প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:১৩ পিএম
আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫৭ পিএম
শুধু বাহ্যিক নয়, আসল কারণ জেনে চিকিৎসা করা উচিত রোগের। এমন দর্শন থেকেই সেবা দিয়ে থাকেন ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন। ছবি: রিজুভা ওয়েলনেস
‘আমি রেজওয়ানা সুলতানা লাজ, মিস পিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-২০২৭। রিজুভা ওয়েলনেসের সাথে আমার পরিচয় মিস এমপাওয়ার্ড কুইন বাংলাদেশ-২০২৫ থেকে।
‘সেখানে একটি সেশন ছিল স্কিন কেয়ারের ওপর। এখানকার ফাউন্ডার ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন ম্যাম খুবই যত্নের সঙ্গে আমার স্কিনকে পরীক্ষা করেন এবং একটি প্রেসক্রিপশন প্রদান করেন।’

রিজুভা ওয়েলনেসে নিজের অভিজ্ঞতা জানাচ্ছিলেন রেজওয়ানা সুলতানা লাজ, যিনি সেবা নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটি থেকে। তার মতো অনেক সেলিব্রেটির আস্থার ঠিকানা রিজুভা ওয়েলনেস, যেখানে স্বযত্ন, মানসিক সুস্থতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ—তিনটি বিষয়ের চর্চা হয় একই সঙ্গে। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা চিকিৎসক দম্পতি। তাদের মধ্যে ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন ফাউন্ডার ওয়েলনেস কনসাল্যান্ট এবং তার তার স্বামী ডা. বি এ সাদিক প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান।
বাহ্যিক নয়, প্রকৃত কারণ জেনে চিকিৎসা
শুধু বাহ্যিক নয়, আসল কারণ জেনে চিকিৎসা করা উচিত রোগের। এমন দর্শন থেকেই সেবা দিয়ে থাকেন ডা. ইরিন। তার মতে, রোগের কারণ না জানলে চিকিৎসা এত সহজ হয় না।
এ চিকিৎসক জানান, সেবাগ্রহীতাদের জন্য রুটিন করে দেন তিনি। সে রুটিন হয় ত্বক ও চুলের ধরন অনুযায়ী। এ ছাড়া সেবাগ্রহীদের যেসব ওষুধ দেওয়া হয়, সেগুলো ত্বককে রাখে উজ্জ্বল ও লাবণ্যময়। সেই সঙ্গে যদি কোনো উদ্বেগ থাকে, সেগুলো সংশোধনের চেষ্টা করা হয়। সেবাগ্রহীতা রেজওয়ানা সুলতানা লাজ বলেন, রেজুভা ওয়েলনেস একটি বিশ্বাসযোগ্য, প্রফেশনাল স্পেস, যেখানে আপনার ত্বকের যত্ন গুরুত্ব পায়।’

আরেক সেবাগ্রহীতা ড. নিলুফার ইসলাম, যিনি Miss Bangladesh in Training-এমবিআইটির প্রতিষ্ঠাতা। নিলুফার বলেন, ‘আমাদের এই অলাভজনক সংগঠনে ড. তৌহিদা রহমান ইরিন ডিরেক্টর হিসেবে যুক্ত হতে সম্মতি দেওয়ায় আমি সত্যিই সম্মানিত ও গর্বিত। এমবিআইটির মাধ্যমে আমরা শিশু, নারী ও তরুণদের জন্য নারী স্বযত্ন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে থাকি। এই যাত্রায় ড. ইরিনের মতো একজন মানুষকে ডিরেক্টের হিসেবে পাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের, যিনি নিজেও স্বযত্নচর্চার বিষয়ে গভীরভাবে সচেতন এবং সেই সচেতনতা অন্যদের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে সমানভাবে নিবেদিত।’
নিলুফার আরও বলেন, ‘স্বযত্ন, মানসিক সুস্থতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ—এই তিনটি ক্ষেত্রেই ড. ইরিনের আগ্রহ ও নিষ্ঠা এমবিআইটির লক্ষ্য ও দর্শনের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁর নেতৃত্ব, মানবিকতা ও অভিজ্ঞতা আমাদের উদ্যোগগুলোকে আরও শক্তিশালী ও অর্থবহ করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’
‘একটু যত্ন বদলে দিতে পারে জীবন’
ডা. ইরিন মনে করেন, ‘অনেক সময় আমরা ভাবি, নিজের জন্য সময় কোথায়? কিন্তু আপনি কি জানেন, শত ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য একটু সময়, নিজেকে ভালোবাসা, একটু যত্ন বদলে দিতে পারে আপনার পুরো জীবন।
‘সেলফ কেয়ার রিচুয়াল, অ্যাডভান্সড অ্যাস্থেটিক ট্রিটমেন্ট এ সকল কিছুকে আমি দেখি ওয়েলনেস হিসেবে…ওয়েলনেস হলো মিনিংফুল, কনশাস লাইফস্টাইল চয়েস।’
চিকিৎসা পদ্ধতি
প্রতিটি মানুষ আলাদা। তাই প্রত্যেকের ত্বকের যত্নের পদ্ধতিও হওয়া উচিত আলাদা। নিজ প্রয়োজনেই একজন মানুষকে শারীরিকভাবে ফিট থাকার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস থরে রাখতে হয়।
এ বিষয়ে ডা. ইরিন বলেন, ‘আমার কাছে আমার প্যাশেন্টস, ক্লায়েন্টস, অডিয়েন্স, ফ্রেন্ডস, ফ্যামিলি, তারা তাদের স্কিন, হেয়ারের সমস্যা ছাড়াও তাদের পারসোনাল কনসার্ন নিয়েও আসে। তখন আমার গোল থাকে তাদের কসমেটিক আউটকাম এবং অ্যাপিয়ারেন্স শুধু না, সেই সাথে তাদের ওয়েলনেস জার্নিতে নিজেকে ফিট, কমফোর্টেবল এবং কনফিডেন্ট ফিল করানো।’
নিজের প্রতি যত্নশীল হলে আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়ে, তেমনই জীবনের চলার পথও হয়ে ওঠে সহজ—এমনটাই মনে করেন ডা. ইরিন।
নিজেকে সুন্দর রাখতে শুধু প্রসাধনীর ব্যবহারই যথেষ্ট নয়; বরং সঠিক রুটিন অনুসরণ করা জরুরি বলে মনে করেন ইরিন।
দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চিকিৎসা ও পদ্ধতিতেও আসছে পরিবর্তন। রোগীদের এর সঙ্গে পরিচিত করাতে নিজেকেও হতে হয় আপডেটেড। এ কারণে নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সেমিনারে অংশ নেন ডা. ইরিন।

উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে প্রায় এক দশক দেশের বাইরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন ইরিন। এরপর ফিরে আসেন দেশে। ফিরে এসে স্বামী ডা. বি. এ. সাদিকের সহযোগিতায় গড়ে তোলেন ‘রিজুভা ওয়েলনেস’। এ কাজে তাদের সহায়তা করেন পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও স্বজনরা, যাদের প্রতি কৃতজ্ঞ এ দম্পতি।
যেসব জায়গায় মিলবে সেবা
রাজধানীর কয়েকটি জায়গায় পাওয়া যাবে রিজুভা ওয়েলনেসের সেবা। গুলশান ১ নম্বরে ইমপ্রেস প্লাজা সেন্টারটি অবস্থিত ৪৪ গুলশান অ্যাভিনিউতে। জব্বার টাওয়ারের পাশের ভবনটির চতুর্থ তলায় পাবেন রিজুভা ওয়েলনেসকে।
মিরপুর ডিওএইচএস শপিং কমপ্লেক্সের
চতুর্থ তলায় গিয়ে নেওয়া যাবে প্রতিষ্ঠানটির সেবা। এর বাইরে আদাবরের ১/১ রিং রোডে অবস্থিত এসকেএস টাওয়ারের গ্রাউন্ড ফ্লোরে গিয়ে নিতে পারবেন রিজুভা ওয়েলনেসের সেবা।
দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞতা
ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন এ চিকিৎসক।
তিনি ডার্মাটোলজি ও ডার্মাটো সার্জারি বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য থাইল্যান্ডে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে মেডিক্যাল বিজ্ঞানে ভর্তি হন। সেখানে সফলতার সঙ্গে কৃতকার্য হন। ডা. ইরিন অস্ট্রেলিয়া থেকে রিজেনারেটিভ মেডিসিনের ওপর বিশেষ ডিগ্রি গ্রহণ করেছেন।
বাংলাদেশে প্রথম বিভিন্ন ধরনের বিউটি ক্যাম্পেইন এবং ত্বকের সৌন্দর্য ও সুস্বাস্থ্য ধরে রাখার বিষয়ে ব্যাপক কাজ করেছেন ডা. ইরিন। এ চিকিৎসক রিজেনারেটিভ মেডিসিনের মাধ্যমে স্টেম সেল এবং পিএ পিআরপি থেরাপি প্রক্রিয়ায় বয়স ধরে রাখা, ত্বক ও চুলের যত্নের এক অভিনব চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তিনিই বাংলাদেশে প্রথম ইন্ট্রাভেনাস নিউট্রিশনাল থেরাপি নিয়ে আসেন চিকিৎসা ব্যবস্থায়।

কাজের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরিনের ডাক পড়ে। ফ্রান্স, ইতালি, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াতে সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। নিয়মিতই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেমিনারে আমন্ত্রণ পান। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, স্বনামধন্য ম্যাগাজিনে নিয়মিত স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ে লিখে ও স্বাস্থ্যবিষয়ক টকশোতে অংশগ্রহণ করে ইতোমধ্যে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
নিজের বিভিন্নধারার কাজ সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইরিন বলেন, 'আমাদের দেশের অনেকগুলো পেজেন্টের উইনার, অংশগ্রহণকারী এবং মডেলদের গ্রুমিং করেছি এবং সেই সাথে অংশগ্রহণ করেছি জাজ ও মেন্টর হিসেবে মিসেস ইন্ডিয়া, মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ, মিসেস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ, মিসেস ইউনিভার্স বাংলাদেশ, মিস পাতায়া, থাইল্যান্ড। তাদের গ্রুমিং করার পর যারা উইনার হয় তারা তো একটা এচিভমেন্ট নিয়ে আসেই আর যারা পার্টিসিপেন্ট থাকে তারাও বেশ কনফিডেন্ট থাকে।' এ চিকিৎসক পরিচালক হিসেবে ছিলেন মিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, মিস টিন বাংলাদেশে।
শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ
ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন সপ্তাহের একটা দিন বাংলাদেশে তার সব শিক্ষার্থীকে ফ্রি কাউন্সেলিং করেন অনলাইন ও অফলাইনে। তিনি মনে করেন যে, টিএনএজ থেকেই যদি ত্বকের যত্নটা ঠিকমতো নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তারা সুস্থ থাকবে শারীরিক ও মানসিকভাবে।

ডা. তাওহীদা অনেক দিন ধরে লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত আছেন এবং বিভিন্ন জায়গায় অ্যাওয়ারনেসের প্রোগ্রাম করে সবাইকে উৎসাহিত করেন। তিনি সাংবাদিকদেরও সেলফ কেয়ার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেন। সেলফ কেয়ার রিচুয়াল সম্পর্কে তাদেরকে গ্রুমিং করেন। এ কারণে সাংবাদিকদের কাছেও ডা. তাওহীদা রহমান জনপ্রিয় মুখ।
প্রাকৃতিক সমাধানে বিশ্বাসী
ডা. তাওহীদা রহমান বোটক্স, ফিলার, থ্রেড, লেজারের মতো আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে থাকেন, তবে তার একটি অভিমত হলো যেকোনো চিকিৎসা পদ্ধতির ফলটা যেন প্রাকৃতিক হয়।
তার মতে, ‘কখনও আমি ওভারডো, ওভারফিলিং, আনন্যাচারাল রেজাল্টে বিশ্বাসী না। সে কারণে প্যাশেন্টরা আমার এ ধরনের ন্যাচারাল ট্রান্সফরমেশনে সন্তুষ্ট।’
ডা. তাওহীদার এ চিকিৎসা দর্শনই অনেকের কাছে নির্ভরযোগ্য করে তুলেছে তাকে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে মানুষ সুস্থ ও সুন্দর থাকুক, এমনটাই প্রত্যাশা এ চিকিৎসকের।