হৈমন্তী গাছ রোপণ করলেন শেখ রেহানা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৯:৫৫ পিএম
আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২০:৪৫ পিএম
সুরের ধারার বৃক্ষরোপণ উৎসবে হৈমন্তী গাছ রোপণ করছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা। প্রবা ফটো
সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র সুরের ধারার বৃক্ষরোপণ উৎসবে হৈমন্তী গাছ রোপণ করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের শুভ সূচনা হলো।
শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় সুরের ধারার স্থায়ী ক্যাম্পাসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে বৃক্ষরোপণ করেন শেখ রেহানা। তবে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খান ও ব্যবসায়ী শাহিনুজ্জামান প্রমুখ।
স্বাগত বক্তব্যে সুরের ধারার প্রতিষ্ঠাতা রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, ’আজ সুরের ধারার জন্য একটি বিশেষ দিন। কারণ দীর্ঘদিন পর আমরা স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছি। আমাদের হৃদয়ে আছে শান্তিনিকেতন ও রবীন্দ্রনাথ। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ তিনি আমাদের একটি স্থায়ী জায়গা করে দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ’এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পেয়েছি বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানাকে। তিনি এখানে এসেছেন কোনো বক্তব্য না দেওয়ার শর্তে। তিনি আমার বান্ধবী, সুতরাং আমিও তার শর্ত মেনে নিয়েছি। শেখ রেহানা শিশুদের অত্যন্ত ভালোবাসেন। আজকে তার উপস্থিতি আমাদের ভীষণ অনুপ্রাণিত করেছে।’
তিনি বলেন, ’আমাদের এখানে স্থায়ী কমপ্লেক্স নির্মিত হলে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে পাব। তিনি সব সময় আমাদের পাশে আছেন। আমাদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছেন সংস্কৃতিচর্চায়।’
প্রণয় ভার্মা বলেন, ’ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘ ৫২ বছরের বন্ধুত্ব। দুই দেশের সংস্কৃতি একই রকম। আমাদের সাংস্কৃতিক ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।’
তিনি বলেন, ’আগামী সপ্তাহে জি-২০ সম্মেলনে ভারত বাংলাদেশকে অতিথি দেশ হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। যেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ দেবেন। বাংলাদেশ ও ভারত জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলে একই সুতোয় গাঁথা। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে শেখ রেহানা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উত্তরীয় প্রদান এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানান রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্রসংগীত ও নাচের আয়োজনে অংশগ্রহণ করে। রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করেন আসাদুজ্জামান নূর। তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম শিশু-কিশোরদের অনুপ্রাণিত করতে সংগীত পরিবেশন করেন।
আতিকুল ইসলাম বলেন, ’বঙ্গবন্ধুর পরিবার সাংস্কৃতিকমনা পরিবার। তার উদাহরণ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। তা ছাড়া কামাল ভাই ছিলেন একজন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিকমনা ব্যক্তিত্ব। আমরা দীর্ঘ ৩৫ বছর পর কামাল ভাইয়ের একটি সেতার পেয়েছি। যেটি তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের আগে মেরামত করতে দিয়েছিলেন।’
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র বলেন, ’তিনি অত্যন্ত সুন্দর একটি আয়োজন করেছেন। আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। গাছ আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। সুতরাং আমি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের আহ্বান জানাব অন্তত বাড়ির আঙিনায় অথবা ছাদে দুটি করে গাছ লাগান।
যারা ছাদবাগান করবেন তাদের সিটি করপোরেশন কর ১০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন মেয়র। তা ছাড়া সুরের ধারাকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তিনি গাছ উপহার দেন।
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ’সুরের ধারায় আমরা একটি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করব। এখানে শিশুরা গান নাচের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিতে অভিজ্ঞ হয়ে উঠবে। তারা বিশ্বকে জয় করে নেবে।’