সাক্ষাৎকারে রাজু মহাজন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৫ ২১:২৪ পিএম
আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৫ ২১:৪৪ পিএম
রাজু মহাজন, ইএসকিউ, ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি, যুক্তরাষ্ট্র
রাজু মহাজন একজন উদ্যোক্তা, লেখক, পরামর্শক এবং বক্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ১০টিরও বেশি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান গড়তে অবদান রেখেছেন এবং চারটি বই লিখেছেন। উভয় দেশে বিনিয়োগের বিষয়ে সহযোগিতা করে তার প্রতিষ্ঠান রাজু ল। প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন কীভাবে তার প্রতিষ্ঠান বিদেশি বিনিয়োগ এবং অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে সহায়তা করে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম রনি
প্রশ্ন: পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়ে কী ধরনের সম্ভাবনা দেখছেন?
উত্তর : নতুন সময়ে অনেক সম্ভাবনা দেখছি। সরকার তো অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিডা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে তারা বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব। প্রবাসীরা যাতে দেশে বিনিয়োগ করতে পারে, এ নিয়ে বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে। বিডা সরকারি পর্যায়ে কাজ করছে, আমরা বেসরকারি পর্যায়ে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কাজ করার চেষ্টা করছি যে যার জায়গা থেকে। একই সঙ্গে যারা বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আছে, তারা যাতে আমেরিকায় বিনিয়োগ করতে পারেÑ সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি। কেননা আমি একজন অ্যাটর্নি মানে লইয়ার। ইমিগ্রেশন নিয়ে কাজ করি। ইউএসএর ইমিগ্রেশন নিয়ে কাজ করি। আমাদের হেড অফিস ওয়াশিংটন ডিসিতে। এর বাইরে নিউইয়র্ক আটলান্টা, লস অ্যাঞ্জেলেসে অফিস আছে। আমেরিকার বাইরের দুবাই এবং ঢাকায় রেজিস্টার্ড অফিস রয়েছে। যেখান থেকে সার্ভিস দিয়ে থাকি।
প্রশ্ন : যুক্তরাষ্ট্রে অনেক প্রবাসী আসেন।যার প্রভাব রেমিট্যান্সেও দেখায়।
উত্তর : যুক্তরাষ্ট্র থেকে যারা রেমিট্যান্স পাঠায়, তাদের বেশিরভাগই হচ্ছে লো ওয়ার্কার (কম বেতনের শ্রমিক)। তাদের কেউ ট্যাক্সি চালাচ্ছে, কফি শপে কাজ করছে অথবা কনস্ট্রাকশন ওয়ারকার। আমি উনাদের স্কিল ডেভেলপ করতে চাই। তখন রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়বে। ট্যাক্সি ড্রাইভার কত টাকা আয় করে। বিডার আশিক চৌধুরী চান বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এবং আমেরিকান ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে ব্যবসা করুক। একজন হোয়াইট আমেরিকান এখানে বিনিয়োগ করবে, এটা অনেক পরের বিষয়। আগে প্রবাসী বাঙালিদের নিয়ে আসতে চাই। প্রবাসীরা বিপিএল ক্রিকেটে বিনিয়োগ করুক। তাহলে এর মার্কেটা বড় হয়ে উঠবে। আমরা চাই দুই পক্ষই বিনিয়োগ করুক। মুভি ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবাসীরা যদি বিনিয়োগ করে, তাহলে এটি আরও বড় হবে।
প্রশ্ন : উভয়পক্ষ বিনিয়োগ করুক বিষয়টা আরেকটু বিস্তারিত জানতে চাই।
উত্তর : শুনতে অবাক লাগতে পারে মাত্র ১০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করা যায়, আমেরিকাতে অফিস করা যায়। অনুমতি পেতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। আমেরিকায় বিজনেস রেজিস্ট্রেশন করা লিটারালি ডাল-ভাত। আপনি যদি আমেরিকায় বিজনেস করতে চান ও আপনার জন্য সব খুলে দেবে। ধরুন, আমেরিকায় ৩০ বছর আগে একটা ব্র্যান্ড ছিল। এটা বন্ধ হয়ে গেছে। এর নাম এবিসি জিন্স। কেউ যদি বলে যে তোমাদের ব্যান্ড তো বন্ধ হয়ে গেছে, আমাদের কাছে বিক্রি করে দাও। ওরা খুশি মনে সেটা বিক্রি করে দেবে। এখন এই ব্র্যান্ডকে কিন্তু আবার নতুন করে খুব অল্প টাকায় শুরু করা যায়।
প্রশ্ন : বিনিয়োগকারীরা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করবে। কোন খাতে সম্ভাবনা বেশি?
উত্তর : যখনই কেউ তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের একটা ব্রাঞ্চ আমেরিকায় ওপেন করলেন, তখনই এটা মাল্টিন্যাশনাল করপোরেশন হয়ে গেল। এই মাল্টিন্যাশনাল করপোরেশনে দেশের লোক ট্রান্সফার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারবে, আবার ওখান থেকে এখানে আসতে পারবে। আমি যখনই কোনো বাংলাদেশিকে বলি আমেরিকায় ইনভেস্ট করেন। তারা মনে করেন, বিলিয়ন ডলারের ইনভেস্টমেন্ট। এখানে কয়েক হাজার ডলার দিয়ে কাজ করতে পারেন। যেমন ধরেন, এখানে গ্রীষ্মকালে একটা লোক হয়তো অনলাইনে আম বিক্রি করে। এই যে বিজনেসটার জন্য তো দেশে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। একইভাবে আমেরিকাতেও রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। আমেরিকার প্রবাসী ক্রেতাদের কাছে ওখান থেকেই আম পাঠাতে পারবে কুরিয়ার করে। ওই ইনকামটা আমেরিকার অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। অর্থাৎ একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কিন্তু মাল্টিন্যাশনাল হয়ে উঠতে পারেন। এতে যে প্রক্রিয়া আছে তাতে আমি সহযোগিতা করতে পারি।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা খাতে সবচেয়ে বেশি অনুমোদন আসে কৃষিতে। আমেরিকার মার্কেটে কম্পিউটার রিলেটেড যে ইন্ডাস্ট্রি আছে, ওটা পিকে চলে গেছে। এর চেয়ে বেশি হলে অনেক মানুষ চাকরি হারাবে। আমেরিকান সরকার চায় না তার জনগণ চাকরি হারাক। ফার্মাসিউটিক্যাল, অর্গানিক ফুড এবং ফুড সেফটি এটার একটা বড় মার্কেট তৈরি হয়েছে। এখানে প্রচুর বায়োলজি ব্যাকগ্রাউন্ডের লোক দরকার। এজন্য প্রচুর অ্যাগ্রিকালচার ব্যাকগ্রাউন্ড লোকজন আবেদন করতেছে এবং চলে যাচ্ছে।