খুলনা অফিস
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৪ ১৯:১২ পিএম
আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৪ ১৯:৩৬ পিএম
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার মতবিনিময় সভা। প্রবা ফটো
খুলনা জেলার বাসিন্দাদের যে পরিমাণ মাছের চাহিদা, তার চেয়ে চাষাবাদ ও উৎপাদন হয়; তবে উদ্বৃত্ত মাছের এক-তৃতীয়াংশ থেকে যাচ্ছে রপ্তানির বাইরে। এতে কমছে এই জেলা থেকে মৎস্য খাতের রপ্তানি আয়। গত এক বছরেই বিদেশে মাছ রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় সাতশ কোটি টাকার।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৪ উদযাপন উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানিয়ে জেলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়বেদ পাল জানান, চাহিদাপূর্ণ খুলনার বাগদা ও গলদা চিংড়ি ছাড়াও ইলিশ আহরণ এবং ব্যাপকভাবে তেলাপিয়া, কাঁকড়া ও কুঁচিয়া চাষ হয় বাণিজ্যিকভাবে। তবে কী কারণে মাছ রপ্তানি কমেছে, সে বিষয়ে সঠিক কারণ নির্ণয়ে কোনো ধারণা দেননি তিনি।
সোমবার (২৯ জুলাই) খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় জানানো হয়, খুলনার মৎস্য খাত থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয় ২ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে (২০২৩-২৪) এসে তা কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ১৪৬ কোটি টাকায়। এর মধ্যে চিংড়িজাত ১৬ হাজার মেট্রিকটন মাছ রপ্তানি থেকে এসেছে ১ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। বাকি চারশ কোটি টাকা আয় হয়েছে অন্যান্য জাতের মাছ রপ্তানি করে।
সভায় আরও জানানো হয়, খুলনার ২৬ লাখ বাসিন্দার বিপরীতে জেলায় মাছের উৎপাদন ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিকটন এই তথ্য উল্লেখ করে সভায় আরও জানানো হয়, জেলায় মাথাপিছু দৈনিক মাছ গ্রহণের চাহিদা ৫০ গ্রাম; মোট মাছের চাহিদা ৫৭ হাজার মেট্রিকটন। সেক্ষেত্রে খুলনায় মাছ উদ্বৃত্ত থেকে যায় ৬৮ মেট্রিকটনের বেশি।
খুলনার জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীনের সভাপতিত্বে সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মো. নাজমুল হুসেইন খাঁন, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার ম. জাভেদ ইকবাল, খুলনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
এদিকে, মঙ্গলবার ‘ভরব মাছে মোদের দেশ, গড়ব স্মার্ট বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ শুরু হচ্ছে। খুলনায় মঙ্গলবার সকাল নয়টায় নগরীর শহীদ হাদিস পার্ক পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হবে। সাড়ে নয়টায় হাদিস পার্ক থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত শোভাযাত্রা এবং পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা, সফল মৎস্য চাষি, ব্যক্তি, উদ্যোক্তা এবং প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হবে।