আইসিডিডিআর'বির গবেষণা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ ২২:২৬ পিএম
নবজাতক মায়ের কাছ থেকে নিপাহ ভাইরাসের হিউমোরাল এন্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পায়। প্রথমবারের মতো নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তি থেকে অন্যজনে সম্ভাব্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়ার নজির এটি।
সম্প্রতি আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানী এবং সহযোগীদের একটি নতুন গবেষণা ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস জার্নালে প্রকাশ হয়েছে। তাতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ফরিদপুর জেলায় পাঁচ বছরের কম বয়শি শিশুকন্যা ও তার মা নিপাহ ভাইরাসে সংক্রমিত হন। দুজনেই খেজুরের কাঁচা রস পান করেছিলেন। শিশুটি মারা যায়। মা বেঁচে গেলেও তিনি গুরুতর স্নায়ুবিক জটিলতায় ভোগেন। পরের বছর নভেম্বরে ওই নারী আবার গর্ভধারণ করেন এবং তিনি সন্তান প্রসবের আগে জাতীয় নিপাহ সার্ভেইল্যান্স কর্তৃপক্ষের নিবিড় তত্ত্বাবধানে সেবা নেন। ওই বছরের আগস্টে তিনি একটি সুস্থ ছেলে শিশুর জন্ম দেন। তখন নবজাতকের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং ভার্টিকেল ট্রান্সমিশন বা মা থেকে শিশুতে সংক্রমণের সম্ভাবনা বাদ দেওয়ার জন্য রেফারেন্স ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। যদিও পরীক্ষা করে র্যাপিড ও পিসিআর টেস্টে নিপাহ সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু অ্যান্টি-নিপাহ আইজিজির একটি উচ্চ টাইটার দেখতে পাওয়া যায়। এভাবেই প্রথমবারের মতো নিশ্চিত হওয়া যায়Ñ মা থেকে সন্তানের মধ্যে নিপাহ ভাইরাসের হিউমোরাল এন্টিবডি তৈরি হয়।
গবেষক দলের প্রধান আইসিডিডিআর,বির সংক্রামক রোগ বিভাগের ইমার্জিং ইনফেকশন্স শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট এবং ডেপুটি প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর ড. সৈয়দ মইনুদ্দীন সাত্তার জানান, এ গবেষণায় প্রথম নিপাহ ভাইরাসভিত্তিক ইমিউন প্রপার্টিজের ভার্টিকেল ট্রান্সফার বা মা থেকে শিশুতে পরিবাহিত হওয়ার প্রমাণ নিশ্চিত করে। ভাইরাস নিউট্রিলাইজেশনের কার্যকারিতা এবং নবজাতকের সুরক্ষার সম্ভাব্যতার বিষয়ে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন। এটি নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে গর্ভবতী ও কম বয়সি নারীদের জন্য টিকা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন বলেন, মানুষের মধ্যে আবারও খেজুরের কাঁচা রস খাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এটি যে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে, তা না জেনেই মানুষ খেজুরের কাঁচা রস পান করছে। সবার প্রতি আহ্বান থাকবেÑ খেজুরের কাঁচা রস পান থেকে বিরত থাকুন।
আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০০১ সালে প্রথম নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তখন থেকে প্রায় প্রতি বছরই এ ভাইরাসের সংক্রমণে মানুষ মারা যাচ্ছে। এ পর্যন্ত দেশে ৩৩১ জন মানুষ নিপাহ ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ২৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।