প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৩ ১৮:৪৮ পিএম
আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৩ ১৯:৩২ পিএম
ফাইল ছবি
জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকেই হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী ন্যাশনাল ইমুনাইজেশন
টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারি গ্রুপি অব এক্সপার্টদের সিদ্ধান্ত অনুসারে এক
ডোজএইচপিভি টিকা প্রদান করলে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এ জন্য সেপ্টেম্বর থেকে দেশের ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি কিশোরীদের এইচপিভি
টিকা দেওয়া শুরু করা হবে।
সোমবার (৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারের কাছে সাড়ে ২৩ লাখ টিকা আছে। আগামী নভেম্বর মাসে ২০ লাখ টিকা পাওয়া যাবে এবং ২০২৪ সালে আরও ৪২ লাখ টিকা পাওয়া যাবে। স্কুল পর্যায়ে থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ে ঢাকায়, দ্বিতীয় পর্যায়ে চট্টগ্রাম ও বরিশালে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে দেওয়া হবে।
নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর অন্যতম কারণ জরায়ুমুখ ক্যানসার বলে জানান জাহিদ মালেক। বলেন, জরায়ু ক্যানসার বিশ্বে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ নারী মারা যায়, যার মধ্যে ৯০ ভাগই ঘটে উন্নয়নশীল দেশে। দেশে প্রতি লাখ নারীর মধ্যে ১৬ জন জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং ৬ হাজার ৫৮২ জন নারীর বছরে মৃত্যু হয়।
কলেরা টিকা প্রদান প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কলেরা রোগের টিকা প্রথম পর্যায়ে ১২ লাখ ডোজ, পরবর্তী পর্যায়ে ২৪ লাখ মানুষকে ২ ডোজ করে ৪৮ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিদিন ডেঙ্গুতে মৃত্যুর বিষয়টিও উঠে আসে। যে হারে রোগী বাড়ছে তাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে বলে মনে করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি বাড়ছে। গত জুলাই মাসে দেশে ৪৫ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। অথচ ২০২২ সালে জুলাই মাসে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১ হাজার ৫০০ জন। চলতি বছর এ পর্যন্ত ৩১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তও বাড়ছে। ঢাকায় ৩ হাজার শয্যা ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ২ হাজার একশ’ শয্যায় ভর্তি হয়েছে। রোগী যে হারে বাড়ছে তা সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড.আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. টিটো মিঞাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।