শাহীন হাসনাত
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২৩ ১৮:০১ পিএম
শুক্রবার, সপ্তাহের
সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ দিন। এই দিনের ফজিলত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থগুলোতে
একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে
শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত। Ñইবনে মাজাহ : ১০৮৪
জুমার দিনে গোসল
করা, উত্তম পোশাক পরিধান করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শোনাÑ
এ চারটি আমলের কথা একসঙ্গে এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে
ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে উত্তম পোশাক পরিধান করবে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করবে, যদি
তার কাছে থাকে। তারপর জুমার নামাজে আসে এবং অন্য মুসল্লিদের গায়ের ওপর দিয়ে টপকে সামনের
দিকে না যায়। নির্ধারিত নামাজ আদায় করে। তারপর ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার পর থেকে
সালাম পর্যন্ত চুপ করে থাকে। তাহলে তার এই আমল পূর্ববর্তী জুমার দিন থেকে পরের জুমা
পর্যন্ত সমস্ত সগিরা গোনাহের (ছোট গোনাহ) জন্য কাফফারা হবে। Ñসুনানে আবু দাউদ : ৩৪৩
এই দিনের আরেকটি
গুরুত্বপূর্ণ আমলÑ দ্রুত মসজিদে যাওয়া। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার
দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত ছুটে যাও এবং বেচাকেনা
বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বোঝো।’ Ñসুরা জুমা : ৯
মর্যাদাপূর্ণ
এই দিনের বিশেষ একটি আমলÑ সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে
বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করবে তার জন্য
দুই জুমা পর্যন্ত নূর উজ্জ্বল করা হবে। Ñআমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইল : ৯৫২
এই দিনের আরেকটি
আমল হচ্ছেÑ নবীজির ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। এই মর্মে রাসুল (সা.) বলেন, দিনসমূহের
মধ্যে জুমার দিনই সর্বোত্তম। এই দিনে হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে
তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে। এই দিনে সমস্ত সৃষ্টিকে বেহুশ
করা হবে। অতএব তোমরা এই দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের দরুদ
আমার সম্মুখে পেশ করা হয়ে থাকে। Ñসুনানে আবু দাউদ : ১০৪৭
জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ
আরেকটি আমল হচ্ছেÑ দোয়ার প্রতি মনোনিবেশ করা। হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে
বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত
এমন আছে যে, তখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে যে দোয়া করবে আল্লাহ তা কবুল করেন। Ñসুনানে
আবু দাউদ : ১০৪৮