প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২০:০৫ পিএম
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১:১১ পিএম
বি কে স্কুল অব রিসার্চের গবেষণা নিয়ে ইউনিসেফের ফিচার । ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারী ও কিশোর-কিশোরীদের ওপর কোভিড-১৯-এর আর্থসামাজিক ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে ‘বি কে স্কুল অব রিসার্চের’ করা একটি গবেষণা নিয়ে উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন রিসার্চ লাইব্রেরিতে ফিচার করেছে ইউনিসেফ।
এর আগে গবেষণাটি প্রবন্ধ আকারে মালয়েশিয়ার কিউ৩ (স্কোপাস ইনডেক্সড্) ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব এশিয়া প্যাসিফিক স্টাডিজ জার্নালের ১৮তম ভলিউমের ২ নম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
জানা যায়, বি কে স্কুল অব রিসার্চের পাঁচজন তরুণ গবেষক দুই বছর ধরে এ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ গবেষণা প্রকল্পের প্রধান গবেষকের দায়িত্বে ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক এবং বি কে স্কুল অব রিসার্চের ডিরেক্টর বিজন কুমার।
এতে সহযোগী হিসেবে কাজ করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক এবং বি কে স্কুল অব রিসার্চের রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ডা. সুস্মিতা দে পিংকি ও ডা. অরিন্দম সিং পুলক।
এ ছাড়া ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের গবেষক সাইয়েদা রায়হানা কামাল এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বি কে স্কুল অব রিসার্চের রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট রাশেন্দা আজিজ এই গবেষণা প্রকল্পে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেন।
গবেষণাটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ডা. সুস্মিতা দে পিংকি বলেন, শরণার্থীরা এমনিতেই নানা সংকটের মধ্য দিয়ে তাদের জীবন অতিবাহিত করে। কোভিড-১৯-এর কারণে উদ্বাস্তুদের মধ্যে বিদ্যমান সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। এই কঠিন সময়ে বিশেষত নারী ও কিশোর-কিশোরীরা কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করছে তা উদঘাটন করা জরুরি। এমন প্রেক্ষাপট থেকেই আমরা রোহিঙ্গা নারী এবং কিশোর-কিশোরীদের ওপর কোভিড-১৯-এর আর্থসামাজিক ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব কেমন পড়েছে তা অনুসন্ধান করার চেষ্টা করেছি।
গবেষণার ফলাফল নিয়ে ডা. অরিন্দম সিং পুলক বলেন, এ গবেষণায় আমরা দেখেছি কোভিডকালীন ৬৩ শতাংশের বেশি রোহিঙ্গা নারী ও কিশোর-কিশোরী খাদ্য সংকটে ছিল এবং প্রায় ৮৭ শতাংশ পুষ্টিহীনতায় ভুগছিল।
এ ছাড়া সরকার কর্তৃক দেশব্যাপী সাধারণ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের কারণে মহিলারা, বিশেষ করে গর্ভবতী নারী এবং বয়ঃসন্ধিকালীন কিশোরীরা, প্রজনন-বিষয়ক স্বাস্থ্যসেবা-প্রাপ্তি নিয়ে পূর্বের চেয়ে অধিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল।
এ ছাড়া গবেষণাটির নীতিমালা সুপারিশ নিয়ে প্রকল্পের প্রধান গবেষক বিজন কুমার বলেন, বাংলাদেশ সরকার এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন সংস্থা রোহিঙ্গাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তারপরও তারা নানা ধরনের সংকটের মধ্যে রয়েছে। এ সংকট নিরসনে আমরা এ গবেষণা থেকে দুই ধরনের সুপারিশ করেছি। এক, সাময়িক সমাধান—কোভিডকালীন রোহিঙ্গা নারী ও কিশোর-কিশোরীদের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া। দুই, স্থায়ী সমাধান—আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারক এবং বিশ্বরাষ্ট্রনায়কদের সাথে বাংলাদেশ সরকারকে একযোগে কাজ করে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করা।
উল্লেখ্য, বি কে স্কুল অব রিসার্চ ২০১৫ সালে কয়েকজন তরুণ গবেষকের হাত ধরে পথচলা শুরু করে। এই সংগঠনের প্রথম গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালে লন্ডন থেকে। ২২টি দেশের ৬০ জনের অধিক তরুণ গবেষক এবং তিন শতাধিক তথ্য-সংগ্রাহক নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষক ও অধ্যাপকদের পরামর্শে গবেষণা, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালাসহ সকল ধরনের শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে এই সংগঠন।
টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা, মানসন্মত শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, দারিদ্র্য, অভিবাসন ও শরণার্থী, পরিকল্পিত নগরব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করা এই সংগঠনের আন্তর্জাতিক জার্নাল ও বইয়ে ২০টির অধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমান পরিচালক বিজন কুমার বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার ফান্ডিং পেলে আমাদের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করে তোলার পাশাপাশি আমরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে সমর্থ হব।