প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৪ ২০:৪২ পিএম
চলামান সংকোচনমূখী মুদ্রানীতির প্রভাবে কমেছে কৃষকের ঋণ। যদিও কৃষি খাতে একাধিক তহবিল চালু রয়েছে। অন্যদিকে গত মে মাসে সামগ্রিক বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু কৃষি ঋণ উল্টো কমেছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে ব্যাংকগুলোর কৃষিখাতে ঋণ বিতরণ ও আদায় কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে দেশের ব্যাংকগুলো কৃষিখাতে ঋণ বিতরণ করেছিল ৩ হাজার ৪৩৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আর পরের মাস মে’তে ব্যাংকগুলো কৃষিখাতে ঋণ বিতরণ করেছে ৩ হাজার ১৯১ কোটি ৯২ লাখ টাকা। সেই হিসেবে চলতি বছরের এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে কৃষিখাতে ঋণ বিতরণ কম হয়েছে ২৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
এছাড়া বিতরণকৃত ঋণ আদায়ের পরিমাণও কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি বছরের এপ্রিলে ব্যাংকগুলো কৃষকদের কাছ থেকে বিতরণকৃত ঋণ আদায় করেছিল ৩ হাজার ৫৩৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। আর চলতি বছরের মে মাসে ব্যাংকগুলো ঋণ আদায় করেছে ৩ হাজার ৪২৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। সেই হিসেবে চলতি বছরের এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে কৃষি ঋণ আদায় কম হয়েছে ১১২ কোটি টাকা।
তবে অর্থবছর হিসেবে ব্যাংকগুলোর কৃষি ঋণ বিতরণ কিছুটা বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ করেছে ৩৩ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। আর আগের ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংকগুলো কৃষি ঋণ বিতরণ করেছিল ২৯ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে কৃষি ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৩ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি বছরের মে মাস শেষে কৃষি খাতে মোট বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৩৩১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৩২ শতাংশ।
জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের ব্যাংকগুলোর জন্য কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। তথ্যানুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ করেছিল ২৫ হাজার ৫১১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ করেছিল ২৮ হাজার ৮৩৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ করেছিল ৩২ হাজার ৮২৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৃষি নীতিমালা অনুযায়ী, ফসলের মৌসুমের ভিত্তিতে সারাবছর সমান হারে কৃষিঋণ দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। এরপরেও ঋণ বিতরণে পিছিয়ে রয়েছে ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে মোট ঋণের মধ্যে ন্যূনতম ২ শতাংশ কৃষি ঋণ বিতরণ করতে হয়। কোনো ব্যাংক লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে ওই ব্যাংককে জরিমানা গুনতে হয়।
অপরদিকে কম সুদে কৃষকদের হাতে ঋণ পৌঁছাতে এবার ক্ষুদ্র ঋণদাতা সংস্থার (এমএফআই) ওপর বেসরকারি ব্যাংকের নির্ভরশীলতা আরও কমিয়ে আনা হচ্ছে। এ জন্য ব্যাংকের নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্তত ৫০ শতাংশ কৃষিঋণ বিতরণ বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এতদিন ছিল ৩০ শতাংশ। এ ছাড়া কৃষিঋণের কত অংশ কোন খাতে দিতে হবে, তাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
সবশেষ প্রণীত কৃষি ঋণ নীতিমালায় বলা হয়, ভবনের ছাদে বিভিন্ন কৃষি কাজ করা একটি নতুন ধারণা। বর্তমানে শহরাঞ্চলে যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মূলত বাড়ির ছাদে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে ফুল, ফল ও শাক-সবজির যে বাগান গড়ে তোলা হয় তা ছাদবাগান হিসেবে পরিচিত।
অপরদিকে গত মে শেষে সার্বিকভাবে বেসরকারি খাতে ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ২২ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকায়; যা ২০২৩ সালের মে পর্যন্ত ছিল ১৪ লাখ ৭০ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। ফলে গত এক বছরের ব্যবধানে বেসরকারি খাতে ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা বা ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আগের মাসে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ।