প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:২১ পিএম
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নগর জীবনের মানোন্নয়নে কাজ করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। তবে এর প্রভাব আরও সুদৃঢ় করতে হলে আন্তঃখাত সহযোগিতা জোরদার, কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সরকারগুলোর সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি বলে উল্লেখ করেছে একটি সাম্প্রতিক মূল্যায়ন।
এডিবির স্বাধীন মূল্যায়ন বিভাগ ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সংস্থাটির ‘লিভেবল সিটিজ’ কর্মপরিধি বিশ্লেষণ করেছে। এতে ব্যাংকটির সমন্বিত ও স্থানীয়ভাবে উপযোগী নগর সমাধান প্রদানের সক্ষমতা পর্যালোচনা করা হয়।
মূল্যায়নে বলা হয়, দ্রুত নগরায়ণ, অবকাঠামোগত ঘাটতি ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের কারণে এ অঞ্চলের শহরগুলো নানা সংকটে রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে নগর জীবনের মানোন্নয়ন এডিবির অন্যতম অগ্রাধিকার হলেও বাস্তবায়নে কিছু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।
স্বাধীন মূল্যায়ন বিভাগের মহাপরিচালক ইমানুয়েল জিমেনেজ জানান, বৃহত্তর প্রভাব নিশ্চিত করতে হলে এডিবিকে নগর ডায়াগনস্টিক আরও শক্তিশালী করতে হবে। এর মাধ্যমে সুশাসন, স্থায়িত্ব, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিস্থাপকতার ভিত্তিতে স্থানীয় পর্যায়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এডিবির ‘লিভেবল সিটিজ’ এজেন্ডা উন্নয়নশীল দেশগুলোর চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও প্রকল্প নকশা ও বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়ে গেছে। বিশেষত প্রকল্পের ফলাফল সূচকগুলোতে স্পষ্টতার অভাব থাকায় অগ্রগতি ও প্রভাব নিরীক্ষা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া সেগুলো দেশভিত্তিক অংশীদারত্ব কৌশল বা করপোরেট ফলাফল কাঠামোর সঙ্গে যথাযথভাবে সমন্বিত নয়।
মূল্যায়ন দলের প্রধান সুং শিন উল্লেখ করেন, এডিবির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এখনও বিকাশমান এবং সীমিত অভ্যন্তরীণ প্রণোদনা ব্যবস্থা সমন্বিত নগর সমাধান প্রদানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, অন্য কিছু বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততায় এগিয়ে গেলেও এডিবি এখনও সে ধারা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি।
শিনের মতে, কর্মীদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং স্থানীয় সরকারগুলোর সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করা গেলে এডিবির সহায়তা নগর জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। এতে জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাগুলোকে দৃশ্যমান ফলাফলে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রতিবেদনে আরও সুপারিশ করা হয়েছেÑ এডিবিকে নগর ডায়াগনস্টিক প্রক্রিয়া তীক্ষ্ণ করা, প্রকল্প নকশা ও দেশভিত্তিক কৌশলের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং প্রকল্পের ফলাফল পরিমাপের জন্য আরও কার্যকর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। পাশাপাশি আন্তঃখাত সহযোগিতা জোরদার করতে সাংগঠনিক কাঠামো উন্নত করা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এডিবির স্বাধীন মূল্যায়ন বিভাগ নিয়মিতভাবে পরিচালনা পর্ষদকে এ ধরনের রিপোর্ট প্রদান করে থাকে। এর মাধ্যমে সংস্থাটির কৌশল, কার্যক্রম ও ফলাফল সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ ধারণা তৈরি হয় এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরে উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।