প্রতিনিধি সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪:১৮ পিএম
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৫:০৩ পিএম
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা। ছবি : প্রবা
কুড়িগ্রামে গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছেন শুভানুধ্যায়ীরা।
মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মিনহাজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মির্জা নাসির উদ্দীন, একুশে পদকপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন, কবিপুত্র দ্বিতীয় সৈয়দ হক, কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি রাজু মোস্তাফিজ, সাবেক সভাপতি অ্যাভোকেট আহসান হাবিব নীলু, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক শ্যামল ভৌমিক প্রমুখ।
সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম শহরের থানাপাড়ায় পৈতৃক নিবাসে জন্মগ্রহণ করেন। হক তার বাবা-মায়ের আট সন্তানের মধ্যে বড়। বাবা সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন ও মা হালিমা খাতুন। বাবা ছিলেন হোমিওপ্যাথির ডাক্তার।
বাংলা সাহিত্যের সব শাখায় সমানভাবে পদচারণার জন্য সৈয়দ শামসুল হককে ‘সব্যসাচী লেখক’ বলেন অনেকে। তিনি ১৯৬৪ সালে ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান। এ ছাড়া তিনি একুশে পদক এবং স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তাকে ১৯৮৪ সালে একুশে পদক এবং ২০০০ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করে সরকার।
১৯৫০-এর দশকে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘দেয়ালের দেশ’। তার অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘খেলারাম খেলে যা’, ‘নিষিদ্ধ লোবান’, ‘সীমানা ছাড়িয়ে’, ‘নীল দংশন’, ‘বারো দিনের জীবন’, ‘তুমি সেই তরবারী’ প্রভৃতি।
তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘একদা এক রাজ্যে’, ‘বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা’, ‘পরানের গহীন ভিতর’, ‘অপর পুরুষ’ প্রভৃতি। ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ ও ‘নুরলদীনের সারা জীবন’ সৈয়দ শামসুল হকের বিখ্যাত কাব্যনাট্য।
২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান সাহিত্যের এই বরপুত্র। শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী জন্মশহরের কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে সমাধিস্থ করা হয় তাকে।
প্রবা/টিকে/ এসআর