× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিদেশে শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে নিতে সিন্ডিকেটের লড়াই

সাইফ বাবলু

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৫ ১১:৪৭ এএম

বিদেশে শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে নিতে সিন্ডিকেটের লড়াই

মালয়েশিয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে বায়রার (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রটিং এজেন্সিজ) বিশেষ সিন্ডিকেট। পতিত স্বৈরাচার সরকারের সময়ে গড়ে ওঠা এ সিন্ডিকেটের সদস্যরা এবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলেও জড়িয়ে পড়েছেন। ফলে স্বল্প টাকায় মালয়েশিয়ায় শ্রমিক যাওয়ার যে আশা দেখা দিয়েছিল তা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে দুটি ব্যবসায়ী গ্রুপের মধ্যে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলছে। এক গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন ব্যবসায়ী নূর আলী। অন্য গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বায়রার সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপন। অভিযোগ রয়েছে, নূর আলীর ইশারায় মাঠে সিন্ডিকেটবিরোধী অবস্থান নিয়ে মূলত সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাচ্ছেন বায়রার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফকরুল ইসলাম। অন্যদিকে বায়রার সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপনের ইশরায় আরেকটি সিন্ডিকেট করার চেষ্টা করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছেন কাজী মফিজ। 

এদিকে মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার খুলতে কয়েক মাস ধরেই তৎপরতা চালাচ্ছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিতে গত মঙ্গলবার (১৩ মে) মালয়েশিয়া গেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। আজ বৃহস্পতিবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল এবং মানবসম্পদমন্ত্রী স্টিভেন সিম চি কেওংয়ের সঙ্গে শ্রমবাজার ইস্যুতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন তিনি। এরপর আগামী ২২ ও ২৩ মে ঢাকায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে নিরাপদ অভিবাসন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণসহ তৃতীয় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে কোনো সুখবর আসতে পারে। এই প্রেক্ষাপটেই মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর নামে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া ওই সিন্ডিকেটের দুই পক্ষের মধ্যে কোন্দল জোরালো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মুখে সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সব রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার দাবি তুললেও আড়ালে তারা সিন্ডিকেট বজায় রেখে তা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। 

একাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, দেড় দশক আগেও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত ছিল বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য। শুধু তাই নয়, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমানসহ অনেক দেশেই বাংলাদেশ থেকে স্বল্প টাকায় শ্রমিক যেতে পারতো। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর রিক্রুটিং ব্যবসায়ীদের সংগঠন বায়রার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় আওয়ামী লীগপন্থি ব্যবসায়ীদের দখলে। এরপর এ সংগঠনের গুটিকয়েক সদস্য আড়ালে থেকে শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েন। অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। যারা টিকে ছিলেন তারাও সিন্ডিকেটের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করতে বাধ্য হতেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের সদস্যদের মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দিয়ে শ্রমিক পাঠানোর অনুমতি নিতে হতো। 

ব্যবসায়ীরা জানান, মালয়েশিয়ার শ্রম বাজারে প্রথমে ১০ জনের একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে ব্যবসায়ী নূর আলীর মাধ্যমে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ার নাগরিক আমিনুল ইসলাম বিন আমিন নূর ওরফে দাতো আমিন এ সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে কাজ করেন। তার মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শ্রমিকদের নিবন্ধনের জন্য মালয়েশিয়ার সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে বায়রার একটি প্রতিনিধি দল মালয়েশিয়ায় গিয়ে দাতো আমিনের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে। এরপর তিনি নির্ধারণ করে দেনÑ ১০টি এজেন্সির বাইরে মালয়েশিয়ায় কোন শ্রমিক পাঠানো যাবে না। সেই থেকে শুরু হয় সিন্ডিকেটের আধিপত্য। পরবর্তীতে ১০ থেকে ২৫ এজেন্সি এবং সর্বশেষ ১০০ এজেন্সির সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। সিন্ডিকেটবাজির কারণে ২০০৮ সালে প্রথমবার এই বাজার বন্ধ হয়, যা আবার খুলে দেয় ২০১৬ সালে। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে আবারও বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া বন্ধ করে মালয়েশিয়া। পরে ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে তিন বছর পর শ্রমবাজার পুনরায় চালু হয়। ২০২২ সালের আগস্টে আবার কর্মী পাঠানো শুরু হলেও কয়েক মাস পর ফের নিষেধাজ্ঞা জারি করে মালয়েশিয়া। সম্প্রতি আবার শ্রমিক নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে সেই পুরোনো সিন্ডিকেট।

নূর আলী সিন্ডিকেটে রয়েছেন বায়রার সাবেক সভাপতি আবুল বাশার, ফকরুল ইসলাম, রিয়াজুল ইসলাম, নোমান চৌধুরী, খন্দকার আবু আশকা, আকবর হোসেন মঞ্জু, মোয়াজ্জেম হোসেন, মোস্তফা মাহমুদ প্রমুখ। অন্যদিকে রুহুল আমিন সিন্ডিকেটে রয়েছে সাবেক এমপি নিজাম হাজারী, সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক এমপি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ, কাজী মফিজসহ অনেকেই। দুই সিন্ডিকেটেই আওয়ামী লীগের অনুসারী ব্যবসায়ীরা এখনও বহাল রয়েছেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারে পতনের পর বিএনপি ও জামায়াত অনুসারী রিক্রটিং এজেন্সির ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে তৎপর হন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বায়রার কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রশাসক দিয়ে বায়রার কার্যক্রম চলছে। বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ীরা নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে থাকলেও জামায়াতপন্থি গুটি কয়েক ব্যবসায়ী নির্বাচনের বিরোধিতা করছেন। তাদের অনেকেই নূর আলীর সিন্ডিকেটের হয়ে আগে কাজ করতন। এখন নূর আলী সামনে না থাকলেও তাদের মাধ্যমে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন।

সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের সময়ে সিন্ডিকেটভুক্ত ১০০ এজেন্সির মধ্যে নূর আলী ও আবুল বাসার ৩৬টি এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ করতেন। অন্যদিকে রুহুল আমিন স্বপন সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতে ৬৮টি এজেন্সি। একটি ছিল গণতান্ত্রিক ঐক্য ফ্রন্ট আর অন্যটি ছিল শুধু ঐক্য ফ্রন্ট। দুই ফ্রন্টের নেতারা নির্ধারণ করে দিতেন মালয়েশিয়ার শ্রমিক পাঠানোর খরচ। কোন খাতে কত টাকা দিতে হবে তা তারাই নিয়ন্ত্রণ করতেন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সি নিয়ে নতুন একটি সিন্ডিকেট গঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে ১০০ এজেন্সির যে সিন্ডিকেট ছিল, তার মধ্যে বেশ কয়েকটি নতুন সিন্ডিকেটে যুক্ত হয়ে গেছে। 

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বরাবর সোচ্চার ও ২৪ হাজার কোটি টাকা লোপাটের বিরুদ্ধে মামলাকারী রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স আফিয়া ওভারসিসের (আর এল-১০১০) স্বত্বাধিকারী আলতাব খান বলেন, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমাকে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। সরকার বদলের পরও পরিস্থিতি খুব একটা বদলায়নি। রুহুল আমিন স্বপন, দাতো আমিন, মো. নুর আলী, ওয়ান ইলেভেনের হোতা জেনারেল (অব,) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও নিজাম হাজারীসহ আওয়ামী লীগের পলাতক বিভিন্ন নেতা যারা মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেনÑ তারা বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কিছু নেতাকে সম্পৃক্ত করে ফের সিন্ডিকেট করার অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। 

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন নামে আরেক জনশক্তি রপ্তারিকারক বলেন, আমরা চাচ্ছি যেকোনো শর্তে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়া হোক এবং আওয়ামী লীগের সময়ে যারা সিন্ডিকেট করে শ্রমবাজার ধ্বংস করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ৫ আগস্ট হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের অনুসারী রিক্রুটিং এজেন্সি ব্যবসায়ীদের ওই সিন্ডিকেটের ভেঙে দেওয়ার দাবি ওঠে। এক সংবাদ সম্মেলনে সিন্ডিকেট নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। মূলত সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারীদের একটি পক্ষই ওই সংবাদ সম্মেলনে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এরপর নূর আলী আড়ালে চলে যান। তবে তার নির্দেশে সক্রিয় হন বায়রার সাবেক নেতা ফকরুল ইসলাম। অন্যদিকে বায়রার সাবেক নেতা রুহুল আমিনের হয়ে মাঠে নামেন কাজী মফিজ। দুপক্ষ এখন মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী আখ্যা দিচ্ছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করে দিতে মানববন্ধন করেন ব্যবসায়ীরা। এ মানববন্ধনের আয়োজনেও ছিল সিন্ডিকেটের আধিপত্যের লড়াই। 

অভিযোগের বিষয়ে নূর আলীর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বায়রার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফকরুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমি নিজেই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। আমি চাই মালয়েশিয়ায় যাতে এক থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে শ্রমিক যেতে পারে। এ বিষয়ে আমরা যথাযথ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারের কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমি আওয়ামী লীগের আমলে কোনো সিন্ডিকেটে ছিলাম না। আমি কখনও আওয়ামী লীগ করিনি বা সুবিধাভোগী ছিলাম না। কাজী মফিজ ও রুহুল আমিন স্বপন আওয়ামী লীগের আমলে সুবিধাভোগী ছিলেন। তারা এখন ভোল পাল্টে নতুনভাবে সিন্ডিকেট করার চেষ্টা করছেন। 

যোগাযোগ করা হলে রুহুল আমিন স্বপন কোনো কথা বলতে রাজি হননি। বায়রার সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, দীর্ঘদিন পর মালয়েশিয়র শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। আমরা বর্তমান সরকারের সঙ্গে এসব নিয়ে কথা বলেছি। আমাদের একটাই কথাÑ যেকোনো শর্তে বাংলাদেশিরা যেন মালয়েশিয়ায় যেতে পারে। এখন একটি গ্রুপ ভিন্ন এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছে। তাদের উদ্দেশ্য বৈদেশিক শ্রমবাজার ধ্বংস করা। তিনি আরও বলেন, আমার সঙ্গে সিন্ডিকেটের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছে ভাবমূর্তি নষ্ট করতে আমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছে একটি গ্রুপ। যারা আওয়ামী লীগের সময়ে সিন্ডিকেটের সদস্য ছিল, তারাই এখন আমাদের বাজার নষ্ট করার এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছে। 

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার মহাসচিব মুক্তিযোদ্ধা আলী হায়দার চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমরা চাই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার খুলুক। এ ব্যাপারে আমাদের কোনো সহযোগিতা লাগলে অবশ্যই করব। শুনেছি বায়রার সাবেক নেতা ফকরুল ইসলাম ও নোমান চৌধুরীসহ কয়েকজন মিলে মন্ত্রণালয়ে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। তাতে কী লেখা আছে জানি না। আমরা চাই সব এজেন্সিই যাতে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে পারে। 

সিন্ডিকেট করে মালয়েশিয়ার শ্রমিকদের জন্য যেভাবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়

রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যবসায়ীরা জানান, মালয়েশিয়ায় একজন শ্রমিক যেতে সর্বোচ্চ খরচ ১ লাখ টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু সিন্ডিকেট হওয়ার কারণে ৫ লাখ টাকা, কখনও কখনও ৭ লাখ টাকাও দিতে হতো। এর মধ্যে সিন্ডিকেটের সদস্যদের ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিতে হতো প্রসিসিং ফি। মূলত প্রসেসিং ফি সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা হওয়ার কথা ছিল। সেখানে ৫ হাজার টাকার পরিবর্তে দিতে হতে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ভিসা ফি বাবদ দিতে হতো ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। যেখানে ভিসা ফি হওয়ার কথা সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা। এ টাকা নিতে মালয়েশিয়ার দাতো আমিন নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট। অন্যদিকে দেশীয় সিন্ডিকেটের সদস্যরা মেডিকেল খরচ, বিএমইটির অনুমোদন ফিসহ নানা খবর মিলিয়ে বাকি টাকা নিত। এভাবে আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে কমপেক্ষ ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় শুধু মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ করে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা