মৌলভীবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২৬ এএম
আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৩৭ এএম
ভুরভুরিয়া চা বাগানে রাতব্যাপী ঐতিহ্যবাহী দণ্ড নাচে মগ্ন দর্শক-শ্রমিকরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মৌলভীবাজারের চা-শিল্পাঞ্চলে শতবর্ষের ঐতিহ্য ধরে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও অনুষ্ঠিত হয়েছে দণ্ড নাচ। ভারতবর্ষের উড়িষ্যা থেকে আগত চা-শ্রমিকদের পরিবেশনায় এ নাচ চৈত্র মাসে শিব ও কালির ব্রত হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
শ্রমিকরা বিশ্বাস করেন, এই নৃত্যের মাধ্যমে তারা তাদের মনোবাঞ্ছা পূরণ করতে পারেন। তাই ধর্মীয় ভক্তি ও সাংস্কৃতিক আবেগ মিলিয়ে দণ্ড নাচ তাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুরভুরিয়া চা বাগানে মঙ্গলবার রাতে আয়োজন করা হয় এ নাচের জমকালো অনুষ্ঠান। রাতভর এই আয়োজনে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ হাজারো শ্রমিক অংশ নেন এবং উপভোগ করেন মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা।
দণ্ড নাচের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—এতে কেবল পুরুষ শ্রমিকরাই অংশগ্রহণ করেন। চৈত্র মাসের প্রথম দিন থেকেই নৃত্যদল বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ানো শুরু করে।
নির্ধারিত দিনে তারা শ্রমিক কলোনিতে গিয়ে চাল, ডাল ও শাক-সবজি ভিক্ষা করেন। সারাদিন ভিক্ষা শেষে সন্ধ্যায় সংগৃহীত উপকরণ দিয়ে নিরামিষ রান্না করে সবাই একত্রে ভোজন করেন।
এই সময় জোরে বাজতে থাকে বাদ্যযন্ত্র, যা উৎসবের আবহ আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় মূল আয়োজনের প্রস্তুতি।
রাত ১১টার দিকে প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করেই নাচঘরে শুরু হয় দণ্ড নাচের মূল পর্ব। শুরুতেই শিব ও কালিকে বন্দনা করে নৃত্যের সূচনা করা হয়।
এরপর একের পর এক পরিবেশনায় মুগ্ধ হয় দর্শকরা। সারারাতব্যাপী এই নৃত্যানুষ্ঠান বুধবার ভোরে শেষ হয়।
চা-শ্রমিক ও বৃক্ষপ্রেমী বিষ্ণু হাজরা রাজু জানান, একসময় সিলেট অঞ্চলের প্রায় সব চা-বাগানে এই নাচের বড় আয়োজন হতো। তবে সময়ের সঙ্গে এর প্রচলন কিছুটা কমে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সীমিত পরিসরে হলেও এই ঐতিহ্য এখনও টিকে আছে। নারী অংশগ্রহণ না থাকলেও পুরুষ শ্রমিকরা গভীর আগ্রহ ও আবেগ নিয়ে সারা রাত এই নাচে অংশ নেন ও উপভোগ করেন।