× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের দুঃখ বোঝে না কেউ

রেদওয়ানুল হক

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৪ ১০:৩৮ এএম

গ্রাফিক্স : প্রবা

গ্রাফিক্স : প্রবা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের পরও কাঙ্ক্ষিত ঋণ পাচ্ছেন না ছোট উদ্যোক্তারা। অথচ ব্যাংকে আমানতের বেশিরভাগই রাখেন এসব আমানতকারী। তবে সেই টাকা নামে বেনামে কিংবা প্রভাব খাটিয়ে নিয়ে নেন বড় ব্যবসায়ীরা। এর ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলো মুখ থুবড়ে পড়ছে। নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকে, আর কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন বহু মানুষ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে যে আমানত রয়েছে তার ৫৪ শতাংশই রেখেছেন ক্ষুদ্র আমানতকারীরা। কিন্তু এ শ্রেণির গ্রাহকরা ঋণ নিয়েছেন মাত্র ২২ শতাংশ। অপর দিকে ৭৮ শতাংশ ঋণ নিয়েছেন বড় ব্যবসায়ীরা। অথচ তারা জমা রেখেছেন মোট আমানতের ৪৬ শতাংশ। 

বিশ্লেষকদের মতে, বৃহৎ ঋণের চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্র গ্রাহকরা। আর মোটা অঙ্কের ঋণখেলাপি হয়ে পড়ায় ঝুঁকিতে পড়ছে গ্রাহকের আমানত। যদিও দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন ছোট উদ্যোক্তারাই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংক খাতের আমানতকারীর সংখ্যা ১৫ কোটি ৮৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫২৩ জন। তাদের হিসাবে জমাকৃত টাকার পরিমাণ ১৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩ কোটি টাকা। একই সময়ে ১৫ লাখ ৯৭ হাজার ১০১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো, যেখানে ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৬ লাখ ৫৭ হাজার ৩৯৬ জন। অর্থাৎ ১২ জনের জমাকৃত টাকা ভোগ করছেন মাত্র একজন। তথ্য বলছে, ব্যাংকঋণের বেশিরভাগই ভোগ করছেন কোটিপতি গ্রাহকরা। বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের হাজারো উদ্যোক্তা।

তথ্য বলছে, প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক, মুটে, মজুর, দোকানদারের খুব বেশি ঋণের প্রয়োজন হয় না। তারা কখনও ৫০ হাজার; ১ লাখ বা ব্যবসাভেদে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেন ব্যাংক থেকে। আর নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণের প্রয়োজন হয় ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত। এর বাইরে কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেন মধ্যম আয়ের চাকরিজীবীরা। যারা বাড়ি এবং গাড়ির জন্য ঋণ নিয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এসএমই ঋণ বিশেষজ্ঞ আরফান আলী বলেন, ‘ক্ষুদ্রঋণ বিতরণে খরচ বেশি হওয়ার অজুহাতে ব্যাংকগুলো এ খাত থেকে সরে আসে। এতে গ্রামের মানুষ বেশি সুদে এনজিওর ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে। অথচ ব্যাংকগুলো এগিয়ে এলে কৃষক স্বল্প খরচে ঋণ নিতে পারতেন। এতে তাদের উৎপাদন খরচও কমত। এ কথা ঠিক যে, গ্রামে ঋণ বিতরণে খরচ কিছুটা বেশি হয়। কিন্তু ব্যাংকগুলোর তো সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকা উচিত।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত মাত্র ৩ হাজার ৮০৬ জন গ্রাহক ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ২৭ দশমিক ৬৯ শতাংশই দখলে নিয়েছেন। অথচ, নিম্ন আয়ের মানুষ বা লাখ টাকার নিচের ঋণগ্রহীতারা মাত্র ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ঋণ নিয়েছেন। এসব গ্রাহকের নেওয়া মোট ঋণের পরিমাণ ৩২ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা। অতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বা ১ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া গ্রাহকদের ঋণের পরিমাণ ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এসব গ্রাহকের নেওয়া মোট ঋণের পরিমাণ ৭৩ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। আর নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণের প্রয়োজন হয় ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত। 

এসব গ্রাহক জুন পর্যন্ত ব্যাংক থেকে মোট ঋণের ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ ঋণ গ্রহণ করেছেন। তাদের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৯৩ কোটি টাকা। এর বাইরে মধ্যম আয়ের চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী বা কোটি টাকা পর্যন্ত নেওয়া গ্রাহকরা ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ ঋণ নিয়েছেন। তাদের নেওয়া মোট ঋণের পরিমাণ ৮৯ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৩ হাজার ৮০৬ জন গ্রাহক ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ২৭ দশমিক ৬৯ শতাংশই দখলে নিয়েছেন। ৫০ কোটি টাকার বেশি এসব ঋণগ্রহীতার মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা। ২০ কোটি টাকার ওপরে ঋণ নিয়েছেন এমন গ্রাহকের সংখ্যা ১১ হাজার ৪৮৩ জন, যাদের কাছে আছে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতের মাধ্যমে বিতরণকৃত মোট ঋণের ৪২ দশমিক ৮২ শতাংশ। ৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে- এমন গ্রাহকের সংখ্যা ৪৩ হাজার ৭৯৭ জন। তাদের কাছে বিতরণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা। 

হিসাব অনুযায়ী ব্যাংকের মোট ঋণের ৬১ দশমিক ৬৫ শতাংশ রয়েছে এসব গ্রাহকের কাছে। ১ কোটি টাকার ওপরে ঋণ নিয়েছেন এমন গ্রাহকের সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার ৫৯০ জন। তাদের হাতে রয়েছে বিতরণকৃত মোট ঋণের ৭৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। অঙ্কে যার পরিমাণ ১২ লাখ ৪২ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা