ঈদ বাজার- মোহাম্মদপুর
হাসনাত শাহীন, ঢাকা
প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৫ ২২:৪৭ পিএম
মোহাম্মদপুরের ঈদ বাজার। প্রবা ফটো
মাঝে মাঝে সূর্যের মুখ দেখা গেলেও সকাল থেকেই মেঘাচ্ছন্ন প্রকৃতি। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিও হয়েছে কয়েকবার, যা চৈত্রের উষ্ণ-গুমোট গরম কাটিয়ে প্রকৃতিতে নিয়ে আসে শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশ। এমন পরিবেশে দুপুর গড়িয়ে বিকালের পথে পা দেওয়া সময়ে মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটির টোকিও স্কয়ার মার্কেটে গিয়ে দেখে মেলা অন্য রকম এক পরিবেশের। এক দোকান থেকে অন্য দোকানে শত-সহস্র মানুষ; কেউ মার্কেটে প্রবেশ করছে তো কেউ মার্কেট থেকে বের হয়ে আসছে। যারা বের হয়ে আসছে তাদের প্রায় সবার হাতেই বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ।
এর মধ্যে দিয়েই টোকিও স্কয়ার মার্কেটে প্রবেশ করেই দেখা গেল প্রায় সবাই ব্যস্ত কেনাকাটায়। এখানে আছে বিভিন্ন স্টেশনারি-কসমেটিক্সের দোকান। কিছু আছে শিশুদের বিভিন্ন জিনিসপত্রের দোকান। এ দেখতে দেখতে চোখে পড়লো উপরে ওঠার চলন্ত সিঁড়ি। এ সিঁড়ি দিয়ে দ্বিতীয় তলায় উঠেই চোখ গেল- ওমেনস ওয়ার্ল্ড নামের পোশাকের দোকানে; সেখানে বেশ ভিড়। কেউ ত্রি-পিস, কেউ কাপড়, কেউ অন্যান্য পোশাক দেখছেন। এর ঠিক পাশেই বাকল নামের মেয়েদের পোশাকের দোকান; সেখানেও ভিড়। তারপাশে বিক্রমপুর ফেব্রিক্স, নন্দন ফ্যাশন, শৈলী ফেব্রিক্স জালাল ক্লথ স্টোর, জিকরা ফ্যাশন, তিন কন্যা কালেকশন, আর এন ফেব্রিক্স, ডিজাইন, লিবাস, ভোগী, রঙ বাংলাদেশ, চলতি হাওয়া, ফ্যাশন ফেব্রিক্স, লেনেক্স ক্লাব, স্টাইল ওয়ার্ল্ড, রেনু’স, আসমা ফ্যাশন, শাড়ী ও ত্রিপিস এবং লেহেঙ্গার দোকান আল নূর, শিপন শাড়ী, কিশাল শাড়ী, আহমেদ ফেব্রিক্স, নূরানী ফেব্রিক্স, রূপসাগর, চন্দ্র বিন্দু’সহ বিভিন্ন পোশাক-আশাকের দোকান। প্রায় সব দোকানেই ক্রেতাদের যথেষ্ট উপস্থিতি।
এরপর একে একে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় উঠেই দেখা মিললো বিভিন্ন ধরনের পোশাক-পরিচ্ছেদের দোকানের পাশাপাশি জুতা-সেন্ডেলে এবং বেশকিছু জুয়েলারি দোকানের। জুয়েলারি দোকান বাদে মার্কেটের প্রায় সব দোকানেই ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
মার্কেট ঘুরতে ঘুরতে চোখ পড়ে ‘জানশাইন লাইফস্টাইল’ নামের একটি পোশাকের দোকানে। দোকানটিতে ভিড় নেই। এই ফাঁকে কথা বলি দোকানটির এক বিক্রয়কর্মীর সঙ্গে।
মার্কেটের প্রায় সব দোকানেই ভিড়, আপনাদের দোকানে ভিড় নেই! জানতে পারি কি- বিক্রি কেমন হচ্ছে? বিক্রয়কর্মী একটু হেসে ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’কে জানান, হ্যা- দেখছি; মার্কেটে ভালো বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু আমাদের এখানে একটু কম বিক্রি হচ্ছে। আমার মনে হয়- মাঝখানে কিছু দিন আমাদের দোকানটি বন্ধ ছিল এবং মার্কেটের এই দিকটা একটু চিপায় পড়েছে। লোক তেমন আসছে না। তবে আশা করি সামনের দিনগুলোতে আমাদের এদিকেও ভালো বিক্রি হবে।
তার সঙ্গে কথা বলা শেষ করেই তৃতীয় তলায় যাই। এখানের পোশাকের দোকানগুলোর অন্যতম কিছু দোকান হলো: জেন্স স্টাইল, প্লাস পয়েন্ট, আর্টফোর্ট, স্টাইল ম্যান, ডোর, পোলো বিডি, রামিসা ফ্যাশন, লুক ফ্যাশন প্রভৃতি। সেখানে কথা হয় ‘স্বদেশী পল্লী’ নামের একটি ফ্যাশন হাউজের ম্যানেজারের সঙ্গে।
তিনি জানান, তাদের দোকানে শিশু থেকে শুরু করে প্রায় সব বয়সী মানুষের সবধরনের পোশাক আছে। রোজার প্রথম থেকেই মোটামুটি বিক্রি হচ্ছে। ঈদ এগিয়ে আসছে; বিক্রিও বাড়ছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনা কম। কিন্তু পোশাকের দাম প্রায় গত বছরের মতোই আছে।
এদিকে, একই অবস্থা দেখা গেল টোকিও স্কয়ার মার্কেটের ঠিক বিপরীত পাশে- আর্ট, ইয়োলো, জেন্টল পার্ক, মাইক্লো, টেক্স মার্টের মতো নামিদামি ব্র্যান্ডের পোশাকের শো-রুম ও বিক্রয় কেন্দ্র। তারপর একটু অদূরে সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে আছে- মেয়েদের পোশাকের জন্য স্বনামধন্য ফ্যাশন হাউজ ‘স্টাইলিশ অ্যাটায়ার’, কান্ট্রিবয়, স্পেস, এমব্রেলা, জেন্টল পার্ক, গ্রামীণ চেক, রাইজ, রেডিয়েন্ট, ফ্রিল্যান্ড, ইনফিনিটি, ম্যাজেস্টিক এবং কে-ক্র্যাফ্টসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজের বিক্রয় কেন্দ্র। এসব ব্র্যান্ডের বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতেও দেখা গেল বেশ ভিড়। ভালো বিক্রি হচ্ছে জানিয়েছেন এসব দোকানের বিক্রয়কর্মীরা।
এর মধ্যে স্টাইলিশ অ্যাটায়ায়েরর অন্যতম কর্ণধার বাণী শবনম প্রতিদিনের বাংলাদেশ’কে বলেন, এবারের ঈদ কালেকশানে আমাদের এখানে পাওয়া যাচ্ছে নারীদের জন্য হাল ফ্যাশনের ভারত ও পাকিস্তানি পোশাক। আমদানিকৃত এসব পোশাকের কোয়ালিটি ভালো হওয়ার কারণে ক্রেতাদেরর পছন্দের শীর্ষে। এর মধ্যে পাকিস্তানি লাক্সারি লন, কটন, অরগাঞ্জা, শিফনের থ্রি পিস-গাউনসহ বিভিন্ন ধরনের কোওর্ড সেট।
তিনি আরও জানান, ক্রেতাসমাগমে পোশাকের শোরুমগুলো এখন মুখর হয়ে উঠলেও প্রতি বছর রোজার ঈদের বেচাকেনা যেমন দুমাস আগ থেকে জমে উঠতো, এ বছর তা হচ্ছে রোজা শুরুর বেশ পরে।
তার সঙ্গে কথা বলা শেষ করে শ্যামলী ঘুরে মোহাম্মদপুরের অন্য তাজমহল রোডের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দোকান গুলোতেও দেখা গেছে পর্যাপ্ত ক্রেতার উপস্থিতি। বিশেষ করে তাজমহল রোডের শ্রী নিকেতন, সায়মা, সাবিহা, স্পাইডার ফ্যাশন, মীম বুটিকস্, ইরা ফ্যাশন,টপ মার্ট, লামিয়া, আইকন প্রভৃতি ব্র্যান্ড ও বুটিক্সের দোকানগুলোতে।
এ ছাড়া মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের সাত মসজিদ সুপার মার্কেট ও আল্লাহ্ করিম মার্কেটের পোশাকের দোকানগুলোও ছিল ক্রেতাদের যথেষ্ট ভিড়। ভিড় দেখা গেছে- কৃষি মার্কেট লাগোয়া পোশাকের দোকানগুলোতেও।
কিন্তু এসব মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমাদের এখানে দাম আগের মতো থাকলেও অন্যান্য বারের মতো বিক্রি ভালো হচ্ছে না। আগামীকাল শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিন থেকে হয়তো বেচাকেনা জমে উঠবে। আর যদি রোজার শেষ পর্যন্ত তা চলতে থাকে, তাহলে হয়তো ঈদটা ভালো মতো কাটবে।