× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞদের ১০ সুপারিশ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৩ ১০:৩৫ এএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

দিন দিন দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ১০টি সুপারিশ করেছেন। সেগুলো হলো- সচেতনতা বৃদ্ধি, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ানো, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৌশলগত অগ্রাধিকার ঠিক করা, স্বাস্থ্যব্যবস্থায় দক্ষতা বাড়ানো, হাসপাতালে রোগী ব্যবস্থাপনায় সৃজনশীল উদ্যোগ, মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা চালু, মশারি বিতরণ, মশার ওপর নিয়মিত নজরদারি, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গোটা সরকারব্যবস্থার সম্পৃক্ততা এবং জোরালো তদারকি ও নিয়মিত কাজের মূল্যায়ন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর নিপসম মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ : সামনে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তারা এসব সুপারিশ তুলে ধরেন। পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এ সেমিনারের আয়োজন করে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ছাড়াও সেমিনারে সরকারি পদস্থ কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, কীটতত্ত্ববিদ, টিকা বিশেষজ্ঞ, সাধারণ চিকিৎসক, গবেষক, সাংবাদিক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বলেন, করোনার সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল। বর্তমানে ডেঙ্গু জাতীয় জরুরি অবস্থার মতো। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি নানা পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করা জরুরি। কিন্তু বর্তমান দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে না আমরা একত্রে আছি। নির্বাচনের কারণে ডেঙ্গু ইস্যুটি পেছনে পড়ে গেছে। এতে দুর্যোগ আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে।’ 

নিপসমের কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. গোলাম ছারোয়ার বলেন, মশানাশক ও লার্ভানাশ কার্যকারিতা হারিয়েছে। মশককর্মীরা যেভাবে কাজ করছেন, তাতে আবাসিক এলাকায় মশা বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি আছে। প্যানেল আলোচনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, ২০ ধরনের অংশীজনকে নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫ কোটি মানুষের কাছে সচেতনতামূলক বার্তা গেছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক মুশতাক হোসেন বলেন, দেশে রাজনৈতিক কারণে একাধিকবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্যের ব্যাপারে জরুরি অবস্থা ঘোষণা হতে দেখা যায়নি। জরুরি অবস্থার জন্য হাজার হাজার মানুষ মারা যেতে হবে, বিষয়টি তেমন নয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক শাহ মনির হোসেন। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম শহিদুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান প্রমুখ।

আগস্টের ১০ দিনে ১১৩ মৃত্যু 

চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আক্রান্ত হয়েছে ২৬ হাজার ১৯৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত রোগটিতে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ বছর মারা গেল ৩৬৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ২ হাজার ৯৫৯ জন, যা চলতি বছরে এক দিনে আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড। 

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ঢাকায় ১ হাজার ৯২ জন এবং ঢাকার বাইরে ১ হাজার ৭৫২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছে ২ হাজার ৮৬৮ জন। এর মধ্যে ঢাকার ১ হাজার ৯৭ জন ও ঢাকার বাইরে ১ হাজার ৮৬২ জন। 

নতুন শনাক্তসহ চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ২৮ জনে। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৯ হাজার ৯১১ জন এবং ঢাকার বাইরে ৩৮ হাজার ১১৭। এ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৬৭ হাজার ৮৭৪ জন। আর হাসপাতালে ভর্তি আছে ৯ হাজার ৭৯০ জন।

সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে জুলাই মাসে। গত মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ৮৫৪ জন। এ সময় ডেঙ্গুতে ২০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সচেতন না করলে ঢাকাতেই ৫-১০ লাখ ডেঙ্গু রোগী থাকত

ডেঙ্গু ‘নিয়ন্ত্রণে’ মশা নিধনে মানুষকে সচেতন করতে পেরেছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, তা না হলে শুধু ঢাকায়ই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছাত। গতকাল সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মশা নিধনের কাজ ঠিকভাবে করছে না বলে অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পৃথিবীর ১৪৮টি দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিবছর ৭ লাখ লোক মারা যায়। সবাই এটাকে মোকাবিলা করার জন্য কাজ করছে। আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত আছে। যদি আমাদের এই কার্যক্রম আন্তরিকভাবে করা না হতো, আক্রান্তের সংখ্যা এই জায়গায় থাকত না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সচেতন না করতে পারতাম, তাহলে আজকে হয়তো ৫-১০ লাখ ঢাকা শহরে আক্রান্ত হয়ে যেত।’ এ সময় ডেঙ্গু নির্মূল করতে শতভাগ মানুষকে সচেতন করে তোলার কথা বলেন তিনি। 

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় ৬৮ হাজার, ইন্দোনেশিয়ায় ৬৩ হাজার, থাইল্যান্ডে ৪৬ হাজার, ফিলিপাইনে ৮০ হাজার, সিঙ্গাপুরে ৫ হাজার ২২১ জন, ভিয়েতনামে ৪৬ হাজার, শ্রীলঙ্কায় ৫৬ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, এরাও তো চেষ্টা করে, সবাই চেষ্টা করছে, সবাই কাজ করছে। সিঙ্গাপুর তো অনেক বেশি পরিপক্ব। তারপরও ৫০ লাখ লোকের দেশে ৫ হাজার ২২১ জন আক্রান্ত হয়েছে।

মশা নিধনে সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ার যে অভিযোগ সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা ৫ জানুয়ারি সভা করেছি। সেই সভাতে কীটতত্ত্ববিদরা উপস্থিত ছিলেন। তারা তো তখন এ ব্যাপারে আমাদের কোনো দুর্বলতা আছে বলে বলেননি। আমাদের কোনো পদক্ষেপে ঘাটতি আছে কি না, সেটাও বলেননি।’ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মশার বংশ বিস্তারের সময় বদলে পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ক্লাইমেট চেঞ্জের কারণে এটা হচ্ছে। শুধু আমাদের দেশে নয়, আজকের (বৃহস্পতিবার) তথ্য হলো, পৃথিবীর ১৪৮টি দেশে ডেঙ্গু মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে গিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে যে পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ ডেঙ্গু রোগের ঝুঁকিতে আছে। তো আমরা আমাদের পক্ষ থেকে যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার, সেগুলো নিয়েছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘২ কোটি মানুষের ঢাকা শহর। সারা বাংলাদেশের আউটার জেলাগুলোতে হয়তো এ প্রথম তারা আক্রান্ত হচ্ছে। সতর্কতার জন্য একটু সময় লাগতে পারে। কিন্তু ঢাকা শহরে তো আমি মনে করি সবাই সচেতন হয়ে যেতে পারি। এখানে সব শিক্ষিত লোকজন।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা