প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:২৩ এএম
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:৫৮ এএম
টিকা নেওয়ার ‘শেষ সুযোগ’
শেষবারের মতো করোনাপ্রতিরোধী টিকার ক্যাম্পেইন করতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সাধারণ মানুষকে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে এর আগে একাধিকবার দেশব্যাপী টিকা ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পেইনের আওতায় একদিনে সর্বোচ্চ এক কোটি ২০ লাখ টিকাও দেওয়া হয়েছে। তবে টিকার আর কোনো ক্যাম্পেইন করতে চাচ্ছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাই আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর করোনা টিকার শেষ ক্যাম্পেইন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় করোনা প্রতিরোধে শেষবারের মতো ক্যাম্পেইন চালানো হবে। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। ৩ অক্টোবর পর্যন্ত এই দুই ডোজ দেওয়ার মতো টিকা হাতে আছে। এরপর এগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাবে। মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলে এসব টিকা নষ্ট করে ফেলতে হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেশে জনসংখ্যার হিসাবে কেনা। তাই নতুন করে আর টিকা এ মুহূর্তে কিনবে না সরকার। হাতে থাকা অন্যান্য টিকা দিয়ে বুস্টার ডোজ কার্যক্রম চালানো হবে।
এখন পর্যন্ত প্রথম ডোজ নেয়নি প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ, দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি প্রায় ৯৪ লাখ মানুষ। পাশাপাশি বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে প্রায় চার কোটি মানুষকে। অর্থাৎ প্রায় আট কোটি মানুষের বুস্টার ডোজ নেওয়া বাকি।
এদিকে গতকাল শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, ৩ অক্টোবরের পর করোনার টিকার প্রথম ডোজ ও দ্বিতীয় ডোজ না-ও পাওয়া যেতে পারে। কারণ অনেক টিকার মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ শেষ হয়ে যাবে, টিকা থাকবে না হয়তো। পরে তিনি বলেন, ৩ অক্টোবর থেকে প্রথম ডোজ দিতে পারব না, দ্বিতীয় ডোজ দেওয়াও কষ্ট হয়ে যাবে। ১১ অক্টোবর থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ৫-১১ বছর বয়সী শিশুদের টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি সবাইকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ১২ দিন চলবে শিশুদের টিকা কার্যক্রম
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৫-১১ বছর বয়সী শিশুদের কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচি ১২ দিনের জন্য করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর এক দিন শুধু জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্কুলের বাইরে থাকা ৫-১১ বছর বয়সী শিশুদের ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনতে সারা দেশে একযোগে কমিউনিটি পর্যায়ে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
গতকাল করোনা টিকা ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক এই তথ্য জানান। শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ফাইজারের টিকা দেওয়া হবে। সারা দেশের সোয়া দুই কোটি শিশুর টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে এ টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে। এ টিকার দুই ডোজ আট সপ্তাহের ব্যবধানে নিতে হয়। এদিন শিশুদের স্কুলকেন্দ্রিক ভ্যাকসিনেশন শুরু হবে। পরবর্তীতে তা কমিউনিটি পর্যায়ে দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, ইতোমধ্যে সুরক্ষা ওয়েবপোর্টাল/অ্যাপের মাধ্যমে ওই বয়সসীমার শিশুদের রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে ১৭ ডিজিটের ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করতে হবে। নিবন্ধনের পর কোভিড-১৯ টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে নিকটস্থ স্কুল ভ্যাকসিনেশন সেন্টার ও পরবর্তীতে কমিউনিটি পর্যায়ে (স্কুলবহির্ভূত শিশু) নিকটস্থ কেন্দ্র হতে ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে পারবে। কোনো কারণে শিশুর সুরক্ষা নিবন্ধন সম্ভব না হলেও লাইন লিস্টিংয়ের মাধ্যমে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।
এ ছাড়া টিকা নিতে আহ্বান জানাতে মসজিদে মাইকিং করা হবে বলেও জানা গেছে। তা ছাড়া শিশুদের উপযোগী ফাইজারের আরও সাড়ে চার লাখ টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়েছে ইতোমধ্যে।