বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৩ ১২:২৫ পিএম
আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৩ ১২:৪৮ পিএম
ফাইল ফটো
বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাওয়া ট্রেইনি চিকিৎসকরা কর্মবিরতি উঠিয়ে নিয়েছেন। দীর্ঘ বিরতির পর আগামী শনিবার কর্মক্ষেত্রে যোগ দেবেন তারা। বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) সকালে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. জাবির হোসেন।
তিনি বলেন, ‘ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ২৫ হাজার করা হয়েছে। আমরা এতে সন্তুষ্ট নই। তবু মেনে নিয়েছি। স্যারদের সঙ্গে মিটিং হয়েছে। স্যারেরা কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেগুলো মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। আমাদের জন্য এ ২০ হাজারের সঙ্গে আরও ৫ হাজার যুক্ত হওয়া মানে আমার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওষুধের খরচটা হলেও যুক্ত হওয়া, আমার বাচ্চার প্যাম্পার্সের খরচ, স্কুলের বেতনের খরচ, আর আমার ধারদেনার পরিমাণ একটু হলেও কমবে।’
ডা. জাবির জানান, ১৭ জুলাই বিএমএ প্রেসিডেন্ট ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বিএসএমএমইউ ভিসি ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ, স্বাচিপের সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন, মহাসচিব কামরুল হাসান মিলন এবং ডিজিএমই ডা. টিটু মিয়ার সঙ্গে তাদের প্রতিনিধিদলের মিটিং হয়েছে। সেখানে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্তগুলো হলো—ভাতা ২০ হাজার থেকে বেড়ে ২৫ হাজার করা হবে এবং সেটা এ জুলাই থেকেই কার্যকর হবে। ভাতা প্রতি মাসে দেওয়া হবে এফসিপিএস ট্রেইনিদের। সাপ্তাহিক দুই কর্মদিবস ছুটি দেওয়া হবে এবং প্রাইভেট প্র্যাকটিসে কোনো বাধা দেওয়া হবে না (সিন্ডিকেট মিটিংয়ে পাসের পর)। আন্দোলনরত অবস্থায় একাডেমিক অনুপস্থিতির জন্য কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে জানুয়ারি থেকে আরেক ধাপ ভাতা বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ডা. জাবির বলেন, ‘আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে আমাদের স্যারদের প্রতিশ্রুত মেনে নিচ্ছি, কারণ ওনারা আমাদের কথা দিয়েছেন আগামী ছয় মাস পর (জানুয়ারি ২০২৪) আমাদের এ ভাতা আমাদের আশানুরূপ বাড়ানো হবে এবং যত যা কিছুই হোক না কেন ওনারা আমাদের পক্ষে থাকবেন। আমাদের ৭৫০০ থেকে ৮০০০ ট্রেইনি চিকিৎসক শুধু স্যারদের এ কথার ওপর ভরসা করে আমাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এবং আমরা সবাই আগামী শনিবার নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করতে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে এ ফলাফলে আমরা সবাই আশাহত, তার পরও আমাদের আর কিছুই করার ছিল না। আমরা ৮ হাজার ট্রেইনি, আমাদের অভিভাবক স্যারদের এ প্রতিশ্রুতিকে বিনাবাক্যে বিশ্বাস করে নিলাম। তবে দৃঢ়প্রত্যয়ে ঘোষণা দিচ্ছি, এ প্রতিশ্রুতিগুলো যদি একটাও না মানা হয় তাহলে এর পরিণতি হবে ভয়ানক, আমরা একবার যেহেতু মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখেছি আর পিছপা হব না।’