প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৫ ১০:৪০ এএম
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৪তম প্রয়াণ দিবস আজ। ছবি: সংগৃহীত
বাঙালির যাপিত জীবনে সর্বক্ষণই বিরাজমান কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। চেতনে কিংবা অবচেতনে আপন সৃষ্টি ও দর্শনে তিনি ঠাঁই করে নিয়েছেন বাঙালির মননে। অনুপ্রেরণার সঙ্গী হয়েছেন বাঙালির সংকটে, সংগ্রামে, আনন্দ ও ভালোবাসায়। তার কল্যাণেই বাংলা সাহিত্য পৌঁছেছে বিশ্বমানচিত্রের এক বিস্ময়কর অবস্থানে।
আজ ২২ শ্রাবণ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৪তম প্রয়াণ দিবস। ১৯৪১ সালের ৬ আগস্ট বাংলা ১৩৪৮ সনের ২২ শ্রাবণ কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে শ্রাবণের বাদলঝরা দিনে ইহলোকের মায়া ত্যাগ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে কবিগুরুর রয়েছে অবিস্মরণীয় অবদান। তার হাত ধরেই বাংলা সাহিত্য নতুন রূপ লাভ করে। গল্পে, উপন্যাসে, কবিতায়, প্রবন্ধে, নতুন সুরে ও বিচিত্র গানের বাণীতে, অসাধারণ সব দার্শনিক চিন্তাসমৃদ্ধ প্রবন্ধে, সমাজ ও রাষ্ট্রনীতি-সংলগ্ন গভীর জীবনবাদী চিন্তাজাগানিয়া অজস্র চিত্রকলায় রবীন্দ্রনাথ চিরনবীন।
মানুষের মুক্তির দর্শনই ছিল কবিগুরুর দর্শন। তার কাছ থেকেই আমাদের জাতীয় সংগীত ও ‘বাংলাদেশ’ নামের বানানটি নেওয়া হয়েছে। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, নাট্যকার, কথাশিল্গী, চিত্রশিল্গী, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক, ছোট গল্পকার ও ভাষাবিদ।
আশি বছরের জীবন সাধনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মৃত্যুকে নিয়ে গভীর জীবন তৃষ্ণায় লিখেছেন, ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই; এই সূর্যকরে এই পুষ্পিত কাননে, জীবন হৃদয় মাঝে যদি স্থান পাই।’
রবীন্দ্রনাথ অবশ্য জন্ম-মৃত্যুর মাঝে তফাত দেখেছেন খুব সামান্যই। সৃষ্টিই যে এই নশ্বর জীবনকে অবিনশ্বরতা দেয়, সে কথা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন বলেই তিনি অমন দৃঢ়তায় বলতে পেরেছেন- ‘মৃত্যু দিয়ে যে প্রাণের মূল্য দিতে হয়, সে প্রাণ অমৃতলোকে মৃত্যুকে করে জয়’।
বিশ্বমানবতায় বিশ্বাস করতেন মানবতাবাদী এই কবি। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেই দর্শন অন্বেষণ করেছেন। তার কবিতা, গান, সাহিত্যের অন্যান্য বিভিন্ন শাখার লেখনী মানুষকে আজও সেই অন্বেষণের পথে, তার অন্বিষ্ট উপলব্ধির পথে আকর্ষণ করে।
বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির এমন কোনো দিক নেই যা নিয়ে তিনি লেখালেখি করেননি। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি চিত্রকর হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন। রবিঠাকুরই বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। প্রথম এশীয় হিসেবে ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে অফুরন্ত অবদান রাখা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ প্রকৃতিকে কাঁদিয়ে যখন ইহধাম ত্যাগ করেন, সেদিন শোকার্ত বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বিশ্বকবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে লিখেছিলেন ‘দুপুরের রবি পড়িয়াছে ঢলে অস্তপারের কোলে, বাংলার কবি শ্যাম বাংলার হৃদয়ের ছবি তুমি চলে যাবে বলে শ্রাবণের মেঘ ছুটে এলো দলে দলে।’
প্রসঙ্গত, ১২৬৮ সনের ২৫ বৈশাখ ইংরেজি ১৮৬১ সালের ৮ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নানা আয়োজনে আজ বুধবার কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস পালন করবেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষেরা।