ঝিনাইদহ
অরিত্র কুণ্ডু, ঝিনাইদহ
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে
ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন কার্যালয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঝিনাইদহে নিবন্ধন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে ১৯৮টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। স্বাস্থ্য বিভাগের নীতিমালা না মেনেই বছরের পর বছর ধরে এসব প্রতিষ্ঠানে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন রোগীরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে বাড়ছে ভুল চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহ জেলায় ২২৮টি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে নিবন্ধিত রয়েছে মাত্র ৩০টি। অর্থাৎ জেলার ৮৬.৮৪ শতাংশ ক্লিনিক-ডায়গনস্টিক সেন্টারই নিবন্ধনহীন। এসব প্রতিষ্ঠানের নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স। বছরের পর বছর ধরে এভাবেই প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই বছরে চিকিৎসকের অবহেলাজনিত কারণে জেলার ছয়টি উপজেলায় মোট ১৯ জন প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে দায়িত্বরতরা যথাযথ মনিটরিং না করায় মালিকরা তাদের ইচ্ছেমতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা আবার বিভিন্ন ক্লিনিকের ব্যবসায়িক অংশীদার। ফলে তারা অনেক সময় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। রোগমুক্তির আশায় রোগী ও তাদের স্বজনদের ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা।
কোনো কোনো ক্লিনিক আবার নিজস্ব দালাল দিয়ে রোগী জোগাড় করে। দালালরা রোগীর কাছ থেকে আদায় করা অর্থের কমিশন পেয়ে থাকে ওই সকল প্রতিষ্ঠান থেকে। এসব ক্লিনিকগুলোতে প্রতিদিন আকারভেদে রুম নন-এসি রুম ভাড়া ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা। এসি রুম ১ হাজার ৫০০ থেকে টাকা ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
ঝিনাইদহ জেলা প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুন্সি আবু জাফর বলেন, “নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুমোদনহীন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। সম্প্রতি অনুমোদনহীন ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা সিভিল সার্জন অফিসকে দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে”।
তিনি বলেন, “জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে এ বিষয়ে আমরা বার বার অবগত করলেও এখন পর্যন্ত তারা দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ কারণে রোগীরা ওই সকল প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নিয়মিত প্রতারিত হচ্ছে। আমরা শিগগিরই আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অনুমোদনহীন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করবো”।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, “অনিবন্ধিত ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিষয়ে আমরা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কয়েকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বেশকিছু প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে”।
অনিবন্ধিত ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। জেলা উপজেলা পর্যায়ে থাকা দেড় শতাধিক ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।