× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস আজ

অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনে শুরুতেই বড় ধাক্কা

রাজবংশী রায়

প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৩ ০৯:১২ এএম

আপডেট : ০৮ মে ২০২৩ ১০:৪৫ এএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে যে স্বপ্ন নিয়ে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনকেন্দ্রে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা শুরু হয়েছিল তাতে বড় ধাক্কা খেয়েছে। করোনা মহামারির সময় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের চিকিৎসাই বন্ধ হয়ে যায়। ওই রোগীর জন্য নির্ধারিত অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনকেন্দ্রটিতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ফলে প্রায় তিন বছরে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত কোনো রোগীর অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। 

পাঁচ মাস আগে কেন্দ্রটি আবার চালু করা হলেও দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় অনেক যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে গেছে। নতুন করে চালু হওয়ার পর অটোলোগাস পদ্ধতিতে মাত্র চারজন রোগীর অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে বলে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান ও অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনকেন্দ্রের সমন্বয়ক অধ্যাপক অখিল রঞ্জন বিশ্বাস।

তিনি বলেন, করোনা মহামারির কারণে তিন বছর অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন বন্ধ ছিল। অব্যবহৃত অবস্থায় থাকায় যন্ত্রপাতিও বিকল হয়ে পড়েছে। সেসব যন্ত্রপাতি চাইলেই মেরামত করা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দ পাওয়ার পর যন্ত্রপাতি মেরামত করা হয়। এ সময় পর্যন্ত রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এতে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন নিয়ে কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে।

অখিল রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, পাঁচ মাস আগে তিনি দায়িত্ব পেয়েছেন। এ সময়ে চারজনের অটোলোগাস পদ্ধতিতে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করেছেন। তবে অ্যালোজেনিক পদ্ধতিতে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করতে গেলে যন্ত্রপাতি মেরামতসহ সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এ পদ্ধতিতে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে না।

চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীর পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাপদ্ধতি। এই প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বা রোগাগ্রস্ত অস্থিমজ্জা রক্ত সৃষ্টিকারী স্বাস্থ্যকর স্টেম সেল দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। অস্থিমজ্জা সঠিকভাবে কাজ না করলে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর রক্তকণিকা তৈরি না হলে তখন এটির প্রয়োজন হয়। দুই পদ্ধতিতে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন হয়। একটি অটোলোগাস ট্রান্সপ্লান্ট, অর্থাৎ নিজের শরীরের কোষ দিয়ে তা প্রতিস্থাপন। অপরটি অ্যালোজেনিক ট্রান্সপ্লান্ট, দাতার শরীর থেকে কোষ নিয়ে তা রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা। এটি সর্বাধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি।

আগে দেশে রক্ত পরিসঞ্চালন এবং ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা পেতেন। এতে একজন রোগী ৩০ থেকে ৩৫ বছর বেঁচে থাকতে পারতেন। কিন্তু অ্যালোজেনিক পদ্ধতিতে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে একজন রোগী স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারবেন। দেশে ২০১৯ সালে ব্যয়বহুল এই চিকিৎসাপদ্ধতি শুরু হয়েছিল। কিন্তু একজন রোগীর অস্ত্রোপচারের পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে ২০১৪ সালের মার্চ মাসে এ হাসপাতালে অটোলোগাস পদ্ধতিতে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন শুরু হয়। এই কেন্দ্রে এ পর্যন্ত ৫২ জন রোগীর অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।

অস্ত্রোপচার বন্ধের কারণ সম্পর্কে ঢামেক হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক এমএ খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এই চিকিৎসা নিতে একজন রোগীর ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। অন্যান্য দেশে ৪০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। অথচ ঢামেক হাসপাতালে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। কারণ ঢামেক হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গিয়ে অন্যান্য বিভাগের মতো অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন ইউনিটও ছেড়ে দিতে হয়েছে। তিন বছর পর যখন ইউনিটটি ফেরত পাওয়া যায়, তখন যন্ত্রপাতির অধিকাংশ বিকল হয়ে পড়েছে। এতে চিকিৎসা কার্যক্রম হোঁচট খায়। এসব যন্ত্রপাতির কোনোটি মেরামত করতে হবে, আবার কোনোটি নতুন করে কিনতে হবে। অন্যথায় চিকিৎসা কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু করা যাবে না। 

এ অবস্থায় আজ ৮ মে পালিত হচ্ছে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সচেতনতা, শেয়ার, যত্ন : থ্যালাসেমিয়ায় যত্নের ফাঁক পূরণে শিক্ষাকে শক্তিশালী করা’। দিবসটি উপলক্ষে আজ সোমবার থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন, থ্যালাসেমিয়া সমিতিসহ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা, শোভাযাত্রাসহ নানা কর্মসূচি পালন করবে।

থ্যালাসেমিয়া যেভাবে ছড়ায় : থ্যালাসেমিয়া একটি রক্তস্বল্পতাজনিত মারাত্মক বংশগত রোগ। মা-বাবা উভয়ে থ্যালাসেমিয়ার জিন বহন করলে জন্মের সময়ই সন্তানের এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সন্তান জন্মদানের এক থেকে দুই বছর পর এ রোগের উপসর্গ হিসেবে প্রচণ্ড রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। এ রোগে আক্রান্তদের নিয়মিত রক্ত না দিলে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। তাই নিয়মিত রক্ত সরবরাহ করা ছাড়া এ রোগে আক্রান্তদের বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে পুরোপুরি সুস্থ থাকতে পারে আক্রান্ত ব্যক্তি। 

দেশের পরিস্থিতি: বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির এক জরিপে বলা হয়েছে, দেশের শতকরা ১০ থেকে ১২ ভাগ মানুষ থ্যালাসেমিয়া রোগের জিন বহন করছে। এ হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রায় দেড় কোটিরও বেশি মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক। প্রতিবছর আরও ১২ থেকে ১৫ হাজার শিশু প্রাণঘাতী এই রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে। থ্যালাসেমিয়া সমিতি বলছে, প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত রোগী সমিতির আওতায় রয়েছে। এসব রোগীর জন্য বছরে ২ লাখ ব্যাগের বেশি রক্তের প্রয়োজন। কিন্তু তারা ৪৫ থেকে ৫০ হাজার ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করতে পারছে। সারা দেশে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য প্রায় ৯ লাখ ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন। কিন্তু ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। দেশের ব্লাডব্যাংকগুলোতে সংগৃহীত রক্তের ৬০ ভাগই ব্যয় হয় থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীর পেছনে।

শিশু রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক আমিরুল মোর্শেদ খসরু বলেন, বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করে বাহক নির্ধারণ করা গেলে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু পরীক্ষায় থ্যালাসেমিয়া শনাক্ত হলেও বাহক বা তার স্বজন তা গোপন করে রাখছেন। কিন্তু সন্তান জন্মদানের পর তার থ্যালাসেমিয়া শনাক্ত হচ্ছে। এভাবে রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু ইরান ম্যারেজ নিবন্ধন মিডিয়ার মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া বাহকের সঙ্গে বিয়ে বন্ধ করে রোগটি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে। যেহেতু সবার রক্ত পরীক্ষা করা ব্যয়বহুল, তাই ইরানের পদ্ধতি ব্যবহার করে থ্যালাসেমিয়া রোগী কমিয়ে আনার উদ্যোগটি গ্রহণ করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি। 

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, করোনার কারণে সব চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটেছে। কিন্তু করোনা কমে আসার পর কয়েক মাস ধরে আবারও স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান আছে। আবার বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছাড়া আমদানিও বন্ধ আছে। সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়েই সংকট আছে। এরপরও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী আমদানিতে কোনো বাধা নেই। সংশ্লিষ্টরা মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরে জানালে প্রয়োজনীয় সামগ্রীর বিষয়ে অবশ্যই উদ্যোগ নেওয়া হবে।  

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা