× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাজেট সহায়তায়ও সংকট কাটছে না বৈদেশিক ঋণে

আরমান হেকিম

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ ২২:০৪ পিএম

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ ২২:১৫ পিএম

বাজেট সহায়তায়ও সংকট কাটছে না বৈদেশিক ঋণে

ডলার সংকটের ধাক্কায় টালমাটাল দেশের অর্থনীতি। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ১.১ বিলিয়ন (১১০ কোটি) ডলারের বাজেট সহায়তা পাওয়ার পরেও কাটছে না সংকট। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ২২৯ কোটি ৮৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৭ দশমিক ১১ শতাংশ কম। এ ছাড়া ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৬ হাজার ৪৩৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা। সরকারের বৈদেশিক ঋণের দেখভালের দায়িত্বে থাকা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

অর্থনীতিবিদ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিগত সরকারের আমলে নেওয়া মেগা ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের অনেক বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে যেগুলোর গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ায় ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগীরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে দোদুল্যমান পরিস্থিতিতে রয়েছে। তারা দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেÑ এজন্য ঋণ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না। 

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ২২৯ কোটি ৮৬ লাখ ৭০ হাজার ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পেয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৬৯৮ কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার। অর্থাৎ প্রতিশ্রুতি কমেছে ৪৬৯ কোটি ১২ লাখ ২০ হাজার ডলার বা ৬৭ দশমিক ১১ শতাংশ।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বর মাসে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়নের ব্যাংকের (এডিবি) কাছ ১১০ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা পাওয়া গেছে। 

বাজেট সহায়তার ঋণচুক্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থছাড় হয়ে যায়। এরপরও চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসের অর্থছাড়Ñ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম। 

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, এ সময় উন্নয়ন সহযোগীরা ছাড় করেছে ৩৫৩ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪০৬ কোটি ৩৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার। অর্থাৎ ঋণ ছাড় কমেছে ৫৩ কোটি ১৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার। 

এদিকে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড় কমলেও আগের নেওয়া ঋণের কারণে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। অর্থবছরের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ বিভিন্ন ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের পরিশোধ করেছে ১৯৮ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার বা ২৩ হাজার ৬৭৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে বাংলাদেশ পরিশোধ করেছিল ১৭ হাজার ২৪০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে পরিশোধ বেড়েছে ৪ হাজার ৬৯১ কোটি ২২ লাখ টাকা। 

ঋণ পরিশোধ বাড়ার ব্যাখ্যা দিয়ে ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, বিগত সরকারের সময়ে নেওয়া অনেক বড় প্রকল্পের ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়ায় আসল পরিশোধ শুরু হয়েছে। আবার বাজার-ভিত্তিক ঋণের সুদহারের কারণে সুদ পরিশোধও বেড়েছে।

অন্যদিকে সরকারি অর্থায়নের প্রকল্পের মতো বিদেশি ঋণের প্রকল্প বাস্তবায়নেও গতি কমেছে নতুন সরকারের সময়ে। যেমনÑ মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো বেশকিছু বৈদেশিক অর্থায়নের প্রকল্পেরও ঠিকাদার চলে গেছে। এই প্রকল্পের মতো অনেক প্রকল্পেই নতুন পরিচালক নিয়োগ দিতে হয়েছে। অনেক প্রকল্পে বৈদেশিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানও চলে গেছে। আবার বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন স্থবির হওয়ার ফলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমেছে। এসব কারণে বাস্তবায়ন কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে উন্নয়ন প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থছাড় কমেছে।

ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পরে বৈদেশিক অর্থায়নের প্রকল্পের ক্ষেত্রে সতর্কভাবে এগোচ্ছে। পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করছে। একইসঙ্গে প্রকল্পের গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে ঋণ প্রক্রিয়াকরণের কাজ করছে। এ কারণে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নতুন প্রকল্পে চুক্তি হচ্ছে ধীরগতিতে। 

প্রকল্প প্রস্তুত ও কাজের অগ্রগতি না হওয়ার কারণে ঋণের প্রতিশ্রুতি এবং অর্থছাড় কমেছে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রকল্পের আওতায় অর্থছাড় হয়ে থাকে কাজের অগ্রগতির ওপর। যতটুকু কাজ হয়েছে সেটির ওপরই উন্নয়ন সহযোগীরা অর্থছাড় করে থাকে। যেহেতু ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের কারণে দুই মাস কাজ হয়নি, পরবর্তী সময়ে প্রকল্প যাচাই-বাছাই করতে সময় ব্যয় হয়েছে এবং নতুন প্রকল্প অনুমোদনের গতি খুব কম তাই স্বাভাবিকভাবেই ঋণের অর্থছাড় ও প্রতিশ্রুতি কম হয়েছে। কাজের অগ্রগতি বাড়লে অর্থছাড় বাড়বে। নতুন প্রকল্প নিলে সেটাতে ঋণের প্রতিশ্রুতিও পাওয়া যাবে। এখন যে পরিস্থিতি চলছে এটি সাময়িক।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা