প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৩ ২৩:৫৬ পিএম
আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৩ ০০:৪৫ এএম
আপনার ঘরের কলের পানি কি পান করা নিরাপদ? অনেকেই হয়তো হ্যাঁ উত্তরের পক্ষে দ্রুত মত দেবেন। তবে অনেকের কপালে পড়বে চিন্তার ভাঁজ।
নিরাপদ পানি পাওয়ার ন্যায্যতাকে মানবাধিকার হিসেবে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, তারপরও বিশ্বের জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি মানুষ পানি-সংকটে ভুগছে এবং একই সংখ্যক মানুষ পান করছে মল দ্বারা দূষিত পানি।
এ অবস্থা ডায়রিয়া, কলেরাসহ পানিবাহিত নানা রোগ আক্রান্ত করছে মানুষকে। দ্য ওয়ার্ল্ড কাউন্টস অনুসারে, যেকোনো সময় বিশ্বের হাসপাতালের শয্যার অর্ধেক অনিরাপদ পানি পানে আক্রান্ত রোগীদের দখলে থাকে।
পৃথিবীর কোন দেশের কলের পানি পান করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিপজ্জনক?
সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) নির্দেশিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসূচক থেকে এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। ২০২৩ সালের জানুয়ারির ডেটা অনুসারে প্রকাশিত তালিকায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কলের পানি পান করা নিরাপদ নয়।
তালিকার সব দেশকে শূন্য থেকে ১০০ পর্যন্ত মান দিয়ে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। ১০০ মান অত্যন্ত নিরাপদ পানীয় জল নির্দেশ করে এবং শূন্য মান সবচেয়ে অনিরাপদ পানীয় জল নির্দেশ করে। এই হিসাবে বাংলাদেশ পেয়েছে ২৬ দশমিক ৯০।
দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ শুধু নেপাল (২৫ দশমিক ৯০), ভারত (১৮ দশমিক ৩০) ও পাকিস্তান (১৫ দশমিক ৩০)-এর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এই অঞ্চলে শ্রীলঙ্কা ৪৬ দশমিক ৭০, মালদ্বীপ ৪১ দশমিক ২, ভুটান ৩১ দশমিক ৫ ও আফগানিস্তান ২৭ দশমিক ৮০ পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের অন্যতম বৃহৎ স্বাধীন টয়লেট্রিজ সামগ্রীর পাইকারি বিক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতা কিউএস সাপ্লাইস ইপিআই ও সিডিসির তথ্য ব্যবহার করে ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশনের মাধ্যমে পরিস্থিতি তীব্রতার এই চিত্র তুলে ধরেছে।
ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশনের কেন্দ্রে ১০০-রেটেড দেশগুলোর বেশিরভাগই ইউরোপীয় দেশ এবং সর্বনিম্ন রেটিং পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে অধিকাংশ আফ্রিকার।
সিডিসি ২০০টি দেশের মধ্যে শুধুমাত্র ৫০টি দেশের পানিকে পানযোগ্য ট্যাপ ওয়াটার হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
ট্যাপের পানির সুরক্ষায় সিডিসির পরামর্শ অনুসারে, দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশেই পানযোগ্য ট্যাপের পানির সরবরাহ নেই।