× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু, হটস্পট রোহিঙ্গা ক্যাম্প

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৩ ২১:৫০ পিএম

আপডেট : ২৮ মে ২০২৩ ২২:৩৪ পিএম

দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু, হটস্পট রোহিঙ্গা ক্যাম্প

ডেঙ্গুর ভরা মৌসুম সামনে। তার আগেই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। রাজধানীর পাশাপাশি কক্সবাজার জেলায় সংক্রমণ বেশি। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো ডেঙ্গুর হটস্পট হয়ে উঠছে। ক্যাম্পগুলোতে জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর কক্সবাজারের বাংলাদেশিদের মধ্যে এই সংখ্যা ৬২। চলতি বছর সবমিলিয়ে ১ হাজার ৭৫০ জন ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ১৬০ জন ঢাকায় এবং ৫৯০ জন ঢাকার বাইরে। চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৩ জন। তাদের ১০ জন ঢাকায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোহিঙ্গাদের নাম নেই। সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের ৬১ শতাংশ রোহিঙ্গাদের মধ্যে। রবিবার (২৮ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। 

দেশে সাধারণত জুনে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির মৌসুমে ডেঙ্গু বাড়তে শুরু করে। এ প্রাদুর্ভাব চলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু চলতি বছর তার আগেই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত বছর জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সারা দেশের হাসপাতালগুলোয় ৩৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছিল। তবে কারও মৃত্যু হয়নি। ২০২১ সালের শুরু থেকে মে পর্যন্ত ১০০ জন আক্রান্ত হয়। তাদের কেউ মারা যায়নি। সেই হিসাব থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবার ডেঙ্গু সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোহিঙ্গাদের নাম না থাকার ব্যাখ্যায় রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি নাগরিক নয়। তাই তাদের নাম বাংলাদেশি নাগরিকদের তালিকায় আনা হয় না। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে তারা বাংলাদেশে আশ্রিত এবং জাতিসংঘ তাদের তথ্য চায়, এ কারণে গুরুত্ব দিয়ে পৃথকভাবে তাদের হিসাব সংরক্ষণ করা হয়।’

নাজমুল ইসলাম বলেন, ’রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। তাদের কালচার আলাদা। তারা একটা নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে থাকেন। সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীদেরও অনেক নিয়ম মেনে কাজ করতে হয়। এ কারণে সেখানে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা অনেকটা কঠিন।’ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে সেখানকার স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশার উপদ্রব বেশি উল্লেখ করে নাজমুল ইসলাম বলেন, ’স্বাস্থ্য বিভাগের কাজ রোগী ব্যবস্থাপনা। ডেঙ্গু কোথায় বেশি এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের।‘

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ডেঙ্গু বাড়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও জনঘনত্বের মতো কারণগুলো তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির বলেন, ’সিটি করপোরেশনগুলোকে জানানো হয়েছে, দ্রুত যদি মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।’

নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, ’জানুয়ারির পর থেকে অনেক গরম পড়েছে। বিজ্ঞান বলে, কোনো জিওগ্রাফিতে এক ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লে তার ডাবল পরিমাণ ডেঙ্গু কেইস চলে আসে। তাপমাত্রা অনেক বেড়ে গেলে যখন তখন বৃষ্টিপাত, বাতাসের গতি কত ছিল তা দেখে অনুমান করা হয়েছে প্রাক-মৌসুমে ডেঙ্গু কেইস বেশি হবে।’

ডেঙ্গু চিকিৎসায় সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরির সঙ্গে যুক্ত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কাজী তারিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ’ডেঙ্গু পরীক্ষাসহ চিকিৎসায় সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন করা হয়েছে। গাইডলাইন অনুযায়ী সবাইকে চিকিৎসা দিতে হবে। প্লাটিলেট ব্যবহার নিয়েও গাইডলাইনে নির্দেশনা রয়েছে।’ তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কেন্দ্র থেকে শুরু করে সবার অংশগ্রহণ জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা