প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৫ ২১:২৫ পিএম
আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৫ ২১:৩০ পিএম
প্রান্তিক পর্যায়ে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতে বিনিয়োগে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে এক নতুন নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংস্থাটি এই খাতে উল্লেখযোগ্য নীতিগত পরিবর্তন এনে নির্দেশনাটি জারি করে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী পাঁচ বছরের জন্য সিএমএসএমই খাতে ২৭ শতাংশ ঋণ বরাদ্দ বাধ্যতামূলক করেছে।
সোমবার (১৭ মার্চ) মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ব্যক্তিপর্যায়ে প্রান্তিক অপ্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তারাও ঋণ পাবেন। এ ছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের ঋণের আওতা বাড়াতে নীতিগত পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন নীতিমালার অংশ হিসেবে, সিএমএসএমই স্কিমের আওতায় এফ-কমার্স এবং ই-কমার্সের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য যোগ্য হবেন। সংশোধিত মাস্টার সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ঋণের যোগ্য হবেন। এ ছাড়াও নতুন নীতিমালায় নারী উদ্যোক্তাদের সংজ্ঞা আপডেট করা হয়েছে। কোনো কোম্পানি এখন থেকে নারী পরিচালিত ব্যবসা হিসেবে বিবেচিত হবেÑ যদি কোনো মহিলার কমপক্ষে ২০ শতাংশ মালিকানা থাকে এবং এর ৫১ শতাংশ কর্মচারী নারী হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ২০২৯ সালের মধ্যে মোট ঋণের ২৭ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে নীতিমালায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। যদিও বর্তমানে ২৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ খাতে বিতরণ হয়েছে মোট ঋণের ১৯ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানায়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে ২২ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা মাত্র সাত শতাংশ ঋণ পাচ্ছেন। এখন থেকে জামানত ছাড়াই ২৫ লাখ টাকারও বেশি ঋণ পাবেন নারী উদ্যোক্তারা।
নতুন নীতিমালায় আরও বলা হয়, সিএমএসএমই মোট ঋণ ও অগ্রিম স্থিতির অর্জনযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা পুনর্নির্ধারণপূর্বক ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানির মোট ঋণ ও অগ্রিম স্থিতির মধ্যে সিএমএসএমই মোট ঋণ ও অগ্রিম স্থিতির পরিমাণ ২০২৫ সালে ২৫ শতাংশ অর্জন এবং প্রতিবছর অন্তত দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধিসহ আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে ন্যূনতম ২৭ শতাংশ অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্লাস্টার অর্থায়নে মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে লক্ষ্যমাত্রা ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নারী উদ্যোক্তা খাতে অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা ১৫ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সেবা খাতের ঋণ স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা পূর্বের ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ এবং ব্যবসা খাতে সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে।
শারীরিক প্রতিবন্ধীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে নতুন নীতিমালায়। সেখানে বলা হয়েছে, শারীরিক প্রতিবন্ধী/ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন/ তৃতীয় লিঙ্গ/ সুবিধাবঞ্চিত উদ্যোক্তাদের প্রাধান্য দিয়ে তাদের ঋণ আবেদনপত্র পূরণে সহায়তা প্রদান, সহায়ক জামানতবিহীন ঋণ প্রদান, দ্রুততার সঙ্গে ঋণ মঞ্জুরসহ সব ধরনের আর্থিক সেবা প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঋণ আবেদন প্রাপ্তির বিষয়ে এসএমএ বা ই-মেইলের মাধ্যমে জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঋণ প্রদানের বিষয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে (তবে ক্ষেত্রবিশেষে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে) সিদ্ধান্ত জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রত্যাখ্যাত ঋণ আবেদনের তথ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মেয়াদি ঋণের মেয়াদ ৫ বছরের স্থলে সর্বোচ্চ ৭ বছর করা হয়েছে। ৫ বছর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের ঋণের ক্ষেত্রে প্রকল্পভেদে (যেমন : কারখানা ভবন নির্মাণ) ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ৬ থেকে ১২ মাস গ্রেস পিরিয়ড প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।