডোর তানজিম ফারুক সভায় বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন এবং নির্বাহী সদস্য মো. সরোয়ার আলম সময়োপযোগী নীতিগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘কৌশলগত অবস্থানের কারণে মহেশখালীর অপার সম্ভাবনা এখন জাতীয় অগ্রাধিকারের অংশ। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পরামর্শের পর আমরা শিল্পায়ন, জ্বালানি ও গভীর সমুদ্রবন্দরের পাশাপাশি গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণকে উন্নয়নের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে যুক্ত করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মিডা গঠনের মূল লক্ষ্য হলো এসব খাতের উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয় আনা ও গতি বৃদ্ধি করা। তবে কার্যক্রমের মূল চালিকাশক্তি হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো। আজকের আলোচনায় আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছি প্রথম বিনিয়োগকারীকে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ সহায়তা প্রদান এবং ব্লু ইকোনমির নির্দিষ্ট উপ খাতগুলোতে বিনিয়োগবান্ধব ইকোসিস্টেম তৈরিতে।’
সভায় বিনিয়োগ ও বাস্তবায়ন কাঠামো দ্রুত গড়ে তোলার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্যÑ বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে লং-লাইনার ও সাপোর্ট ভেসেল অনুমোদন এবং গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ লাইসেন্স প্রদান। কক্সবাজারের এলাকায় গভীর সমুদ্র ট্রলার জেটি স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা। শতভাগ রপ্তানিমুখী সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য কাঁচামাল আমদানিতে বন্ডেড সুবিধা দেওয়া। স্ক্যালপ, ভ্যানামি, টুনা, স্যামনসহ সামুদ্রিক পণ্য আমদানি, প্রক্রিয়াজাত ও পুনঃরপ্তানির জন্য বিনিয়োগবান্ধব অনুমোদন ব্যবস্থা ও অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া চালু করা। স্থানীয় বাই-ক্যাচ প্রজাতি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির অনুমতি প্রদান। উপকূলীয় এলাকায় মেরি কালচার সম্প্রসারণের জন্য জমি বরাদ্দ। চিংড়ি ও সামুদ্রিক খাদ্যশিল্পের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ও স্বল্প বিদ্যুৎ শুল্ক সুবিধা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো সমন্বিত করে একটি বাস্তবায়ন রোডম্যাপ প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে মিডা, যা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে অগ্রসর হবে বলে জানানো হয়।