মো. ইনজামামুল হক অয়ন
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৪৭ পিএম
বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ সব ধরনের পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে বেপরোয়া গতিতে। ক্রেতারদের নাজেহাল অবস্থা হিসাব মিলাতে গিয়ে। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য কারণে বাড়তি মূল্য গুনতে হয় জনসাধারণকে। এক প্রকার জিম্মি উত্তপ্ত বাজারে। সঠিকভাবে বাজার ব্যবস্থাপনার অভাব চোখে পড়ার মতো। প্রশাসনের নির্বিকারচিত্ত মনোভাব আরও প্রশ্রয় দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় সময় কিছু প্রশাসিক কর্মকর্তাকে দেখা যায় মোবাইল কোর্ট চালিয়ে ব্যবসায়ীদের জরিমানা করতে। তবে তা কতটুকু কার্যকর?
উৎপাদক থেকে কিছু হাতবদলের পর ক্রেতা পণ্য হাতে পায়। হাতবদলের প্রক্রিয়ায় ঢুকে পড়ে মধ্যস্বত্বভোগী। তারা অসাধু উপায়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে নেন কয়েকগুণ। ক্রেতাকে সে বাড়তি টাকা দিতে হলেও তা কখনও উৎপাদক পান না। আমরা হরহামেশা দেখি কৃষককে তার উৎপাদিত পণ্য রাস্তায় ফেলে প্রতিবাদ করতে। উৎপাদক আর ক্রেতার দূরত্ব কমিয়ে আনতে হবে। না হলে দিনশেষে পকেট ভারী হবে মধ্যেস্বত্বভোগীদের। পণ্যের মূল্যতালিকা লাগাতে ব্যবসায়ীদের একরাশ অনীহা। সুবিধামতো দামে বিক্রি করেন পণ্য। পণ্য মূল্যতালিকা ছাড়া দোকানকে চড়া জরিমানার আওতায় আনতে হবে।
অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্য মজুদ করে সৃষ্টি করে কৃত্রিম সংকট। মজুদ করা আড়তগুলোতে অভিযান চালানোর কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে নস্যাৎ করে দিতে হবে এই আড়তগুলো। দেশে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ বেশ কিছু অকার্যকর প্রতিষ্ঠান আছে। যেগুলোর কার্যকারিতা খুবই নগণ্য। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক কার্যকর কর্মপরিকল্পনায় আনতে হবে। তাদের প্রত্যেকের কাজের আওতা, ধরন, পদ্ধতি সবকিছু সচেষ্ট হয়ে কাজ করতে হবে একসঙ্গে। বিক্ষিপ্ত চেষ্টা কোনো কার্যকর সমাধান আনে না। বাজারের বিশৃঙ্খল অবস্থা এদেশের জনজীবনের ভয়ানক ছায়া ফেলে। পূরণ হয় না মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা। নির্ধারিত মূল্য সঠিক মান নিশ্চিত করে কেনাকাটা করা ক্রেতার একান্ত দায়িত্ব।