× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

উৎপাদনে স্থবিরতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় উদ্যোক্তারা

আরমান হেকিম

প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০:৪৫ এএম

গ্রাফিক্স : প্রবা

গ্রাফিক্স : প্রবা

দেশের শিল্প খাত ও শ্রমবাজার বর্তমানে এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে। উৎপাদন কার্যক্রমে স্থবিরতা ও কর্মসংস্থানের অভাব জনজীবনকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, কাঁচামালের ঘাটতি এবং শ্রমিকদের দুশ্চিন্তা দেশের অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। ব্যবসায়ীরা যখন কাঁচামালের অভাবে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, তখন একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে বেকারত্ব বাড়ছে। এই সংকট কেবল শিল্প খাতের জন্যই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সুস্থতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে দেশের ব্যবসা পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেই উদ্যোক্তারা বিনিয়োগের সাহস পাচ্ছেন না। ব‍্যাংক ঋণের সুদহার ১৫-১৬ শতাংশে উঠেছে। কারখানায় গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না, ডলার সংকট, এলসি জটিলতা রয়েছে। কথায় কথায় আন্দোলনে নামছে শ্রমিকরা, তাদের উস্কে দেওয়া হচ্ছে। কারখানায় ভাঙচুর করা হচ্ছে, আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এখন নতুন বিনিয়োগ তো দূরের কথা, টিকে থাকাই কঠিন হয়ে গেছে।’ 

এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী করণীয় কীÑ জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি এখনও দুর্বল, সবল হওয়ার পথে যায়নি। আগস্ট মাসের মতো জটিল না থাকলেও আগের মতো হয়নি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বিঘ্নে চলতে পারছেÑ এমন অবস্থাও তৈরি হয়নি। ব্যবসা-বাণিজ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা চলছে। আগামী এক থেকে দেড় বছরে রাজনীতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে চিন্তায় আছেন ব্যবসায়ীরা। এজন্য ব‍্যবসায়ীদের আস্থা ফেরাতে হবে। তবেই বিনিয়োগ বাড়বে।’

গ‍্যাস-বিদ‍্যুৎ সংকটে উৎপাদন কমেছে

সম্প্রতি রাজধানীতে ‘শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট সমাধানের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। সেমিনারে বলা হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে পোশাক খাতে ৩০-৩৫ শতাংশ উৎপাদন কমেছে। স্টিল কারখানায় উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে ২৫-৩০ শতাংশ। সিরামিক কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে। ডিজেল ব্যবহার ও শ্রমিকদের বাড়তি কাজের জন্য খরচ বেড়ে গেছে। পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন ক্ষুদ্র শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের ডিজেল জেনারেটর চালানো সম্ভব নয়। ফলে প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষুদ্র শিল্প বন্ধের পথে। 

ওই অনুষ্ঠানে দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতি বছর ২২-২৪ লাখ লোক চাকরির বাজারে আসছে। এর বাইরে যান্ত্রিকতার কারণে কৃষি থেকেও চাকরিচ্যুত হয়ে অনেকে চাকরির বাজারে আসে। তাদের কর্মসংস্থান করতে হয় শিল্প খাতে।’ 

তিনি বলেন, ‘শিল্পের মূল উপাদান হলো তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ। কিন্তু এগুলোয় যদি সমস্যা হয়, তাহলে এ দেশে কোনো বিনিয়োগ হবে না, উৎপাদনও হবে না। আর উৎপাদন যদি কম হয়, তাহলে মূল্যস্ফীতি এমনিতেই বাড়বে। সরকার শুধু পর্যবেক্ষণ নীতির মাধ্যমেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এভাবে কখনও পূর্ণাঙ্গ সমাধান আসতে পারে না।’

এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি কমেছে 

আমদানির ক্ষেত্রে এলসি খোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পোশাক শিল্পে ফেব্রিক ও অন্যান্য কাঁচামাল সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এলসি বা ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তির পরিমাণ চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কমেছে (জুলাই-সেপ্টেম্বর)। এ সময়ে আমদানি করা হয়েছে শুধু শিল্পের কাঁচামাল। ফলে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মোট আমদানির এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ। একইভাবে এলসি নিষ্পত্তির পরিমাণ কমেছে ২.৫০ শতাংশের মতো।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা ভালো যাচ্ছে না। খরচ বেড়ে গেছে। এর মধ্যে ব্যাংক ঋণে সুদের হার বারবার বাড়ছে। উচ্চ সুদ বহন করার মতো অবস্থা কারও নেই। কিস্তি পরিশোধ কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ঋণখেলাপি অনেক বেড়ে যেতে পারে। শুধু সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়। এর সঙ্গে আরও অনেক সূচক জড়িত।’

শ্রমিক অসন্তোষ, কারখানা বন্ধ 

বর্তমানে দেশের শিল্প খাতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ আসে পোশাক খাত থেকে। আগস্টের পর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ খাত। একাধিক গার্মেন্ট কারখানা তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে বা বন্ধ হয়ে গেছে এবং এতে হাজার হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন।

গার্মেন্ট শিল্পের বাইরে কাঁচামাল সরবরাহের সংকট এবং উচ্চ আমদানি ব্যয় অন্যান্য শিল্পকেও স্থবির করে দিয়েছে। বিশেষ করে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, টেক্সটাইল ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বড় ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এর পাশাপাশি বন্যা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ায় ক্ষতি বেড়েছে। শিল্প-কারখানা মালিকদের সংগঠনগুলো জানিয়েছে যে, শুধু গার্মেন্ট খাতেই ৫০টিরও বেশি কারখানা সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। 

গাজীপুরের বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে ২৩টি গার্মেন্টস এবং টেক্সটাইল ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী কর্মহীন অবস্থায় আছে এবং তাদের অক্টোবর মাসের বেতন এখনও বকেয়া রয়েছে। এর পাশাপাশি, অনেক কোম্পানি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে, যা ব্যাংকিং খাতেও চাপ সৃষ্টি করছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা দ্রুত পুনঃতফসিল বা ঋণ মওকুফের দাবি জানাচ্ছেন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত না করা হলে এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।

এ বিষয়ে ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, ‘দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা গেলে শিল্প খাতের বর্তমান দুরবস্থা হতো না।’ 

ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা এবং ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের উচিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত বসা এবং তাদের আস্থায় নেওয়া।’

ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোতে প্রশাসক বসানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দ্রুত নির্বাচন দিয়ে যোগ্য নেতৃত্ব আনা প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ছোট ব্যবসায়ীদের নেওয়া পাঁচ কোটি টাকা বা তার নিচের ঋণ পুনঃতফসিল করা উচিত।’

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘চলমান সংকটময় পরিস্থিতিতে আগামী ছয় মাস ব্যবসায়ীদের ঋণের কিস্তি স্থগিত করা দরকার। তা না হলে অনেকেই দেউলিয়া হয়ে পড়বে এবং খেলাপি ঋণ বেড়ে যাবে।’

অস্থিরতার প্রভাব রাজস্ব আদায়ে 

উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যবসায়িক স্থবিরতার কারণে বাংলাদেশের রাজস্ব আয়ে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে।

এর মধ্যে আয়কর খাতে ১৩ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি। চার মাসে আদায় হয়েছে ৩২ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা, যেখানে লক্ষ্য ছিল ৪৫ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) খাতে ১১ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি। আদায় হয়েছে ৩৬ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা, লক্ষ্য ছিল ৪৭ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা।

আমদানি শুল্ক খাতে ৭ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি। আদায় হয়েছে ৩২ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা, যেখানে লক্ষ্য ছিল ৩৯ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক আমানতে আবগারি শুল্ক কমেছে, কারণ উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যাংকে গচ্ছিত টাকার পরিমাণ কমে গেছে।

রাজস্ব আদায় কমার কারণ হিসেবে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় মানুষও কেনাকাটা করতে পারছে না। যার ফলে রাজস্ব আহরণও লক্ষ্য অনুযায়ী হচ্ছে না। আমাদের রাজস্ব আদায়ের মূল জায়গা পরোক্ষ কর। ব্যবসা-বাণিজ্য ঠিকভাবে না চললে এবং মানুষ কেনাকাটা না করলে সেটা আদায় হবে না। আদায় হলেও তা ঠিকমতো জমা পড়ে না।’

চোখ রাঙাচ্ছে উচ্চ মূল‍্যস্ফীতি

মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে বারবার সুদের হার বাড়ানো হলেও সুফল মিলছে না। বিপরীতে ব‍্যবসায়ে মন্দা তৈরি করতে সহায়তা করেছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদন বলছে, নভেম্বরে সাধারণ মূল‍্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশে। আগের মাসে এই হার ছিল ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। খাদ‍্যপণ‍্যের মূল‍্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশে। অক্টোবরে এই হার ছিল ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়ে নভেম্বরে হয়েছে ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা অক্টোবরে ছিল ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএফ) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, ‘শুধু সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। বাজার নিয়ন্ত্রণে জোর দিতে হবে। যারা বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পণ্য উৎপাদনে জোর দিতে হবে। তবেই মূল‍্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

সাক্ষাৎকারে ঢাকা চেম্বার সভাপতি 

ব্যবসায়ীরা বেশ চাপের মধ্যে আছে

দীর্ঘ সময় একটি সরকারের ধারাবাহিক শাসনের পর আকস্মিক পরিবর্তন এসেছে দেশের রাজনীতিতে। বর্তমানে দেশে চলছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসন। জাতীয় নির্বাচন ও স্থায়ী রাজনৈতিক সরকার কবে আসবে তারও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সরকারের বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমের মধ্যে ব্যবসায়ীরা কেমন আছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তা জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি আশরাফ আহমেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রেদওয়ানুল হক

প্রশ্ন : একজন ব্যবসায়ী হিসেবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী? 

উত্তর : দেশের অর্থনীতি একটি ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে একদিকে আমাদের ব্যবসায়ীদের উৎপাদন প্রক্রিয়া যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটের কারণেও আমরা অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। অন্যদিকে মুদ্রানীতির কঠোরতার ফলে ঋণের প্রবাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি সুদের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে দেশের অর্থনীতি আমরা ব্যবসায়ীরা বেশ চাপের মধ্যে আছি।

প্রশ্ন : ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ কোনটি?

উত্তর : গত তিন মাসে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। ক্রমাগত বিভিন্ন ধরনের বিক্ষোভ এবং সহিংসতার কারণে একদিকে যেমন সরাসরি ক্ষতি হচ্ছে, পাশাপাশি উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়াও কষ্টকর ছিল। এর বাইরে বিভিন্ন ধরনের অপ্রাসঙ্গিক মামলার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। যদিও আগস্টের পর থেকে ধীরে ধীরে এই অবস্থার তাৎপর্যপূর্ণ উন্নয়ন হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হয়ে আসবে আশা করছি। 

প্রশ্ন : অন্তর্বর্তী সরকারের কোন সিদ্ধান্ত ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে অথবা সরকারের প্রতি আপনাদের পরামর্শ কী?

উত্তর : আমরা সরকারকে অনুরোধ করব দ্রুত দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে। এর বাইরে জ্বালানি সংকট যাতে না হয় সেটা নিশ্চিত করতে। আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসতে। 

প্রশ্ন : সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা কী ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করছে?

উত্তর : সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন আমাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে, অন্যদিকে চলতি ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধি না পাওয়ায় পণ্য সরবরাহের ক্ষমতাও কমে গেছে। এ ছাড়া ঋণের শ্রেণিকরণের নীতিমালা নতুন করে পরিবর্তন করার ফলে ব্যবসায়ীরা নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবেন বলে আমরা মনে করি।

প্রশ্ন : ব্যবসায় নিরাপত্তা ঝুঁকি অনুভব করেন কি না?

উত্তর : নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান তবে আগস্টের তুলনায় বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অতি দ্রুত উন্নতি না হলে তা বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য মোটেও সহায়ক হবে না।  

প্রশ্ন : শ্রমিক আন্দোলন যাতে না হয় সেজন্য আপনাদের প্রস্তুতি কী, এক্ষেত্রে সরকার আপনাদের কীভাবে সহায়তা করতে পারে?

উত্তর : আমরা শান্তিপূর্ণ শ্রমিক আন্দোলনের বিরোধী নই। শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষার্থে সব সময় আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে বলে আমরা মনে করি। এই আলোচনার উদ্দেশ্য ও ফলাফল যদি বাস্তবসম্মত না হয় তাহলে এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। পাশাপাশি সরকারের প্রতি আহ্বান থাকবে শিল্প খাতে কোনো প্রকারের সংঘাত-ভাঙচুর যেন বরদাশত করা না হয়, তা নিশ্চিত করা। কারণ সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হলে আলোচনার পরিবেশ বজায় থাকে না, এবং তাতে সব পক্ষের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা