প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২২ ১৯:৩২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গত আগস্টে একটি ডিমের দাম ১৩ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে দেশে ডিমের বাজার স্থিতিশীল করতে প্রয়োজন হলে বিদেশ থেকে ডিম আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। কিন্তু সেপ্টেম্বরে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা একটু কষ্ট করি তারপরও ডিম আমদানি করব না। তাই ডিম আমদানির বিষয়টি আর এগুইনি।
তবে বাজারের ডিমসংকট ও বাড়তি দামের পরিপ্রেক্ষিতে ৬টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ৫১ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি চেয়ে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, শুল্ক ছাড়ে আনতে পারলে ৬ টাকা পিস ডিম বিক্রি করা যাবে।
তাই ডিম আমদানির বিষয়টি আবারো আলোচনায় এসেছে। এমনকি আমদানিকারকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মতামত জানতে গত ৯ নভেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় তাদের মতামত জানায়নি। সংশ্লিষ্ট সুত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
যে ৬টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চিঠি দিয়েছে, তাদের মধ্যে ৫টি প্রতিষ্ঠান ১০ কোটি করে ডিম আমদানি করতে চেয়েছে। আর একটি প্রতিষ্ঠান এক কোটি ডিম আমদানি করতে চায়। ১০ কোটি ডিম আমদানি করতে চাওয়া ৫টি প্রতিষ্ঠান হলো মেসার্স সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজ, টাইগার ট্রেডিং, আহমেদ বিজনেস অ্যান্ড কমার্স প্রাইভেট লিমিটেড, রিপা এন্টারপ্রাইজ ও পপুলার ট্রেড সিন্ডিকেট। আর এক কোটি ডিম আমদানি করতে চায় সেভ অ্যান্ড সেফটি ইন্টারন্যাশনাল।
ডিম আমদানির জন্য আবেদনকারীরা বলেছেন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ডিমের দাম প্রতি পিস ৪ থেকে সাড়ে ৪ রুপি। ডিম আমদানির জন্য সরকারের কাছে তাঁরা কিছু শুল্ক ছাড় চেয়েছেন। শুল্ক ছাড়ে ডিম আনলে দেশের খুচরা বাজারে ৬ টাকা করে ডিম বিক্রি করা যাবে। তবে শুল্ক ছাড় না পেলে খুচরা বাজারে প্রতি পিস ডিম ৮ টাকা দরে বিক্রি করতে হবে। দেশের বাজারে এখন প্রতি পিস মুরগির ডিম ১১ থেকে ১৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভারতের ডিমের ওজন কম তাই দাম কম বলে মনে করেন পোলট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মো. মহসীন। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় উৎপাদন দিয়েই আমরা দেশের চাহিদা মিটিয়ে আসছি। যুদ্ধের কারণে খাদ্যের দাম বাড়ায় ডিমের দামও বেড়েছে। এতে ভোক্তাও কমে যাচ্ছে। একদিকে যেমন ভোক্তা পর্যায়ে অসন্তোষ আছে, আবার খামারিরাও উৎপাদনমূল্য পাচ্ছে না। এর ফলে খামার সংকুচিত হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকার ডিম আমদানির অনুমতি দিলে তার নেতিবাচক প্রভাব আরও পড়বে।’
আমদানিকারক ও উৎপাদকদের এ রকম মুখোমুখী অবস্থায় সরকার কি ভাবছে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাহিদ রশীদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। ডিম আমদানির অনুমতি দেব কি না, তা এখনই বলতে পারব না। সবার সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’
বর্তমানে প্রতিটি ডিম উৎপাদনে খরচ কত হচ্ছে, তা প্রতিবেদন আকারে সরকারকে জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরও ডিমের উৎপাদন খরচ নিয়ে কাজ করেছে। এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য পোলট্রি খাতের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আগামী ২১ নভেম্বর বৈঠক করবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। সেখানে আলোচনা করে যা পাওয়া যাবে তা মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে। তারপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে সরকার।