প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২২ ১৫:৪১ পিএম
আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২২ ১৬:০৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৩ কোটি ৮৭ লাখ ডলারের; যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৫২ কোটি ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের পোশাক আমদানির তথ্য সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ওটেক্সার তথ্যমতে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির প্রবৃদ্ধি ৪২ দশমিক ০১ শতাংশ। এ সময়ে সারা বিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেনিম পোশাক আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৭৮ শতাংশে; যার পরিমাণ ৩২৪ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ডেনিম পোশাক আমদানির ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বড় উৎস। ওটেক্সারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকো থেকে আমদানি করেছে ৫৬ কোটি ১৩ লাখ ডলারের ডেনিম পোশাক। আগের বছরে যার পরিমাণ ছিল ৪৭ কোটি ১৭ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধির হার ১৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ। একই সঙ্গে পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ফলে আমদানি পৌঁছেছে ৩৭ কোটি ৬৯ লাখ ডলারে।
অন্যান্য শীর্ষ দেশ ভিয়েতনাম, চীন, মিসর, কম্বোডিয়া, নিকারাগুয়া এবং ভারত থেকেও আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এক বছরের ব্যবধানে ভিয়েতনাম থেকে ২৫ দশমিক ১২, চীন থেকে ৬ দশমিক ১২, মিসর থেকে ৬০ দশমিক ৩০, কম্বোডিয়া থেকে ৪৭ দশমিক ৪০, নিকারাগুয়া থেকে ২৫ দশমিক ২১ ও ভারত থেকে ৮৩ দশমিক ৮১ শতাংশ ডেনিম পোশাক আমদানি বাড়িয়েছে দেশটি।
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি-বিজিএমইএর পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘আমদানির পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে কোভিড সংকট এবং মন্দা পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের তৈরি পোশাক শিল্প ভালো করে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে শঙ্কার কারণ হচ্ছে বিশ্বব্যাপী মন্দার কারণে ক্রয়াদেশ এমনিতেই কম আসা শুরু করেছে। এ অবস্থায় এখন ভালো করার সুযোগটা কমে আসছে। তবে আমাদের ভালো করার সুযোগটা বেশ জোরেশোরেই চলছিল। আমাদের মানবসম্পদ উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিসহ অবকাঠামো উন্নয়নে আমরা অনেকটাই এগিয়েছি। এতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা ব্যপাক ছিল। তবে সার্বিকভাবে একটা বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেগ পেতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মন্দা পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট অর্থাৎ গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আশা করি শিগগিরই সব সংকট কাটিয়ে আমরা ধাপে ধাপে সব দেশেই রপ্তানি আয় বাড়াতে পারব। বাংলাদেশ ডেনিম পোশাক তৈরিতে বরাবরই বেশ ভালো করছে। গবেষণা ও কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধিতে উৎপাদন ক্রমাগত বাড়ছে। বাজার ধরে রাখতে উদ্যোক্তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন।’