× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজন ৩

পর্যটন শিল্পে আগামীর ভ্রমণ গন্তব্য

খবির উদ্দিন আহমেদ

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৪ ১০:৫২ এএম

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৪ ১২:০৬ পিএম

খবির উদ্দিন আহমেদ

খবির উদ্দিন আহমেদ

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প নানা ধরনের বৈচিত্র্যময় আকর্ষণ ও উপাদানে ভরপুর। পর্যটন শিল্প নিজেই একটি সেবা খাত। এ সেবা খাতের মধ্যে অন্যতম উপাদান হচ্ছে রিসোর্ট। দিন দিন মানুষের ভ্রমণ গন্তব্যে ইকোট্যুরিজম বিশেষ জায়গা করে নিচ্ছে। আর ইকোট্যুরিজম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে রিসোর্ট। বর্তমানে বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বে যত বিনিয়োগ, তার মধ্যে রিসোর্ট খাতের বিনিয়োগ বেশি। বাংলাদেশের রিসোর্ট খাতে বিনিয়োগ দেড় হাজার কোটি টাকার ওপরে। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে বর্তমানে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ৪০ লাখ লোক জড়িত। এর মধ্যে রিসোর্টে কর্মরত আছে শতকরা ৭০ ভাগ। নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা রিসোর্টে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রিসোর্টের কারণে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বেশ গতিশীলতা আসছে।

নয়নাভিরাম টাঙ্গুয়ার হাওর। ছবি : কমলজিৎ শাওন

পর্যটকের চাহিদার কারণে বাংলাদেশে রিসোর্টের সংখ্যা ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রিসোর্টের গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার ২০১৯ সালে রিসোর্টবিধি প্রণয়ন করেছে। এটি মূলত আমার উদ্যোগেই হয়েছে। খসড়া প্রণয়নসহ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে বারবার চিঠি দিয়ে এ কার্য সাধন করতে পেরেছি। বাংলাদেশের রিসোর্টগুলো এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। রিসোর্টগুলোয় বিশাল মাঠ, বিস্তীর্ণ লেক, সুইমিং পুল, খেলাধুলার জন্য বড় মাঠ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, স্পা, বার, ক্লাব ইত্যাদি আছে। একটি রিসোর্টে অতিথিরা পরিবার-পরিজন নিয়ে অনায়াসে এক সপ্তাহ কাটিয়ে দিতে পারে। তাদের মধ্যে একঘেয়েমি আসবে না। সরকারও রিসোর্ট থেকে সবচেয়ে বেশি রেভিনিউ পাচ্ছে। এনবিআরের হিসাবে দেখা যায়, একটি জেলার মধ্যে রিসোর্ট থেকে সবচেয়ে বেশি ভ্যাট ও ট্যাক্স আসে। এজন্য অনেক রিসোর্ট মালিক এনবিআর কর্তৃক পুরস্কৃত হচ্ছেন।

গ্রামীণ রিসোর্ট স্বাস্থ্যনিবাস হিসেবে কাজ করে। ২০১৯ সালের বিধিমালায় রিসোর্টের ডেফিনেশন হচ্ছে : রিসোর্টগুলো সমুদ্র বা নদী, হ্রদ বা বিল, ঝিল বা দিঘি, হাওর-বাঁওড়, ডোবা-নালা-খাল, পাহাড়, বনজঙ্গল বা বাগানসহ উন্মুক্ত স্থানে হতে হবে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, রিসোর্টগুলো শহর থেকে দূরে গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর ফরমালিনমুক্ত শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, মাংস ঔষধি গুণসমৃদ্ধ খাবারসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য পাওয়া যায়; যা শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এ ছাড়া এখানে আয়ুর্বেদিক সবকিছু উৎপাদন হয়, যা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে অতিথিদের পরিবেশন করা হয়; যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। তাই আগামীতে গ্রামীণ পর্যটন হতে যাচ্ছে অন্যতম ভ্রমণ গন্তব্য। আর সে গন্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে গ্রামীণ রিসোর্টগুলো।

এখানে উল্লেখ করার মতো হচ্ছে নড়াইলের নড়াগাতী থানার পাণিপাড়া গ্রামের অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব। এটি হচ্ছে লাখ লাখ পাখির অভয়ারণ্য। বছরের প্রায় আট মাস এখানে অতিথি পাখির আনাগোনা থাকে। পাখির কিচিরমিচির আর ভোরের রাঙা সূর্যোদয়ে এক উপভোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া অনেক দেশি পাখির কলরব সারা বছরই শুনতে পাওয়া যায়। এখানে আরও রয়েছে সুবৃহৎ লেক, লেকে অ্যাংলিং করার অনন্য সুবিধা, উন্নতমানের আবাসন এবং রেস্তোরাঁ, সুইমিং পুল, সুপরিসর গলফ মাঠ, সবুজ অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ যা কোনো বয়সি পর্যটককে মুগ্ধ করে। এখানে প্রতি বছর দেশবিদেশ থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী স্টাডি ট্যুরে আসেন। দেশে এ রকম অনেক রিসোর্ট গড়ে উঠছে। যেহেতু বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পে রিসোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর, এখানে সরকার সহজশর্তে ব্যাংক ঋণ ও ডিউটি ফ্রি গাড়ি আমদানির সুযোগ দিয়েছে। যেহেতু রিসোর্ট বাংলাদেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অনেক বেশি অবদান রাখছে, রিসোর্টসমূহরে প্রচার সরকারিভাবে করা প্রয়োজন। দেশি-বিদেশি মেলায় রিসোর্ট মালিকদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া উচিত।

সরকারের নীতিমালায় পর্যটন সেক্টরকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকার পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেছে। এ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন হলে পর্যটন শিল্প বহুদূর এগিয়ে যাবে। তবে পর্যটন শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন। সরকার এখানেও গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার Skills for Employment Investment (SEIP) প্রকল্পের মাধ্যমে অন্যান্য সেক্টরের মতো পর্যটন শিল্পেও দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তুলছে। তবে এদের যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। এদের উপযুক্ত কাজ পাওযার কিংবা উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। দেশের সব হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট-রেস্তোরাঁর মালিকরা এ দক্ষ কর্মীবাহিনী কাজে লাগাতে পারেন।

বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা অফুরন্ত। ষড়ঋতুর দেশ পর্যটন আকর্ষণে ভরপুর। প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন রয়েছে তেমন রয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক পর্যটন আকর্ষণ। বাংলাদেশের কৃষিব্যবস্থা, গ্রামীণ পরিবেশ বিদেশি পর্যটকরা বেশ পছন্দ করে। এজন্য আমাদের গ্রামীণ পর্যটনের প্রতিও গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। বাংলাদেশের রিসোর্টগুলো গ্রামীণ জনপদে হওয়ায় এর মাধ্যমে গ্রামীণ পর্যটনের উন্নয়ন ঘটছে। তবে গ্রামীণ পর্যটন উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন যাতে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা কোনো ঝক্কিঝামেলা ছাড়াই গ্রামবাংলা উপভোগ করতে পারে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো প্রান্তিক পর্যায়ের রিসোর্ট তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এ প্রচষ্টোর জন্য তাদের সরকার থেকে সাধুবাদ জানানো প্রয়োজন।

পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেশ আন্তরিক। এ শিল্পের উন্নয়নে বর্তমান পর্যটনমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি বেশ পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বিটিবি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করার জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আরও বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। সরকার যত বেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবে তত বেশি বিদেশি পর্যটক ও বিনিয়োগ আসবে।

  • ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট, ট্যুরিজম রিসোর্ট ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ট্রিয়াব) এবং প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম অ্যাসোসিযেশন (বিএটিএ)
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা