প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৩ ১৮:২৯ পিএম
আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৩ ১৯:২৫ পিএম
নিপসমের অডিটোরিয়ামে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধী এইচপিভি টিকাদান কার্যক্রমে অতিথিরা। প্রবা ফটো
এইচপিভি ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে জরায়ুমুখ ক্যানসার শূনের কোঠায় নামিয়ে আনতে চান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
তিনি বলেছেন, ‘সরকার দেশের প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ভ্যাকসিনের মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য প্রায় সব রোগের বিরুদ্ধে আমরা সাফল্য অর্জন করেছি। মা ও শিশুমৃত্যু হার কমিয়ে আনার পাশাপাশি পঙ্গুত্ব নিরোধেও সাফল্য কম নয়। কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদানে আমাদের সাফল্য বিশ্বের কাছে রোল মডেল। জীবন বিপন্নকারী জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে আজ আমরা একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি। এক ডোজ এইচপিভি ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে জরায়ুমুখ ক্যানসার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চাই।’
সোমবার (২ অক্টোবর) জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) অডিটোরিয়ামে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধী এইচপিভি টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মাদ খুরশীদ আলম। উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ সেকশনের প্রধান মায়া ভ্যানডেনেন্ট প্রমুখ।
ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি মি. শেলডন ইয়েট বলেন, ’প্রতিবছর বাংলাদেশের লক্ষাধিক নারী জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এটা এমন এক রোগ যা কিশোরীদের ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে সহজেই প্রতিরোধ করা যায়। এইচপিভি ভ্যাকসিন কার্যক্রমে বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করতে পেরে আমরা আনন্দিত। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের লাখো নারীর জীবন রক্ষার পাশাপাশি ভ্যাকসিন গ্রহণকারী কিশোরীদের সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে।’
ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্যাভির সহযোগিতায় ও বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালিত এই ভ্যাকসিন কার্যক্রমের আওতায় পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণি বা সমমান অধ্যয়নরত এবং ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানবহির্ভূত কিশোরীদের বিনা মূল্যে টিকা প্রদান করা হবে। প্রাথমিকভাবে শুধু ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন স্কুলে ২৩ লাখ কিশোরী টিকার আওতায় আসবে।
এইচপিভি ভ্যাকসিন কার্যক্রম অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী এক মাস বা ১৮ কর্মদিবসব্যাপী চলবে। এ সময় ঢাকা বিভাগের পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণি বা সমমান অধ্যয়নরত সব ছাত্রীকে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক ডোজ এইচপিভি টিকা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-বহির্ভূত কিশোরীদের ইপিআইর সেশন প্ল্যান অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে টিকাদান কেন্দ্রে এইচপিভি টিকা দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল বিভাগে এই টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও জরায়ুমুখ ক্যানসারের (সার্ভিক্যাল ক্যানসার) প্রকোপ বেড়ে চলেছে। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে ছয় লক্ষাধিক নারী জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ১১ জন জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, যার মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন ৪ হাজার ৯৭১ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী নিয়মিত পরীক্ষা এবং এইচপিভি টিকা দানের মাধ্যমে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধ সম্ভব।