× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সবজিতে অস্বস্তি, ক্ষোভ ইলিশ রপ্তানিতে

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৪১ এএম

সবজিতে অস্বস্তি, ক্ষোভ ইলিশ রপ্তানিতে

গত কয়েক সপ্তাহ সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি বিরাজ করছিল। তবে বর্তমানে আবার দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। গত সপ্তাহে শিমের কেজি ছিল ১৪০ টাকা, যা চলতি সপ্তাহে বেড়ে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। কচুর লতির কেজি ২০ টাকা বেড়েছে। সয়াবিন তেলের ১ লিটার বোতলের দাম ১৭৫ থেকে বেড়ে ১৮৮ টাকায় পৌঁছেছে। খোলা সয়াবিনের দাম ৩ টাকা কমেছে। অন্যদিকে ইলিশের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানি করা হয়েছে ভারতে। রপ্তানি মূল্য ধরা হয়েছে প্রতি কেজি ১ হাজার ৫২৬ টাকা। অথচ একই মাপের ইলিশ দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়।

এ অবস্থায় জনসাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের ভাষায়, দেশে ভোক্তারা যখন উচ্চমূল্যে ইলিশ কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন বিদেশে রপ্তানি না করে দেশের বাজারেই পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা উচিত।

এ সপ্তাহে সবজির দামে ওঠানামা বেশ স্পষ্ট। গত সপ্তাহে শিমের কেজি ছিল ১৪০ টাকা, যা এ সপ্তাহে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকা। একইভাবে কচু লতির দামও ৫০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭০-৮০ টাকা। অন্যদিকে বেশকিছু সবজির দাম কমেছে। মিষ্টি কুমড়া গত সপ্তাহে ৭০ টাকা হলেও এ সপ্তাহে ৩০-৬০ টাকা। পটোলও গত সপ্তাহের ৭০ টাকা থেকে নেমে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নতুন হিসেবে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে কচুর মুখি ৬০-৮০ টাকা ও পাতাকপি ৯০ টাকা। 

লাউ গত সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা, এ সপ্তাহে ৬০-৭৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে প্রতি পিস। কাঁচকলার দাম গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকা, এখন ৪০-৬০ টাকা। তবে টমেটো ১২০ টাকা, বরবটি ১০০, করলা ১০০, ধনিয়া পাতা ৩০০, ঢেঁড়স ৮০, কাঁচামরিচ ২০০, শসা (দেশি) ৮০, আলু ২৫, সাদা বেগুন ১০০ টাকা ও কালো বেগুন ১৪০ টাকা। এসবের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

কুড়াতলি বাজারে সবজি বিক্রেতা আল আমীন জানান, গত দুই সপ্তাহ শিম কেজিপ্রতি ১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা আবার বেড়ে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। 

বাজার করতে আসা আতিকুর রহমান বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে সবজির দাম এত বেশি ছিল যে, তাতে হাত দেওয়া যায়নি। তবে চলতি সপ্তাহে শিম ছাড়া অন্য সবজির দাম তুলনামূলক কম।

রুই মাছ গত সপ্তাহে আকারভেদে ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় উঠেছে। কাতল গত সপ্তাহে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা থাকলেও গতকালের বাজারে ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টেংরা মাছ গত সপ্তাহে ৪০০ থেকে ৫৬০ টাকা থাকলেও তা বেড়ে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা হয়েছে। শিং মাছ গত সপ্তাহে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা থাকলেও দেশি শিং ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং চাষের শিং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া গত সপ্তাহে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় ছিল, তা কিছুটা কমে ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সিলভার কার্পের দামও সামান্য হ্রাস পেয়েছে; গত সপ্তাহে ১৮০ থেকে ২৬০ টাকা থাকলেও ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া নতুন করে পাওয়া যাচ্ছে ইলিশ, বোয়াল, আইড়, চিতল, নদীর পাঙাশ, পাবদা ও চিংড়ি, যেগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। 

মাছ বিক্রেতা রমিজ উদ্দিন বলেন, এখন নদীতে মাছ কম, ইলিশ তো ধরাই পড়ে কম; তাই দামটা বেশি। কিছু মাছের দাম বাড়ছে, আবার কিছু মাছের দাম আগের মতো। 

ক্রেতা সোহাগ বলেন, সবজির দাম কিছুটা কমলেও মাছের বাজারে তেমন স্বস্তি নেই। বড় মাছ কিনতে গেলে অনেক খরচ পড়ে যাচ্ছে। সরকারের এসব বিষয়ে নজরদারি করা দরকার। আমরা দেশে মাছ খেতে পাই না অথচ বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

এদিকে মাংস বিক্রেতা ওয়াসিম তালুকদার বলেন, গরুর মাংস আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা করে। মহিষের মাংস ৭২০ থেকে ৭৮০ টাকা, বকরি ৯০০ থেকে ১০০০ এবং ছাগলের গোস্ত বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায়। আল্লাহর দাম পোল্ট্রি দোকানের মালিক শাহনাজ জানান, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, দেশি ৬০০ থেকে ৬৫০, টার্কি ২০০০-২৫০০, হাঁস ১৬০০-২০০০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ১ ডজন ডিম (লাল) বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকা, দেশি মুরগির ২০০-২২০, হাঁসের ২৪০-২৫০ টাকা।

টিসিবির বাজারদরের মতে, সয়াবিন তেলের বোতলের (১ লিটার) দাম ১৭৫ থেকে বেড়ে ১৮৮ টাকায় পৌঁছেছে, যা ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি। একইভাবে সুপার পাম অয়েলের লিটারপ্রতি ১৫৬ থেকে বেড়ে ১৬৩ টাকা হয়েছে। চালের মধ্যে মামারি চালের কেজি ৫৩ টাকা থেকে বেড়ে ৫৪ টাকায় উঠেছে। পেঁয়াজের দামেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে; আদার বাজারেও ঊর্ধ্বগতি, যেখানে আসামের আদা ৩২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫০ টাকা হয়েছে। তাছাড়া তেজপাতার কেজি ২০০ থেকে বেড়ে ২০৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা