স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) আয়োজিত ‘আলো ক্লিনিক’ মডেল বিষয়ক জাতীয় ডিসেমিনেশন কর্মশালায় বৃহস্পতিবার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নগর এলাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করতে ‘আলো ক্লিনিক’ মডেল সম্প্রসারণের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছে সরকার। সুবিধাবঞ্চিত নগর জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ মডেল কার্যকর প্রমাণিত হওয়ায় এর সম্প্রসারণের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) আয়োজিত ‘আলো ক্লিনিক’ মডেল বিষয়ক জাতীয় ডিসেমিনেশন কর্মশালায় বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, ২০২১ সাল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে পরিচালিত ছয়টি আলো ক্লিনিকে জাতীয় ইসেন্সিয়াল সার্ভিস প্যাকেজের আওতায় বিনামূল্যে সমন্বিত ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।
আলো ক্লিনিকে মাতৃ, নবজাতক ও শিশুসেবা, টিকাদান, পুষ্টি স্ক্রিনিং, রোগনির্ণয় ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়। প্রতিদিন গড়ে ১৬৮ জন রোগী এসব সেবা গ্রহণ করেন। কমিউনিটি আউটরিচ ও ডিজিটাল গৃহভিত্তিক পরিদর্শনের মাধ্যমে গর্ভবতী নারী শনাক্তকরণ, শিশুদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে পরিবারকে সংযুক্ত করা হয়। চারটি ক্লিনিকে ২৪ ঘণ্টা ধাত্রী-নেতৃত্বাধীন নরমাল ডেলিভারি সেন্টার চালু রয়েছে, যেখানে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি নিরাপদ প্রসবসেবা দেওয়া হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সহজপ্রাপ্য, জবাবদিহিমূলক ও জনগণমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য”।
নগরায়ণের ফলে ভাসমান ও নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আলো ক্লিনিক একটি অনুকরণীয় উদ্যোগ”।
মন্ত্রী জানান, আগামী সপ্তাহের মধ্যে তিনি নিজে একটি আলো ক্লিনিক পরিদর্শন করবেন এবং সেখানকার অভিজ্ঞতা সিটি করপোরেশন থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আসা ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান এমন পর্যায়ে উন্নীত করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সেখানে আস্থা নিয়ে চিকিৎসা নিতে পারেন। পাশাপাশি উপজেলা, জেলা হাসপাতাল ও জেলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু এবং দুর্গম এলাকার রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছাতে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে”।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, বাংলাদেশে ইউনিসেফের ডেপুটি প্রতিনিধি অ্যামানুয়েল অ্যাব্রোক্স, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মালালাই আহমেদজাই, বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।