× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এলডিসি থেকে উত্তরণে এডিবির সহায়তা পরিকল্পনা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫ ২২:০৩ পিএম

এলডিসি থেকে উত্তরণে এডিবির সহায়তা পরিকল্পনা

এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে বাংলাদেশের জন্য নতুন এক যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ২০২৬ সালে বাংলাদেশে প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প অর্থায়নের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এডিবি শুধু এই অর্থায়নই দিচ্ছে না, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ট্রানজিশন সহায়তা’ প্রদান করছে, যা বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে। এই সহায়তা অর্থনৈতিক কাঠামো সংস্কার, দক্ষ জনশক্তি গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ উদ্যোগ শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির একটি বহুমাত্রিক পরিকল্পনা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এডিবি তাদের বার্ষিক ‘কান্ট্রি প্রোগ্রামিং মিশন’ (সিপিএম) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০২৬ সালে অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অর্থায়ন নিশ্চিত করেছে। এই প্রকল্পগুলোর লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং জলবায়ু সহনশীলতা, অর্থনৈতিক কাঠামো সংস্কার, সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনশক্তি গঠনের মতো বিষয়গুলোর মাধ্যমে দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

এডিবির অগ্রাধিকার খাত

এডিবি বাংলাদেশের জন্য যে অর্থায়ন পরিকল্পনা করেছে, তার ভিত্তি পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতের ওপর নির্মিত। এগুলো হলো জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন, জ্বালানি দক্ষতা ও টেকসই শক্তি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি), সামাজিক সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক সংযোগ ও কাঠামোগত সংস্কার। এ খাতগুলো দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলডিসি উত্তরণের পথে একটি শক্তিশালী রূপায়ণ সম্ভাবনা তৈরি করবে।

জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। এ খাতে এডিবি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহায়তা ও নীতি পরামর্শের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচিকে শক্তিশালী করবে। জ্বালানি দক্ষতা ও টেকসই শক্তি খাতের মাধ্যমে জ্বালানি ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং নবায়নযোগ্য শক্তি উৎসের ব্যবহার বাড়বে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব উন্নয়নে বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে, যা অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। সামাজিক সুরক্ষা খাতের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা নিশ্চিত হবে। আঞ্চলিক সংযোগ ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা জোরদার হবে।

ট্রানজিশন সহায়তার গুরুত্ব

ইআরডি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এডিবি বাংলাদেশের জন্য যে ট্রানজিশন সহায়তা দেবে, তা এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়াকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করবে। এই সহায়তা অর্থনৈতিক কাঠামো সংস্কার, দক্ষ জনশক্তি গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ প্রসারিত করবে।

২০২৬ সালে এডিবি যে প্রকল্পগুলোর জন্য অর্থায়ন করবে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঢাকা-সিলেট ৪-লেন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩০০ মিলিয়ন ডলার, নারায়ণগঞ্জ সবুজ ও স্থিতিশীল নগর উন্নয়ন প্রকল্পে ১১৫.৮ মিলিয়ন ডলার এবং চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন ও সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে ২০০ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া, জরুরি প্রয়োজন বা অগ্রাধিকারের প্রকল্পের জন্য ‘স্ট্যান্ডবাই ফান্ড’ রাখা হবে, যা যেকোনো সময় ব্যবহারযোগ্য হবে।

সরকার এডিবির সঙ্গে ঋণদান ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরও কার্যকরী ব্যবস্থাপনা করতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া করিডোর নিয়ে একটি গবেষণা চালাচ্ছে। এই করিডোরের মাধ্যমে আঞ্চলিক সংযোগ ও বাণিজ্য প্রসারিত হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

এডিবি সরকারকে টাকা মূল্যের বন্ড চালুর প্রস্তাব দিয়েছে, যা ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি করবে। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মতামত নেওয়া হচ্ছে।

টিপিআরএম ও প্রকল্প বাস্তবায়ন

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি ত্রিপক্ষীয় পোর্টফোলিও পর্যালোচনা সভা (টিপিআরএম) এডিবি-অর্থায়নে চলমান ১৫টি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে। সেখানে জানানো হয়েছে, দরপত্র প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সুবিন্যস্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রকল্প পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধি ও সময়সীমা সংক্ষিপ্তকরণ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে।

এডিবির এই অর্থায়ন বাংলাদেশের জন্য একটি বহুমাত্রিক সুযোগ তৈরি করবে। এটি শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, স্বাস্থ্য খাতের ডিজিটালাইজেশন, আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণকে ত্বরান্বিত করবে। 

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এডিবির এই উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক শক্তি ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি দেশের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

বর্তমানে এডিবির ১১.৮ বিলিয়ন ডলারের ৫১টি চলমান প্রকল্প রয়েছে। ১৯৭৩ সাল থেকে এডিবি বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, স্থানীয় সরকার, পরিবহন, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, পানিসম্পদ ও সু-শাসনসহ বিভিন্ন খাতে মোট ৩৩.৯৫১ বিলিয়ন ডলার ঋণ এবং ৫৭১.২ মিলিয়ন ডলার অনুদান প্রদান করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিবি ২.৫২ বিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে এবং ২ বিলিয়ন ডলারের নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা