× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পেঁয়াজের ঝাঁজে পুড়ছে বাজার

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৫ ১১:০৩ এএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

গত কয়েক সপ্তাহ কাঁচামরিচের দাম নিয়ে বাজারে অস্বস্তি চললেও এবার সেই অস্বস্তি ছড়াচ্ছে পেঁয়াজের বাজারে। রাজধানীর খিলক্ষেত কাঁচাবাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে পাইকারিতে ৭০ ও খুচরায় ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানিবন্দি পরিস্থিতির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সরবরাহ কমে বাজারে দাম বেড়ে যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলক্ষেত ও নিকুঞ্জ কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আজহার খান জানান, রাজবাড়ী থেকে ৬৫ টাকায় কেনা পেঁয়াজ যাতায়াত খরচসহ এখানে বিক্রি করছেন ৭০ টাকায়। নতুন পেঁয়াজ বাজারে না আসায় সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে চায়না, মিসর ও ইন্ডিয়ার পেঁয়াজ থাকার পরও বাজারে দাম ছিল ৭৫০ টাকা। এখন আলু বিক্রি করছি ১০০ টাকায়, যা আগে ছিল ৩৫০ টাকা। রসুন ২৪০ থেকে এখন ১৫০ টাকায় বিক্রি করছি। তার মতে, ভারতীয় পেঁয়াজ না এলে দাম আরও বাড়বে, তবে কমার সম্ভাবনা নেই।

দুই-তিন দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন গৃহিণী রাশেদা বেগম। তিনি বলেন, প্রতিবছরই তো দাম বাড়ে, তবে এবার তুলনায় কম বাড়ছে। আদা ২২০ থেকে ১৮০ টাকায় নেমেছে, তাও কিছুটা স্বস্তি।

কাঁচামরিচের দামেও হঠাৎ পরিবর্তন এসেছে। খুচরা বিক্রেতা মুর্শেদ জানান, গতকাল (বুধবার) কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করলেও আজ (বৃহস্পতিবার) সরবরাহ বাড়ায় দাম কমে গেছে। গত সপ্তাহে যে মরিচ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল, তা এখন ১৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

সবজির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, নরসিংদী থেকে আনতে পটোল পড়ে ৫২ টাকা, পাইকারি বিক্রি করি ৬০ টাকায়। পেঁপে উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কম, মাঝে মাঝে ১০ টাকাও বিক্রি হয়। তিনি বলেন, জুলাই থেকে সবজির দাম বাড়তে শুরু করেছে। কাঁকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রবি, সোম ও মঙ্গলবার দাম কিছুটা কম থাকলেও অন্য দিনগুলোতে দাম বেশি থাকে।

বেগুনের দামও লাফিয়ে বেড়েছে। পাল্লায় ৬০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ার পর বর্তমানে ৩৫০ টাকা দরে পাল্লা (৫ কেজি) এবং কেজিতে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বর্ষা ও বন্যার প্রভাবে এই বাড়তি দাম বলেই জানান বিক্রেতারা।

নিকুঞ্জ বাজারেও একই চিত্র। সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি। ব্যবসায়ী হারুন রশিদ জানান, আমরা কম দামে কিনলেও আনতে যাতায়াত খরচ অনেক। আমাদের সংসার তো এই ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল, তাই ১০-২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করি। 

মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দাম। কাঁচকি ও মলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়, বড় বাইম ১ হাজার, পাবদা ৩৫০, চিংড়ি ৯৫০, শিং ৩৫০, ট্যাংরা ৭৫০, বাইলা ৩০০, কোরাল ৮০০, ছোট ইলিশ ৭০০ থেকে ৭৫০ এবং ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ টাকা কেজিতে। রুই মাছের দাম আকারভেদে ২৪০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।

মাছ বিক্রেতা আবদুল হাকিম জানান, বড় মাছ কিনতে পড়ে ৩২০ টাকা, বিক্রি করি ৩৫০ টাকায়। ছোট মাছ ২০০ টাকায় কিনে বিক্রি করি ২৪০ টাকায়। সিলেট থেকে ৫০০ কেজি মাছ আনতে খরচ হয় ৩২০০ টাকা। মাছ মরে গেলে কম দামে বিক্রি করতে হয়। তিনি বলেন, লাভ বলতে গেলে যাতায়াত খরচ ও ক্ষতি পুষিয়ে টিকে থাকাই বড় কথা।

ইলিশ বিক্রেতা মানিক মিয়া বলেন, ইলিশ মাছ জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল। চট্টগ্রাম ও বরিশাল থেকে আসে। বৃষ্টি থাকলে মাছের সরবরাহ কম হয়, তখন দামও বেড়ে যায়।

গরু, খাসি ও মুরগির মাংসের দাম স্থিতিশীল। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়, খাসি ১০০০ থেকে ১০৫০ টাকায়। মুরগির বাজার কিছুটা স্থিতিশীল। খিলক্ষেত বাজারে মুরগি ব্যবসায়ী আবু হানিফ জানান, ব্রয়লার মুরগি ১৮০, সোনালি মুরগি ৩১০-৩২০, হাঁস ৬০০ টাকা পিস, কবুতর জোড়া ৩২০ টাকা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা