প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৩ ২০:২২ পিএম
আপডেট : ২৪ জুন ২০২৩ ২০:৩৯ পিএম
শনিবার রাজধানীর বনানীর প্লাটিনাম গ্রান্ড হোটেলে আয়োজিত ‘ই-সিগারেটের আসক্তি ও স্বাস্থ্যক্ষতি : জনস্বাস্থ্য রক্ষায় উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ব্ক্তারা। প্রবা ফটো
বাংলাদেশে ই-সিগারেটের ব্যবহার বাড়ছে। তামাক কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন অপপ্রচার ও কূটকৌশলী ভূমিকার কারণে অনেক তরুণ-তরুণী জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর নতুন এই তামাক পণ্যের প্রতি আসক্ত হচ্ছে। ফলে টিন, নিকেল, ক্যাডিয়াম, লেড, মার্কারিসহ বিভিন্ন বিষাক্ত উপাদান সম্বলিত ই-সিগারেট বাংলাদেশে বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে দেশে ক্যান্সার, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোকসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
শনিবার (২৪ জুন) রাজধানীর বনানীর প্লাটিনাম গ্রান্ড হোটেলে আয়োজিত ‘ই-সিগারেটের আসক্তি ও স্বাস্থ্যক্ষতি : জনস্বাস্থ্য রক্ষায় উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ব্ক্তারা এসব কথা বলেন।
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি), ইন্টার প্রেস নেটওয়ার্ক-আইপিএন এবং ইনিশিয়েটিভ ফর পাবলিক হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশনের (আইপিএইচআরসি) যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
টিসিআরসির সভাপতি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপির সভাপতিত্বে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক বজলুর রহমানের পরিচালনায় এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দীন ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ট্যোবাকো পলিসি নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ড. রোমানা হক, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সাইসেন্সের পাবলিক হেলথ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসাইন, আইপিএনের নির্বাহী পরিচালক এহসানুল হক জসীম, আইপিএনের পরিচালক কেফায়েত উল্লাহ চৌধুরী শাকিল প্রমুখ।
অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দীন ফারুক বলেন, ই-সিগারেটের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। ই-সিগারেটের ব্যবহার ও বাজার সম্প্রসারণের জন্য ভ্যাপিং ফেস্টিভাল বা মেলার আয়োজন করা হয়, যা খুবই দুঃখজনক। আমাদের উচিৎ, নন-স্মোকারদের নিয়ে মেলা বা উৎসব আয়োজন করা।
অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসাইন বলেন, ই-সিগারেট জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ই-সিগারেটের কারণে ক্যান্সার, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোকসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ছে ভয়াবহভাবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে খুবই নিরবে ই-সিগারেটের বাজার ব্যাপক আকারে সম্প্রসারিত হচ্ছে, কিন্তু ই-সিগারেট নিয়ে আমাদের গবেষণা খুবই কম হচ্ছে। তিনি ই-সিগারেট ইস্যুতে গবেষণা বাড়ানোর তাগিদ দেন।
অধ্যাপক ড. রোমানা হক বলেন, হার্ম রিডাকশন বা কম ক্ষতিকর টার্ম ব্যবহার করে তামাক কোম্পানিগুলো তরুণ-যুবক এবং ধূমপায়ীদের ই-সিগারেটের প্রতি আকৃষ্ট করছে। ই-সিগারেট কম ক্ষতিকর নয়, বরং খুবই ক্ষতিকর একটি পণ্য। ই-সিগারেটের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষতিও সাধিত হচ্ছে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ১৫৩ জন এমপি ই-সিগারেট বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছেন। ই-সিগারেট বন্ধে এখনই কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি।