× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাংবাদিক কর্মশালায় বক্তারা

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্ব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রকে দিতে হবে

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৫ ঘণ্টা আগে

ঢাকার বিএমএ ভবনে বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে “বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়” শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ঢাকার বিএমএ ভবনে বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে “বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়” শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্ব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিলে শতভাগ তথ্য নিবন্ধন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।

ঢাকার বিএমএ ভবনে বুধবার অনুষ্ঠিত “বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়” শীর্ষক এক সাংবাদিক কর্মশালায় এসব বিষয় তুলে ধরেন বক্তারা।

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এই কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ার ৩০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় বক্তারা  বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শতভাগ জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ শতভাগ লক্ষ্য অর্জন করলেও বাংলাদেশ, পাকিস্তানের মতো দেশগুলো করেছে মাত্রা ৫০ শতাংশ। সেখানে তাদেরকে ২০২৪ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করতে দায়িত্বটি স্থানীয় সরকারের হাত থেকে স্বাস্থ্যসেবার কাছে হস্তান্তর করা দরকার। 

বক্তারা বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উত্তরাধিকার এবং ভোটাধিকারের মতো মৌলিক নাগরিক অধিকারসমূহ নিশ্চিত করতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন অপরিহার্য। রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, সুশাসন এবং বাজেট প্রণয়নেও নিবন্ধন তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন হার যথাক্রমে ৫০% ও ৪৭%, যা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক গড় হারের তুলনায় অনেক কম। অথচ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার শতভাগে উন্নীত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪’ সংশোধন করে নিবন্ধনের আইনি দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হলে এই লক্ষ্য অর্জন দ্রুততর হবে। একই সঙ্গে এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ১৬.৯ অনুযায়ী সবার জন্য বৈধ পরিচয়পত্র নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে ত্বরান্বিত করবে।

কর্মশালায় উল্লেখ করা হয়, বর্তমান আইনে জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য দেওয়ার মূল দায়িত্ব কেবল পরিবারের, স্বাস্থ্য বিভাগের নয়। তবে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে জন্ম নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়া হলে এগুলোর আওতায় জন্ম নেওয়া দেশের প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশুকে সহজেই নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বহু দেশ এই পদ্ধতি অনুসরণ করেই শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্য পূরণ করেছে।

ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আইন শক্তিশালীকরণের পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে জনবল সংকট, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং আন্তঃখাত সমন্বয়হীনতা দূর করা বিশেষভাবে জরুরি।

নজরুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কোন টানাপোড়েন নেই। ১৮৭৩ সালে সর্বপ্রথম কাজ শুরু হয়েছিল। ঢাকায় জন্মনিবন্ধন ১০-২০ ও গ্রামে ৬০ শতাংশ। জন্ম নিয়ে জালিয়াতি হয় না, বয়স নিতে হতে পারে। 

জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, শতভাগ নিবন্ধন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে আইনগতভাবে নিবন্ধনের দায়িত্ব প্রদানের কোন বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, নাম না থাকলেও শুধু ক্রমিক নং দিয়ে নিবন্ধন করা যাবে। 

নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, আইনগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সংশোধনীতে কাজ করতে হবে। সরকার যাতে বিষয়টিতে যথাযথ মনোযোগ দেয়। 

ডেইলি টাইমস অফ বাংলাদেশ এর হেড অফ অনলাইন (বাংলা) মো. মনির হোসেন লিটন বলেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়ার দুর্বলতা ও জনভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ করতে হবে, যা নীতি পরিবর্তনে ইতিবাচক চাপ তৈরি করবে।

তিনি বলেন, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের কাজ স্থানীয় সরকার দিতে চায় কিনা। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটি নেবে কিনা। আর নিলেই কী উপকার হবে। তিনি বলেন, মামলাজট কমাতে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন সহজ করতে হবে। 

কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞা’র কোঅর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা