প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:৩৬ পিএম
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:১৫ পিএম
ফাইল ফটো
দেশের ৫৯ শতাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন নেই। আবার থাকলেও তা বিকল পড়ে আছে অনেক জায়গায়। রক্ত পরিসঞ্চালন হয় না ৪১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে। এমনকি ৬৩ শতাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার পদ শূন্য। ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পাবলিক হেলথ ও ইনফরমেটিকস বিভাগের গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) বিকালে বিএসএমএমইউতে গবেষণার এ ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
গবেষণায় ৯টি জেলা হাসপাতাল ও ১৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করেন গবেষক দলের প্রধান এবং বিএসএমএমইউর পাবলিক হেলথ ও ইনফরমেটিকস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. খালেকুজ্জামান।
তিনি বলেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর বড় অংশ স্বাস্থ্যসেবার জন্য জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। এসব প্রতিষ্ঠানে সেবা দেওয়ার সময় চিকিৎসকরা বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন, যা চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দেখা দেয়।
গবেষণায় বলা হয়, ১১ শতাংশ জেলা হাসপাতালে এক্স-রে ও ইসিজি হয় না, আর ৭৩ শতাংশ উপজেলা হাসপাতালে ইসিজি হয় না। একটি জেলা হাসপাতালেও চিকিৎসকদের ব্যবহার-উপযোগী ডরমিটরি নেই। হাসপাতালগুলোয় বিভিন্ন ধরনের পদে জনবল না থাকার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, এ কারণে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।
একই সঙ্গে অবকাঠামোগত সমস্যাও আছে অনেক। সেবাকক্ষ প্রয়োজনের তুলনায় কম, আয়তনে ছোট, পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ। অপরিচ্ছন্ন টয়লেটের পাশাপাশি নিরাপদ পানির অভাব রয়েছে। তা ছাড়া রাজনৈতিক নেতাদের অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কিছু গণমাধ্যমকর্মীর অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ চিকিৎসকদের সেবাদানে বাধা সৃষ্টি করে। গবেষকদের পক্ষ থেকে বেশকিছু সুপারিশও করা হয়। এর মধ্যে সব ধরনের শূন্যপদ পূরণ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ অন্যতম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, এসব হাসপাতালে অর্ধেকের কম মেশিন কার্যকর। এ কারণে হাসপাতালে আসা রোগীদের সব পরীক্ষা বাইরে করতে হয়। এর দায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা ও সিভিল সার্জনদের।
সারা দেশে সরকারি হাসপাতালগুলোয় প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক অনেক কম উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেন, হাসপাতালে রাজনৈতিক প্রেশার থাকবে না, এমন সামাজিক অবস্থা রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। হাসপাতালের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ধীরে ধীরে সব হাসপাতালেই নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করা হবে।
চিকিৎসকদের পদোন্নতির বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের পদায়ন, পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণ নিয়ে যে জটিলতা ছিল তা কেটে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে এ জটিলতা দূর করা হয়েছে। আগামী দিনগুলোয় পদোন্নতি দ্রুত হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক টিটো মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।