× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজন ৩

বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত এখনও গ্রামেই

কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৪ ১১:৫৪ এএম

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৪ ১২:০৬ পিএম

কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ

কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ

স্বাধীনতা-উত্তর আমাদের অর্থনীতি ছিল বিধ্বস্ত। সমাজ, প্রশাসন সবকিছুই বিধ্বস্ত ছিল। সেখান থেকে দেশকে টেনে তোলার জন্য বঙ্গবন্ধু বেশ কিছু দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি জোর দিয়েছিলেন কৃষির ওপর; একই সঙ্গে অবকাঠামো, বিশেষ করে রাস্তাঘাট-সেতু-কালভার্ট পুনর্বাসনের ওপরও। যুদ্ধের কারণে দেশের সব ধরনের অবকাঠামো ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছিল। দারিদ্র্য ছিল প্রকট, তাই দারিদ্র্য নিরসনে তিনি জোর দিয়েছিলেন। সে লক্ষ্যে এবং অর্থনীতি এগিয়ে নিতে পাশাপাশি জোর দিয়েছিলেন ক্ষুদ্র উদ্যোগের ওপর। তিনি কৃষি খাতে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যান্ত্রিকীকরণে জোর দিয়েছিলেন। পরিবেশের উন্নয়নে গাছ লাগানোর ওপর জোর দেওয়াসহ আরও কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। কূটনীতির ক্ষেত্রে তৎপরতা বাড়িয়ে বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে সফল হচ্ছিলেন।

তারপর তিনি দেখলেন, যখন দেশ কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, মূল্যবোধহীন লোকজন চুরি করছে, বাটপাড়ি করছে। তিনি এদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন। এ অবস্থায় দেখলেন, যে ব্যবস্থায় কাজ করছেন সেভাবে হয়তো দেশ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। তখন তিনি দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। সেই দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাকের ক্ষেত্রে যেমন রাজনীতি ছিল, তেমন ছিল অর্থনীতিও। এ লেখায় অর্থনীতির দিকটায় আলোকপাত করছি।


ওই ডাকে অর্থনীতির দিকের কথা বললে বলতে হবে, বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাব ছিল তাঁর সুদূরপ্রসারী চিন্তাপ্রসূত। সমবায় ছিল সে চিন্তার মূলে। প্রতিটি গ্রামে একটি করে সমবায় তৈরি করা হবে এবং সেখানে প্রত্যেকেই সদস্য হবে। যার জমি আছে, তার জমি কেড়ে নেওয়া হবে না। এটা ছিল তাঁর সমবায় চিন্তার খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা দিক। তিনি চীন দেখেছেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন দেখেছেন, কিন্তু তিনি তাঁর মতো করে বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সমবায় বিন্যাস করার কথা ভাবছিলেন।

জমির মালিকসহ সবাই সেখানে কাজ করবেন। আয় থেকে জমির মালিকরা জমির বিপরীতে তাদের অংশ পাবেন, অন্যরাও তাদের ভূমিকার জন্য নিজেদের অংশ পাবেন। তা ছাড়া সমবায় একটা অংশ পাবে এবং সরকারের কাছে একটা অংশ আসবে। এ বিন্যাস আমি মনে করি খুবই সুদূরপ্রসারী একটি পরিকল্পনা ছিল।

একটা উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে সমবায় থেকে নির্ধারিত রাজস্ব সরাসরি সরকারের কাছে চলে আসার কথা ছিল, তাতে সরকারের সামর্থ্য বাড়ত এবং তা ঘটত স্বয়ংক্রিয়ভাবে। এখন আমরা লক্ষ করি, বর্তমানে জাতীয় উৎপাদের মাত্র ৮ শতাংশের মতো রাজস্ব হিসেবে সরকার আদায় করতে পারে। ফলে দেখা যায়, পৃথিবীতে এ ক্ষেত্রে যেসব দেশ তলানির দিকে আছে বাংলাদেশ সেই কাতারে রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় এ রকমটি হতো না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে বেঁচে থাকতে দেওয়া হলো না। তিনি তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ দিতে পারলেন না।

এখানে বলা প্রয়োজন, সে রকম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সে সময়ই করা সম্ভবপর ছিল, বর্তমান সময়ে সে পথে যাওয়া সম্ভব নয়। এখন বিশ্ব এবং দেশের পরিস্থিতি একদমই আলাদা। কিন্তু তিনি বেঁচে থাকলে এবং তাঁর সে পরিকল্পনা তখন বাস্তবায়ন করলে বাংলাদেশ বহু আগেই অনেক উন্নতি করতে পারত।

বস্তুত বঙ্গবন্ধুর উন্নয়নচিন্তা ছিল মানবকেন্দ্রিক। তিনি সব মানুষকে নিয়ে চিন্তা করতেন। সবাইকে এ প্রজাতন্ত্রের মালিক হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সে হিসেবে প্রত্যেকের জন্য সমসুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার কথা ছিল যাতে সবাই ন্যায্যভাবে এগিয়ে যেতে পারে। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে আছে, এ দেশে সাম্যভিত্তিক সমাজ গড়া হবে, যেখানে সবার সব মানবাধিকার নিশ্চিত হবে এবং সবার জীবন হবে মানবমর্যাদার। এসব বক্তব্য প্রধানত তাঁরই চিন্তাপ্রসূত। তিনি বলেছিলেন, ‘দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হবে।’ তার মানে যারা পিছিয়ে আছে, যাদের সামর্থ্য কম তাদের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছেন, এ দেশে ‘অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল উদার গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

এদিকে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বাজার অর্থনীতির প্রসার আস্তে আস্তে দেশে শুরু হয় এবং উন্নয়নে মানবকেন্দ্রিকতা বর্জন করা হয়। আসলে সারা বিশ্বেই এখন বাজারব্যবস্থার দৌরাত্ম্য বিরাজমান। বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। তবে আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে, বিশেষ করে এক যুগ ধরে। ২০১০ সালের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে এবং ২০১৮-১৯ সালে তা ৮ দশমিক ১৫ শতাংশে উন্নীত হয়। পরবর্তী সময়ে করোনা মহামারির অভিঘাতে অর্থনীতি প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে। প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়লেও বাংলাদেশের অর্থনীতি অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো করেছে। করোনা মহামারিকালে ২০১৯-২০ সালে পৃথিবীতে মাত্র ১৮টি দেশ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। বাংলাদেশ ওই দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দিকের কয়েকটি দেশের অন্যতম। পরবর্তী বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯৪ এবং তার পরের বছর ৭ দশমিক ১০ শতাংশ হয়। ২০২২-২৩ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে যায়। ওই অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ০৩ শতাংশে নেমে যায়। করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যে বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টি করে তার অভিঘাতের বাইরে নয় আমাদের অর্থনীতিও। এ অভিঘাতের মধ্যেও আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি চলছে। ২০২৩-২৪ সালে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে। সময়ের নিরিখে এ প্রবৃদ্ধি মন্দ নয়। কিন্তু অতীতে আমাদের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ছাড়িয়েছিল। সে তুলনায় বর্তমানে প্রবৃদ্ধি অর্জনের হার কিছুটা কম।

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে বেশ কিছু সমস্যা বর্তমানে বিদ্যমান। এর সমাধান করতে পারলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। সে চেষ্টা সরকার করছে, তব কার্যকারিতায় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। বস্তবায়নকারীদের মধ্যে গাফিলতি রয়েছে। তাদের কার্যকর তৎপরতা জোরদার করতে হবে এবং একই সঙ্গে অপচয় ও দুর্নীতি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে; ঘোষিত শূন্য সহনশীলতা বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় গৃহীত নানা পদক্ষেপ থেকে সুফল পাওয়া কঠিন হবে, এমনকি সংকট আরও বাড়তে পারে।

দেশে অন্যান্য খাতের সম্প্রসারণ ঘটলেও এখনও অর্থনীতির ভিত গ্রামীণ অর্থনীতিÑকৃষি (শস্য, মাছ, প্রাণিসম্পদ, বনাঞ্চল) এবং কৃষিবহির্ভূত খাতসমূহ। সঙ্গত কারণেই কৃষির বিভিন্ন উপখাতে জোর দেওয়া অব্যাহত রয়েছে এবং একই সঙ্গে গ্রামীণ পর্যায়ে নানা উদ্যোগ সৃষ্টিতে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। কৃষিতে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি, যদিও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সময় সময় কিছু খাদ্য আমদানির প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের নীতি, কর্মপরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকায় কৃষি খাতে কৃষক কাজ করে লাভবান হতে পারছে। সম্প্রতি যান্ত্রিকীকরণে সরকারি উদ্যোগ রয়েছে, যা আরও জোরদার করতে হবে এবং কর্মসূচিগুলো কার্যকরভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে যাতে অগ্রগতি টেকসইভাবে অব্যাহত থাকে।

উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে গ্রামীণ পর্যায়ে শিল্পোৎপাদন বাড়ানো ও ব্যবসায় সম্প্রসারণের বিষয়েও জোর দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাবনা বিস্তর। যথাযথ অর্থায়ন এবং প্রয়োজনীয় অ-আর্থিক সেবা (প্রশিক্ষণ এবং উপযুক্ত প্রযুক্তি আহরণ, পণ্যের মানোন্নয়ন ও বাজারজাতকরণে সহায়তা) প্রদান নিশ্চিত করে এ সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আরও কার্যকরভাবে নিতে হবে।

কৃষি খাতে একটি সমস্যা হচ্ছে উৎপাদন বেশি হলে কৃষক পণ্যের দাম পায় না। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে আরও বেশি জোর দিতে হবে। এতে মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি ছাড়াও কৃষকের ঠকার এবং উৎপাদিত পণ্য নষ্ট হওয়ার কারণ কমবে। যেমন দেখা যায়, অনেক তরমুজ উৎপাদিত হলে তা বিক্রি করতে না পারায় নষ্ট হয় এবং কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ রকমটি যাতে না হয় সেজন্য প্রক্রিয়াজাতকরণের পথে আরও জোরদারভাবে এগিয়ে যেতে হবে। ভিয়েতনাম কিংবা কম্বোডিয়ায় দেখা যায়, সম্ভাব্য সব কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি করা হয়।

এমন সুযোগ ও সম্ভাবনা বাংলাদেশেরও রয়েছে। তা চিহ্নিত করে সম্প্রসারণে আরও বেশি আর্থিক ও অ-আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। এ ছাড়া কোন কোন দেশে কোন কোন পণ্য রপ্তানি করা যেতে পারেÑকতটুকু, কীভাবে এসব বিষয়ে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারের মাধ্যমে উদ্যোগসমূহকে সহযোগিতা করা যেতে পারে।

বিশেষ করে রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছ। তা হচ্ছে পণ্যের মান। দেখা যায়, বাংলাদেশে অনেক সময় এমনকি বড় বড় প্রতিষ্ঠানও প্রাথমিক পর্যায়ে পণ্যের মানের দিকে নজর দিলেও পরবর্তী সময়ে সেদিকে আর নজর রাখে ন। ফলে তাদের পণ্যের মান কমতে শুরু করে। তাদের নজর চলে যায় দ্রুত মুনাফায়, পণ্যের মান বিবেচনার বাইরে চলে যায়। কিন্তু মান যথাযথ না থাকলে টেকসই বিকাশ সম্ভব নয়। পণ্যের মান তদারকির জন্য বিএসটিআই রয়েছে। কিন্তু শুধু সিল দিলেই পণ্যের মান নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজনীয় তদারকি নিশ্চিত করে পণ্যসমূহের মান নিশিচতকরণে কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি।

গ্রামীণ খাতে উৎপাদিত কিছু পণ্য স্থানীয়ভাবে বিক্রি হয়, কিছু পণ্য দেশের অন্যান্য জায়গায় বা শহরাঞ্চলে বিক্রি হয় এবং কিছু পণ্য সীমিতভাবে রপ্তানি হয়। কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি সম্প্রসারণ করতে চাইলে পণ্যের মানোন্নয়ন ছাড়া উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকেও নজর দিতে হবে। আকর্ষণীয়ভাবে পরিবেশনও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে উৎপাদক এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্ব রয়েছে। নীতিমালা প্রতিপালন ও বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যত্নবান হতে হবে।

  • বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ; সমাজচিন্তক; চেয়ারম্যান, ঢাকা স্কুল ইকনোমিকস ও কিউকে আহমদ ফাউন্ডেশন
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা