ইসলাম যা বলে
শাহীন হাসনাত
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৩ ১৪:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
হজ একটি ফরজ ইবাদত।
আল্লাহ তায়ালা মাবরুর হজের জন্য মহা পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছেন। হজরত রাসুলুল্লাহু
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘হজে মাবরুরের একমাত্র প্রতিদান জান্নাত।’Ñসহিহ
বোখারি : ১৭৭৩
যে হজে বেশি বেশি
ইবাদত-বন্দেগি এবং ভালো কাজ করা হয় তাকে হজে মাবরুর তথা গ্রহণযোগ্য হজ বলে। ইমাম কুরতুবি
(রহ.) বলেন, ‘হজে মাবরুরের ব্যাখ্যায় যত মত আছে সব কাছাকাছি অর্থ বহন করে। তা হলো হজ
সম্পাদনকারী হজের সব বিধান শরিয়তের চাহিদা অনুযায়ী যথাস্থানে পরিপূর্ণভাবে আদায় করবে।’
Ñসহিহ মুসলিম : ২৯৮৫
অতএব কেউ শুধু
বায়তুল্লাহর হজ করলেই তার হজ, হজে মাবরুর হবে না। একবার হজরত মুজাহিদ (রহ.) বলেছিলেন,
কত বিপুলসংখ্যক হাজীর সমাগম! তখন ইবনে উমার (রা.) বলেন, বাস্তবে হাজীর সংখ্যা খুবই
সীমিত, বরং তুমি বলতে পারো কাফেলার সংখ্যা কতই না বেশি।’ Ñমুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক
: ৮৮৩৬
হজ আদায়কারী লোক
বিভিন্ন ধরনের হওয়ার কারণে এমন কিছু বিশেষ নীতি উল্লেখ করা প্রয়োজন, যা হাজীকে বিশেষভাবে
সহায়তা করবে। যেন তার হজ ‘হজে মাবরুর’ হয় ও শ্রম সার্থক হয়।
মানসিকভাবে তৈরি
হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি, যা হাজীকে শরিয়ত-সম্মত পদ্ধতিতে হজ পালনে সহায়তা
করে এবং হজকে হজে মাবরুরে পরিণত করে। হজের প্রস্তুতির অন্যতম হলো মানুষের পাওনা ও অধিকারগুলো
পরিশোধ করে যাওয়া। কারও গচ্ছিত সম্পদ থাকলে ফেরত দেওয়া, ঋণ পরিশোধ করা, পরিশোধে অপারগতায়
সময় চেয়ে নেওয়া। সেই সঙ্গে বৈধ পাথেয় সংগ্রহ করা, অবৈধ পাথেয় হজ গৃহীত হওয়ার প্রতিবন্ধক।
ইমাম তাবারানি (রহ.) বর্ণনা করেন, মানুষ যখন বৈধ পন্থায় উপার্জিত পাথেয় নিয়ে হজে বের
হয় এবং বাহনে পা রেখে বলে লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক! হে আল্লাহ! তোমার দরবারে
উপস্থিত। তখন আসমান থেকে তাকে শুভেচ্ছা ও অভ্যর্থনা জানানো হয়, এই বলে অভিনন্দিত করা
হয়, তোমার উপস্থিতি কল্যাণকর হোক, হালাল তোমার পাথেয়, বৈধ তোমার বাহন এবং সফল তোমার
হজ। আর যে অবৈধ পথে উপার্জিত পাথেয় নিয়ে হজে বের হয়ে বাহনে পা রেখে যখন সে বলে লাব্বাইক!
তখন আসমান থেকে জনৈক ঘোষক তাকে তিরস্কার করে বলে, দূর হও হতভাগা, দূর হও! তোমার পাথেয়
হারাম, তোমার খরচ হারাম এবং তোমার হজও নিস্ফল। অতএব, প্রত্যেক বান্দার উচিত তার প্রভুকে
ভয় করে চলা এবং নবী কারিম (সা.)-এর এই বাণী স্মরণ রাখা, ‘আল্লাহ তায়ালা পবিত্র, তিনি
একমাত্র পবিত্র বস্তুই গ্রহণ করেন।’ Ñইমাম তাবারানি, মুজামুল আওসাত : ৫২২৪
হজে সৎ সফরসঙ্গী
নির্বাচন করাও গুরুত্বপূর্ণ। দুর্বল হয়ে পড়লে সে যেন সহযোগিতা করতে পারে, ভুলে গেলে
স্মরণ করিয়ে দিতে পারে, কোনো বিষয়ে অজানা থাকলে জানিয়ে দিতে পারে, সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ
কাজে নিষেধ করতে পারে। হজের সময় অসৎ ও বখাটে সঙ্গী নির্বাচন থেকেও বিরত থাকার কথা বলা
হয়েছে।