শাহীন হাসনাত
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৩ ১৩:২১ পিএম
আমরা নানা সময়
প্রয়োজনের মুখোমুখি হই। মানুষের একার পক্ষে নিজেই নিজের সব প্রয়োজন পূরণ সম্ভব হয় না।
অনেক ক্ষেত্রে পরস্পরকে সাহায্য দরকার হয়। এই সাহায্যের নানা ধরন ও অনেক বৈধ উপায় শরিয়তে
রয়েছে। তার একটি বড় উপায় ঋণ তথা কর্জ আদান-প্রদান। এখানে ঋণগ্রহীতা ও ঋণদাতা উভয়ের
জন্যই ইসলামে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা।
প্রথমত ঋণগ্রহণের
ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার বাস্তবিকই প্রয়োজন আছে কি না, থাকলে সেটা কোন পর্যায়ের, ঋণগ্রহণ
ছাড়া অন্য কোনোভাবে তা পূরণ সম্ভব কি না এবং ঋণগ্রহণ করলে সময়মতো পরিশোধ করা যাবে কি
না, এ বিষয়গুলো বিবেচনা করা অতি জরুরি। বিশেষ প্রয়োজন এবং সময়মতো পরিশোধের প্রবল ধারণা
ছাড়া ঋণগ্রহণ জায়েজ নয়।
ইসলামের শিক্ষা
হলো, ঋণ একটা বোঝা। ঋণগ্রস্ততা অনেক সময় দুশ্চিন্তা, অশান্তি ও অনৈতিকতার কারণ হয়।
এজন্য বান্দার কর্তব্য, আল্লাহর কাছে ঋণ থেকে আশ্রয় চাওয়া এবং দোয়া করা, তিনি যেন ঋণ
ছাড়াই সব প্রয়োজন পূরণ করে দেন। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর কাছে ঋণ থেকে আশ্রয়
চাইতেন। এ প্রসঙ্গে দুটি হাদিস উল্লেখ করা যায়। হজরত উরওয়াহ ইবনে জুবাইর (রহ.) থেকে
বর্ণিত, নবী করিম (সা.)-এর স্ত্রী হজরত আয়েশা (রা.) তাকে বলেছেন যে, আল্লাহর রাসুল
(সা.) নামাজে এই বলে দোয়া করতেন, ‘কবরের আজাব থেকে, মাসিহে দাজ্জালের ফেতনা থেকে এবং
জীবন ও মৃত্যুর ফেতনা থেকে ইয়া আল্লাহ! আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ!
গোনাহ ও ঋণগ্রস্ততা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।’
তখন এক ব্যক্তি
তাঁকে বললেন, আপনি কতই না ঋণগ্রস্ততা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। তিনি (রাসুল সা.)
বললেন, যখন কোনো ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখন কথা বলার সময় মিথ্যা বলে এবং ওয়াদা করলে
তা ভঙ্গ করে।’ Ñসহিহ বোখারি : ৮৩২
ঋণ থেকে বাঁচার
জন্য ইসলামি চিন্তাবিদরা যেসব পরামর্শ দেন, তার মধ্যে কয়েকটি হলোÑ বিশেষ প্রয়োজন এবং
নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধের প্রবল ধারণা ছাড়া ঋণ না নেওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা। আয় ও ব্যয়ের
মাঝে সমন্বয় করে চলা। নাম-ডাক, কৃত্রিমতা ও রসম-রেওয়াজ থেকে দূরে থাকা।
দ্বিতীয়ত, সময়মতো
ঋণ পরিশোধের নিয়ত এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা। কিন্তু ঋণ নেওয়ার সময়ই
খারাপ নিয়ত রাখা বা ঋণ নিয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন হয়ে পড়া খুবই অন্যায়। হাদিসে এসেছে, ‘যে
মানুষের সম্পদ পরিশোধের নিয়তে (ঋণ) নেয়, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করে দেন। আর
যে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নেয়, আল্লাহ তা ধ্বংস করে দেন।’ Ñসহিহ বোখারি : ২৩৮৭
তৃতীয়ত, নির্ধারিত
সময়ের মধ্যে তো অবশ্যই, এবং চেষ্টা করা নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিশোধ করার। টালবাহানা,
মিথ্যা কথা ও মিথ্যা ওয়াদা করা নাজায়েজ। আর যে বিপদে ঋণ দিয়ে অনুগ্রহ করেছে তার সঙ্গে
এমন আচরণ তো আরও ভয়াবহ। বস্তুত সামর্থ্য সত্ত্বেও এরূপ আচরণ খুবই অন্যায়। হাদিসে এসেছে,
‘বিত্তবানের টালবাহানা জুলুম।’ Ñসহিহ বোখারি : ২৪০০
মনে রাখতে হবে,
ঋণ বান্দার হক, যা পরিশোধ করতে হয় অথবা দাতা কর্তৃক মাফ পেতে হয়। এ ছাড়া মুক্তির পথ
নেই। আল্লাহ তা মাফ করেন না। এ জন্য তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিশোধ করে নেওয়া উত্তম,
মৃত্যুর আগে-আগে তো অবশ্যই। কিন্তু (আল্লাহ না করুন) তার আগেই যদি কারো মৃত্যুক্ষণ
এসে যায়, তবে কাউকে অসিয়ত করে যাওয়া। হাদিসে এসেছে, ‘ঋণ ছাড়া শহীদের সমস্ত গোনাহ মাফ
করে দেওয়া হয়।’ Ñসহিহ মুসলিম : ১৮৮৬