সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে মঙ্গলবার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নারী স্বাস্থ্য ও ক্যান্সার প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ এবং তরুণ চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক উচ্চতর প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
তিনি বলেছেন, “নারী স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”।
সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘হার হেলথ বাংলাদেশ: নারীদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ ত্বরান্বিতকরণ- জাতীয় মাতৃস্বাস্থ্য এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার কর্মসূচি শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে মঙ্গলবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে এবং ইউএনএফপিএর সহযোগিতায় এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়া হায়দার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “নারী স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর করতে কর্মসূচির আওতায় একটি দ্বিমুখী ডিজিটাল স্বাস্থ্য অ্যাপ চালু করা প্রয়োজন। এর একটি অংশ রোগীরা এবং অন্যটি স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্যবহার করবেন। এতে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ সহজ হবে। পাশাপাশি রোগীরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ফলো-আপের রিমাইন্ডার এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক তথ্য সরাসরি অ্যাপের মাধ্যমে পাবেন”।
তিনি আরও বলেন, “মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের স্তন ক্যান্সার ও ফিস্টুলা স্ক্রিনিং বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে”।
একই সঙ্গে তরুণ সার্জনদের সার্জিক্যাল প্রশিক্ষণ এবং চিকিৎসকদের ক্যান্সার থেরাপিতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশি তরুণ চিকিৎসকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ চালুরও তাগিদ দেন তিনি।
সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়া হায়দার বলেন, “তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বিদ্যমান তিন ধরনের ফ্রন্টলাইন কর্মীকে একীভূত করে ‘কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার’ নামে একটি সমন্বিত বাহিনী গঠন করা হচ্ছে”।
নতুন এক লাখ কর্মীসহ দেশে মোট এক লাখ ৪০ হাজারের বেশি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী প্রতি দুই মাসে অন্তত একবার প্রতিটি পরিবার পরিদর্শন করবেন এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিংসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবেন বলে জানান তিনি।
সেমিনারে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) শাহ ইমাম আলী রেজা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন ক্যামকং, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীমসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।