× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিশ্ববাজারে গমের দাম কমলেও দেশে বাড়ছে

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৯:৪৪ এএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে ধারাবাহিকভাবে কমছে গমের দাম। এপ্রিল মাসের শুরুতে যেখানে প্রতি টন গম বিক্রি হয়েছিল ২৪৩ ডলারে। সেখানে গত ১ সেপ্টেম্বর প্রতি টন বিক্রি হয়েছে ১৮৬ থেকে ১৯১ ডলারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ধারাবাহিকভাবে দাম কমলেও এ সময় উল্টো চিত্র দেখা গেছে দেশের বাজারে। আগস্ট মাসের শুরু থেকে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে বেড়েছে গমের দাম। জুলাইয়ের শেষ দিকে যেখানে প্রতি মণ

(৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়। দাম বেড়ে এই গম আগস্ট মাসের মাঝামাঝিতে খাতুনগঞ্জে প্রতি মণ বিক্রি হয় ১ হাজার ৪৭০ থেকে ৪৮০ টাকায়।

আগস্টে দাম বেড়ে আবার কিছুটা কমলেও এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে আটা, ময়দার দাম। আগে যেখানে খুচরায় প্রতি কেজি আটা বিক্রি হয়েছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। সেখানে এখন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়।

আমদানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি আগস্টে পাইকারিতে গমের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই এখন বাজারে আটা, ময়দার দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, পাইকারিতে গমের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি জুলাই থেকে ভোগ্যপণ্যে এআইটি এবং পণ্যের টার্নওভার ট্যাক্স বেড়ে যাওয়ায় বাজারে গমের দাম বেড়েছে। গমের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে এখন আটা, ময়দার দামে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংঘনিরোধ উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭৭লাখ ৯৭ হাজার ১৬৯ মেট্রিক টন গম আমদানির জন্য অনুমতিপত্র গ্রহণ করেন আমদানিকারকরা। এর মধ্যে গম আমদানি হয়েছে ৫৯ লাখ ৮২ হাজার ৭৯৭ মেট্রিক টন। যেখানে তার আগের অর্থবছর গম আমদানি হয়েছিল ৬৩ লাখ ৯০ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন। এই হিসাবে আগের অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছর গম আমদানি কমেছে ৪ লাখ ৮ হাজার মেট্রিক টন।

গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরও আমদানি কমছে। গত অর্থবছর যেখানে প্রতি মাসে গড়ে ৫ লাখ মেট্রিক টনের মতো গম আমদানি হয়েছিল, সেখানে চলতি অর্থবছরের এই দুই মাসে গম আমদানি হয়েছে মাত্র ৬ লাখ ৩২ হাজার ৪২২ মেট্রিক টন। এই হিসাবে মাসে গড়ে আমদানি হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬০৫ মেট্রিক টন করে। অথচ এই দুই মাসে আমদানির অনুমতিপত্র নেওয়া হয়েছিল ১৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯০০ মেট্রিক টনের। সেই হিসাবে আমদানির অনুমতিপত্র নেওয়া গমের ৬২ শতাংশের বেশি গম আমদানি করেননি ব্যবসায়ীরা। গম আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে জড়িতরা জানিয়েছেন, বড় বড় যেসব শিল্প গ্রুপ গম আমদানি করে সাম্প্রতিক সময়ে তারা গম আমদানি কম করছে। যে কারণে এখন গম আমদানি কমছে।

গত অর্থবছরের গম আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আগে যেসব প্রতিষ্ঠান গম আমদানি করত সেসব প্রতিষ্ঠান গম আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। খাতুনগঞ্জের বিএসএম গ্রুপ আগে প্রচুর পরিমাণ গম আমদানি করত কিন্তু গত অর্থবছর

তারা কোনো গম আমদানি করেনি। অন্যদিকে মেঘনা গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, টিকে গ্রুপ এসব প্রতিষ্ঠান গম আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান আমদানি কমালেও কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান আমদানি বাড়িয়েছে। এর মধ্যে নাবিল গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ আগের তুলনায় বেশি গম আমদানি করেছে।

ব্যবসায়ীরা কেন গম আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক সৈয়দ সাব্বির আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, 'গত এক বছর ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম নিম্নমুখী। ধারাবাহিকভাবে দাম কমতে থাকায় গম আমদানি করে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই লোকসান এড়াতেই হয়তো আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন।'

বিজনেস ইনসাইডারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম কিছুটা নিম্নমুখী। এই চার মাসে কখনও বেড়ে কমে ধারাবাহিকভাবে দাম কমেছে। এপ্রিল মাসের শুরুতে যেখানে প্রতি টন গম বিক্রি হয়েছিল ২৪৩ ডলারে। সেখানে আগস্ট মাসের শুরুতে প্রতি টন বিক্রি হয়েছে ১৯৩ ডলার থেকে ১৯৮ ডলারে। আর চলতি মাসের শুরুতে গত ১ সেপ্টেম্বর প্রতি টন বিক্রি হয়েছে ১৮৬ থেকে ১৯১ ডলারে। এদিকে গত এক বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম ধারাবাহিকভাবে কমলেও ভোগ্যপণ্যের অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে দেখা গেছে উল্টো চিত্র।

চলতি অর্থবছরের জুলাই মাস পর্যন্ত বাজারে গমের দাম স্থিতিশীল থাকলেও আগস্ট মাসের শুরু থেকে খাতুনগঞ্জে বাড়তে থাকে গমের দাম। জুলাই মাসের শেষ দিকে যেখানে খাতুনগঞ্জে ইউক্রেন থেকে আমদানি হওয়া প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) গম বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়। এই গমের দাম বেড়ে আগস্ট মাসের মাঝামাঝিতে খাতুনগঞ্জে প্রতি মণ বিক্রি হয় ১ হাজার ৪৭০ থেকে ৪৮০ টাকায়। একই সময়ে রাশিয়া এবং কানাডা থেকে আমদানি করা গমের দামও বেড়ে যায়এক মাসের ব্যবধানে বাজারে এসব গমের দাম মণপ্রতি ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা দাম বেড়ে যায়

তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন আগস্ট মাসের শুরুর দিকে দাম বেড়ে যাওয়ার পর গত এক দেড় সপ্তাহ ধরে খাতুনগঞ্জে এখন আবারও গমের দাম কমছে। দাম কমে ইউক্রেন থেকে আমদানি করা গম প্রতি মণ এখন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩৭৫ থেকে ৩৮০ টাকায়। রাশিয়া থেকে আমদানি করা গম প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪৩০ টাকা এবং কানাডা থেকে আমদানি করা গম প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪৭০ টাকায়।

খাতুনগঞ্জে গমের দাম কমলেও বাজারে এখন বাড়তে শুরু করেছে আটা, ময়াদার দাম। এক মাস আগে যেখানে প্রতি কেজি আটা বিক্রি হয়েছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। সেটি এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। অন্যদিকে এক মাস আগে প্রতি কেজি ময়দা যেখানে বিক্রি হয়েছিল ৬০ টাকায়, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৬৭ টাকায়।

নগরীর চকবাজার এলাকার মুদি দোকানদার আক্তার হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, 'আগস্ট মাসের মাঝামাঝি থেকে বাজারে আটা এবং ময়দার সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন কোম্পানিগুলো। এরপর থেকে আটা, ময়দার দাম কিছুটা বাড়তি। ১০-১২ দিন আগের তুলনায় এখন কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগেও খুচরায় আটা প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়, এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়।'

বাজারে গমের দাম নিম্নমুখী হওয়ার পরও কেন আটা-ময়দার দাম বাড়ছে জানতে সিটি গ্রুপের পরিচালক (করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স) বিশ্বজিৎ সাহার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল রিসিভকরেননি।

তবে গমের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, জুলাই থেকে প্রতিটি আলাদা আলাদা ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে নতুন করে ২ শতাংশ এআইটি আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া পণ্যের টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। তাই আগস্ট মাসে দেশের বাজারে গমের দাম বেড়েছে। গমের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই এখন বাজারে আটা এবং ময়দার দাম বাড়তি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা