× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৪৫ কোটি টাকার বাজেট, বরাদ্দ বেড়েছে গবেষণায়

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৪ ১৩:৩৫ পিএম

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৪ ১৬:০৭ পিএম

বুধবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বার্ষিক সিনেট অধিবেশনের সূচনা অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। প্রবা ফটো

বুধবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বার্ষিক সিনেট অধিবেশনের সূচনা অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। প্রবা ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী অর্থবছরের ২০২৪-২৫ এর ৯৪৫ কোটি ১৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকার নতুন বাজেট ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ৯৭৩ কোটি ৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের গবেষণা বাবদ ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যা ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর হতে ৫ কোটি টাকা বেশি। 

বুধবার (২৬ জুন) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বার্ষিক সিনেট অধিবেশনের সূচনা অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। 

পাশ হওয়া সংশোধিত ও নতুন বাজেট দুটোতেই ঘাটতি থেকে গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৯৪৫ কোটি ১৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকার বাজেটে বেতন, ভাতা ও পেনশন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা যা মোট ব্যয়ের ৬৭ শতাংশ। গবেষণা মঞ্জুরী বাবদ ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৫ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের ২ দশমিক ১২ শতাংশ। এ বাজেট বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন দেবে ৮০৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৯০ কোটি টাকা। এর বাহিরেও বাজেটের ঘাটতি থাকবে ৫০ কোটি ৭৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, যা প্রাক্কলিত ব্যায়ের ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। 

২০২৩-২০২৪ সালের মূল বাজেট ছিল ৯১৩ কোটি ৮৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। সংশোধিত বাজেটে ৫৯ কোটি ১৫ লাখ ৯১ হাজার বৃদ্ধি করে সংশোধিত বাজেট দাঁড়ায় ৯৭৩ কোটি ৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। সংশোধিত বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন থেকে অনুদান ৭৭৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা এবং নিজস্ব আয় হিসেবে ৯০ কোটি টাকাসহ আয় ধরা হয়েছে ৮৯১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮১ কোটি ৩৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা মাত্র, যা মোট প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। 

বাজেট উপস্থাপনের সময় বক্তব্য কালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান যুগে টিকে থাকতে হলে নতুন নতুন উদ্ভাবন প্রয়োজন। প্রচুর অর্থ ব্যয় ব্যতীত এ ব্যাপারে সাফল্যমন্ডিত হওয়া দিবাস্বপ্ন মাত্র। গবেষণার জন্য ২০ কোটি টাকা পর্যাপ্ত নয়। বিশ্বাবিদ্যালয়ে ২০০০ এর বেশি শিক্ষক কর্মরত আছেন। প্রত্যেকের জন্য গড়ে গবেষণা বাবদ বরাদ্দ এক লাখ টাকা। এই অর্থ দ্বারা বড় ধরণের মৌলিক গবেষণা আদৌ কি সম্ভব? আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং নিয়ে অনেক আলোচনা শুনতে পাই। এই র‌্যাংকিং উন্নত করতে হলে প্রয়োজন গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা। এই খাতে বাজেট বরাদ্দ বহুলাংশে বৃদ্ধি করলে আমরা কাঙ্খিত ফলাফল পাব বলে আমার বিশ্বাস।

অধিবেশনে উপাচার্যের অভিভাষণে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করে তার ভাবনাকে বাস্তবে রূপদানের কাজ শুরু করেছিলেন। পরবর্তীকালে ক্রমান্বয়ে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শনের মূল চেতনা সংকুচিত হতে থাকে। এর মূল কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক স্বায়ত্তশাসন না থাকা। এক্ষেত্রে সরকারের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল থাকায় স্বাধীনভাবে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনায়ও আমরা আশানুরূপ সাফল্য অর্জন করতে পারিনি। এমনকি, বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন খাত থেকে যা আয় করে, সেই পরিমাণ অর্থ বাজেট প্রণয়নের সময় বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় দিয়ে থাকে। অথচ একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে হলে নতুন নতুন উদ্ভাবনের দিকে আমাদের দৃষ্টিপাত করতে হবে। সরকারের সহযোগিতা পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় বৃদ্ধি করে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অধীনে গবেষণা কার্যক্রমকে আরো উৎসাহিত করা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণাধর্মী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশি-বিদেশি গবেষকদের আকৃষ্ট করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিগগিরই ‘বঙ্গবন্ধু ডক্টরাল ফেলোশিপ প্রোগ্রাম’ চালু করা হবে। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রস্তুত করতে বহুমাত্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রথম বর্ষের সব অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে বৃত্তির আওতায় আনা হবে। শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ক্যাম্পাসভিত্তিক নতুন নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। স্মার্ট ক্লাসরুম, লাইব্রেরি, ট্রান্সপোর্টেশন ও রেজাল্ট প্রসেসিং অ্যান্ড সার্টিফিকেশনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে স্মার্ট ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলা হবে। শিক্ষার্থীদের তথ্য ও প্রযুক্তি-জ্ঞানে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অধিবেশনে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্যের অভিভাষণ ও কোষাধ্যক্ষের বাজেট বক্তৃতার উপর সিনেট সদস্যগণ আলোচনায় অংশ নেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা