× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চামড়াশিল্প

২০৩০ সালে কর্মসংস্থান ৩৫ লাখে উন্নীত সম্ভব

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ ১৬:৪০ পিএম

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ ১৬:৫৩ পিএম

'বাংলাদেশের চামড়াশিল্পে পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমিক ও স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক সংলাপ' শীর্ষক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিতরা। প্রবা ফটো

'বাংলাদেশের চামড়াশিল্পে পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমিক ও স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক সংলাপ' শীর্ষক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিতরা। প্রবা ফটো

বাংলাদেশের চামড়াশিল্প একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানিখাত হওয়ার সুযোগ থাকলেও বিশ্ববাজারে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। বর্তমানে এ শিল্পে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। আগামী ২০৩০ সালে তা ৩০-৩৫ লাখে উন্নীত করা সম্ভব। বর্তমানে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে বিশ্ববাজারের প্রায় ৩ শতাংশ বাংলাদেশের দখলে আছে।

'বাংলাদেশের চামড়াশিল্পে পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমিক ও স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক সংলাপ' শীর্ষক অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে এসব কথা বলা হয়।

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার সাভারে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বিল্ডিং এ সাসটেইনেবল লেদার ইন বাংলাদেশ।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্য ও প্রশিক্ষণ বিভাগের সিনিয়র পরিচালক ডা. এ কে এম রেজাউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সবুজ ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো অর্ডিনেটর মো. কবির হোসেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন নদী ও পরিবেশ উন্নয়নের সাধারণ সম্পাদক পরিবেশবিদ মুহাম্মদ শামসুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শওকত আলী, সাভার সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল জহিরুল ইসলাম, বিলসের পরিচালক নাজমা ইসলাম, ট্যানারি মালিক মো. খোরশেদ আলম প্রমুখ।

চামড়া খাতের সম্ভাবনা সম্পর্কে মো. কবির হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের শিল্পখাতের উন্নয়নে চামড়াশিল্পের অবদান ২ শতাংশ। রপ্তানি আয়ের ৩ দশমিক ৮ শতাংশ আসে এ শিল্প থেকে। অন্যদিকে জিডিপিতে এ শিল্পের অবদান দশমিক ৬০ শতাংশ। বিশ্বে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজারের প্রায় ৩ শতাংশ বাংলাদেশের দখলে।’

চামড়াশিল্পের মূল সমস্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পরিবেশসম্মত উপায়ে চামড়া প্রক্রিয়া না হওয়া, কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) কার্যকর না হওয়া, কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকা ও শ্রম আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া।’

মুহাম্মদ শামসুল হক বলেন, ‘ঢাকা শহর ও বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ট্যানারিশিল্পকে হাজারিবাগ থেকে হেমায়েতপুরে স্থানান্তর করা হয়। এখানে আগে কোনো ধরনের স্টাডি হয়নি। এজন্য হেমায়েতপুরের মানুষকে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। আমরা পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা সেখানে প্রতিবাদ করতে গেলে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার মালিকদের জোর করে এখানে পাঠিয়েছে। বিসিকের ওপর দায়- দায়িত্ব দেওয়া হলো। অথচ বিসিক নিজেই দুর্বল প্রতিষ্ঠান। ট্যানারি করতে সরকার নিজেই নদীর জমি দখল করেছে। ট্যানারির ২০ শতাংশ জমিই নদী থেকে দখল করা।’

শামসুল হক বলেন, ‘সাভারের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা হওয়ায় সব নদীর পানিই প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। এখানে এক সময় পানি আমদানি করে চলতে হবে। তা ছাড়া ট্যানারিকে পরিবেশসম্মত করতে সিইটিপিতে শতভাগ সচল করতে হবে।’

ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক টি এম লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘ট্যানারিতে কর্মরত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও যাতায়াত সুবিধার জন্য গত ৭ বছর যাবত আন্দোলন করা হলেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। ২০১৭ সালে হেমায়েতপুর আসার সময় ৩ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা চাওয়া হলেও এখনও তা দেওয়া হয়নি। শ্রমিকেরা ভোরে বাসা থেকে বের হয়, আবার মধ্যরাতে ঘরে ফিরে। আমরা খুবই সমস্যায় পড়েছি।’

তিনি বলেন, ‘এখানে শ্রমিকদের জন্য কোনো বাসস্থান ও হাসপাতাল নেই। আমাদের শ্রম অধিকার নেই। আমরা দিশেহারা।’

ট্যানারি শ্রমিক ইউনিয়নের আরেক সদস্য আকরাম হোসেন বলেন, ‘কোনো ট্যানারিতে কোমপ্লায়েন্স পূরণ করা হচ্ছে না। মালিকরা কোন ধরনের আইন মানছেন না। সরকারও মালিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে না।‘

জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি সম্মিলিত একশন প্লান তৈরি করতে হবে। এর মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে।’

ডা. শওকত আলী বলেন, ‘মালিকরা বেশি লাভ করার জন্য ঘুষ দিয়েও কাজ করতে চায়। আমরাও জাতি হিসেবে কিছুটা অসৎ।’

সরকার শ্রম সংস্কার কমিশন গঠন করেছে উল্লেখ করে বিলসের পরিচালক নাজমা ইসলাম বলেন, ‘কমিশনে সকল সেক্টরের শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে কাজ করা হচ্ছে। এসডিজির ১৩ নম্বর গোল স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, ট্যানারিশিল্প- সেটির সঠিক প্রমাণ দরকার। শিল্পটির উন্নয়ন হলে এ খাতের ১০ লাখ শ্রমিকের উন্নয়ন হবে।’

ডা.  এ কে এম রেজাউল হক বলেন, ‘শিল্প-কারখানার কারণে সাভারের পানিস্তর ২০-৩০ ফিট নিচে চলে গেছে। দেশের পানি সম্পদের মধ্যে গাজীপুর ও সাভারের পানি আর্সেনিকমুক্ত। সবচেয়ে ভালো পানি। বর্তমানে কলকারখানার কারণে পানির গুনাগুণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগামীতে পানির রং কালো হয়ে যাবে। আগামী ১৮-২০ বছরের মধ্যে পানিতে ক্রোমিয়াম কমে যাবে। এখানকার নদী ও পানির উৎসগুলোতে সঠিক ব্যবস্থাপনা না নিলে এ অঞ্চলে ব্যাপক আকারে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়বে।’

ট্যানারিখাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সিইটিপি করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে পানির অবস্থা মধ্যমানে রয়েছে। এ পানি রক্ষা করতে হলে প্রচুর ইটিপি করতে হবে। তা ছাড়া ট্যানারি অঞ্চলে ১৪০টির মতো কারখানার জন্য ৩টি সিইটিপি করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের  অর্থায়নে এসব করে দেওয়া দরকার। আমাদের ২ জন ডাক্তার এসে ট্যানারি শ্রমিকদের চিকিৎসা দেয়। অথচ এখানে হাসপাতাল করা দরকার। বর্তমানে শ্রমিকদের যেসব রোগবালাই হচ্ছে এ ব্যাপারে আগামী ২০২৬ সালে ডিজিজ প্যাটার্নের তথ্য দেওয়া সম্ভব হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো কাজ এককভাবে করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সরকারসহ সকল পক্ষকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা